প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উখিয়ায় ৩ সহস্রাধিক রোহিঙ্গার নতুন আশ্রয়

শ.ম.গফুর, উখিয়া (কক্সবাজার) : কক্সবাজারের উখিয়ায় ৩১শ রোহিঙ্গা শুক্রবার সকাল থেকে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সহযোগিতায় এসব রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে ঢুকতে সক্ষম হলেও এখনো তাদের আশ্রয় মেলেনি। তবে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এসব রোহিঙ্গা খাদ্য,চিকিৎসাসহ যাবতীয় মানবিক সাহায্য সহযোগিতা করছে।

সেনা সূত্রে জানা গেছে, সদ্য আসা ৩১’শ রোহিঙ্গার বায়োমেট্টিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যাতে এসব রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়তে না পারে।পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা গত সোমবার রাতে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের দেয়া কাটাতাঁরের বেড়া সংলগ্ন মেদি এলাকায় খোলা আকাশের নিচে জড়ো হয়ে অবস্থান করছিল।

অভূক্ত এসব রোহিঙ্গারা খাদ্য,ওষুধ ও থাকার জায়গা না পাওয়া অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা গেছে। এপারে বিজিবি’র কড়া প্রহরা উপেক্ষা করে রোহিঙ্গারা ভিতরে ঢুকতে না পারায় সেখানে তাদের ২ দিন ২ রাত অবস্থান করতে হয়েছে।

বুধবার রাতে জড়ো হওয়া এসব রোহিঙ্গারা জীবন বাঁজি রেখে নাফ-নদী সাতরিয়ে আঞ্জুমানপাড়া পাড়া নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গুট গুটে অন্ধকারে উক্ত রোহিঙ্গারা ঝুঁকি নিয়ে নাফ-নদী পার হওয়ার ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় বিজিবি’র সদস্য তাদের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসে।

রোহিঙ্গারা যাতে নো ম্যানস ল্যান্ডের মধ্য থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে না পারে সে জন্য বৃহস্পতিবার সারাদিন রোহিঙ্গাদের নখদর্পনে রেখেছে বিজিবি’র সদস্যরা। এসময় রোহিঙ্গারা চিংড়ি ঘেরে বেড়িবাঁধের উপরে আনাচে-কানাচে শুকনা জায়গায় আশ্রয় নিয়ে দিন কাটিয়েছে।

বিভিন্ন এনজিও সংস্থা আশ্রিত এসব রোহিঙ্গাদের ওষুধ,খাদ্য ও মানবিক সেবা দিয়ে সহযোগিতা করলেও অধিকাংশ বয়োবৃদ্ধ ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে বিজিবি’র সদস্যরা জানিয়েছেন। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ ৩১’শ রোহিঙ্গা কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়ার বিয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, অভূক্ত, মানষিক বিপন্ন এসব রোহিঙ্গাদের দেখে অবস ও ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। বুচিডং কাওয়ারখোপ থেকে আসা ছৈয়দ আলম (৪৮) জানায়, তারা ত্রাণ সামগ্রী, খাদ্য ও ওষুধ পেয়েছে, তবে থাকার জায়গা না পাওয়ার কারনে অসুস্থ ছেলে/মেয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হয়েছে।

একই গ্রামের স্বামী হারা তসিবা খাতুন (২৮) জানান, সে তিনটি সন্তান নিয়ে ৭দিন পাহাড়ি পথ অনেক কষ্টে অতিক্রম করে ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছে। তিন টি ছেলে প্রচন্ড জ¦রে ভুগছে। কোথাও যদি একটু আশ্রয় মিলত তাহলে ছেলে গুলো নিয়ে সেখানে বিশ্রাম নিতে পারতাম।

ক্লান্ত, অবসন্ন ও ক্ষুধা তৃষর্ণায় কাতর একাধিক রোহিঙ্গা জানায়, তারা মিয়ানমারের যে ভয়াবহ ও ভয়ংকর পরিস্থিতিতে রাত দিন কাটিয়েছে তা বলা সম্ভব নয়। তবে এখানে আসতে পেরে না খেয়ে থাকলেও অনেক চিন্তামুক্ত মনে হচ্ছে।

পাসপোর্ট এন্ড ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু নোমান মুহাম্মদ জাকের জানান, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদের কার্ড সরবরাহ দেওয়া হয়েছে।