প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুয়াকাটার রাস উৎসবে লাখো পূন্যার্থীর সমাগম

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। রাস উৎসব উপলক্ষ্যে লাখো পূন্যার্থীর পদভারে মুখরিত এখন কুয়াকাটা। পূন্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুয়াকাটার গুরুত্বপূর্ন স্থান সহ উৎসব এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন সহ ভ্রাম্যমান আদালত, মেডিকেল টিম, র‌্যাব-পুলিশের যৌথ টীম এবং সমুদ্র সৈকতে বিপুল সংখ্যক সাদা পোষাকধারী আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে

কুয়াকাটা রাস উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার জানান, শনিবার প্রত্যুষে লাখো পূন্যার্থীর সমুদ্র ¯œানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে পূন্য¯œান। প্রতি বছরের মত এবারও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত ও কলাপাড়ায় রাস মেলার আয়োজন করেছে রাস উৎসব আয়োজক কমিটি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তানভির রহমান জানান, রাস উৎসব ও মেলার আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। কুয়াকাটায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, চিকিৎসা সেবা সহ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

রাস উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, শনিবার পূর্ণিমা তিথীর সূর্যোদয়ের সময় কুয়াকাটার সমুদ্রে লাখো পূন্যার্থী পূণ্য স্নানে অংশ নেবে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষাধিক পূন্যার্থী ইতোমধ্যেই কুয়াকাটায় এসেছে সমুদ্র ¯œানে অংশ নিতে। রাতে রাস মেলা প্রাঙ্গনে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদাবলী কীর্তন, বাউল গান ও ধর্মীয় আলোচনা।

ট্যুরিষ্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সিনিয়র এএসপি মো: আ: করিম বলেন, রাস উৎসবে আগত সকল তীর্থ যাত্রীদের নিরাপত্তায় আমাদের সব রকম পস্তুতি রয়েছে।

কলাপাড়া শ্রী শ্রী মদনমোহন সেবাশ্রম সূত্র জানায়, সেবাশ্রমের আঙ্গিনায় প্রাকৃতিক কুঞ্জে সতের জোড়া রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি স্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছে। রাস পূঁজার উপকরন সামগ্রী ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে কুলবধূদের কুঞ্জ পরিভ্রমন, শ্রীশ্রী গোপাল ও যোহমায়ার মূর্তি নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ ও জগন্নাথ মন্দিরে গমন, প্রতিদিনের ভোগরাগ ও পূঁজার্চনা, ভক্তবৃন্দের আগমন, কুঞ্জ প্রদক্ষিণ, যুগল দর্শন ও প্রনাম, সন্ধ্যারতী কীর্তন ও মহোৎসবের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সেবাশ্রম অংঙ্গনের ৫ দিনব্যাপী এ মেলায় দেশীয় লোকজ সংস্কৃতির কারুকার্য খচিত কুটির শিল্পের পসরা সহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানাদি পালনের বই-পত্র, ছবি ও গৃহস্থালি কাজের উপকরন থাকছে ক্রেতাদের জন্য।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, দাপরযুগে কংশ রাজার অত্যাচারে মানবকুল যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল তখন মহান সৃষ্টি কর্তার নির্দেশে মানবকুলকে অত্যাচারী রাজার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, মানবকুলের কল্যানের জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ আবির্ভূত হন এই ধরাধামে। ভগবান শ্রী কৃষ্ণ এক অলৌকিক ক্ষমতাবলে কংস রাজাকে বধ করে মানবকুলকে রক্ষা করেন।

পরবর্তিতে মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি মোচন করার মানসে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ শ্রী রাধীকাকে নিয়ে বৃন্দাবনের তমাল ও কদমকুঞ্জে নিষ্কাম প্রেমের উপাখ্যান রচনা করে। এর পরথেকে রাধা কৃষ্ণের অর্চনায় রাসলীলা বা রাসপূজা উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ