প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মিক প্রশান্তি লাভের মাধ্যম যিকির

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : যে মানুষ সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করে তথা আল্লাহর স্মরণে থাকে প্রকৃত অর্থে সে শান্তির মধ্যেই থাকে। শান্তির উৎস কল্ব বা অন্তর। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, জেনে রাখো, আল্লাহর জিকিরেই কল্ব বা অন্তর প্রশান্ত হয়। (সূরা রা’দ: আয়াত-২৮)

আল্লাহর জিকির ও স্মরণে ঈমানদারের অন্তর প্রশান্ত হয়। জিকির কষ্ট বিহীন একটি ইবাদত। খাঁটি ঈমানদার সব সময় জিকিরে নিমগ্ন থাকে। শত ব্যস্ততা তাঁদের আল্লাহর স্বরণ থেকে বিমুখ করতে পারে না, জিকির ছাড়া খাঁটি ঈমানদার হওয়া কল্পনাতীত।

পৃথিবীতে যত নবী রাসুল ও অলি আউলিয়া আগমন করেছেন, সকলের সব সময়ের আমল ছিল জিকির। জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। হাদীসে কুদসিতে এসেছে, “আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা করে আমাকে তেমনি পাবে। যখন সে আমার জিকির (স্মরণ) করে আমি তার সঙ্গে থাকি। সে যদি তার অন্তরে আমার জিকির স্মরণ করে তাহলে আমিও তাকে আমার অন্তরে স্মরণ করি।

আর যদি সে কোনো জনগোষ্ঠীর সামনে আমার জিকির করে, তাহলে আমি তাদের চেয়ে উত্তম জনগোষ্ঠীর কাছে তাকে স্মরণ করি। (মুসলিম শরীফ -২০৬১)। জিকিরের মাধ্যমে শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, যারা পরহেজগার, শয়তান যখন তাদের কুমন্ত্রণাদেয়, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। ততক্ষনাৎ তাদের চোখ খুলে যায়”। (সুরা: আরাফ, আয়াত: ২০১)।

আল্লাহ আল্লাহ জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য হাসিল হয়। আল্লাহকে সর্ববস্থায় হাজির নাজির জানার মধ্যেই আল্লাহর জিকিরের তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। কিভাবে আল্লাহর জিকির করতে হবে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট নিদের্শনা কোরআনে পাকে রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে; তোমার রবের জিকির করবে সকাতরে, ভয়ে এবং অনুচ্চ স্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় এবং তুমি উদাসিন হয়ো না (সুরা আরাফা: আয়াত-২০৫)।

হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্নিত আছে যে, দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছেন যাঁরা আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা লোকদের খোঁজে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফিরেন। যখন তাঁরা কোথাও জিকিরে রত লোকদের দেখতে পান, তখন তাঁদের একজন অন্যজনকে ডেকে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য পালনের জন্য এখানে এসো। তখন তাঁরা সবাই জড়ো হয়ে তাঁদের ডানা দিয়ে লোকদের ঢেকে ফেলে দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত। যখন তাঁদের রব (আল্লাহ) তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন আমার বান্দারা কি বলছে, তখন তারা বলেন, ওরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, আপনার প্রশংসা করছে এবং আপনার মাহাত্ম্য ঘোষণা করছে। তখন তিনি (আল্লাহ) জিজ্ঞাসা করেন: ওরা কি আমাকে দেখেছে? তাঁরা (ফেরেশতারা) বলেন: হে আমাদের রব! আপনার কসম! ওরা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলেন, যদি ওরা আমাকে দেখত? তারা বলেন, ওরা যদি আপনাকে দেখত তাহলে ওরা আরও বেশি বেশি ইবাদত করত, আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আরো বেশি বেশি আপনার তসবীহ তাহলীল করত। তিনি বলেন ওরা আমার কাছে কি চায়? তাঁরা বলেন: ওরা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞাসা করেন: ওরা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন:না আপনার সত্তার কসম! হে রব! ওরা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞাসা করেন: ওরা যদি তা দেখত তাহলে ওরা কি করত? ফেরেশতারা বলেন: ওরা জান্নাতের আরো বেশি প্রত্যাশি হতো এবং এর জন্য আরো বেশি উদগ্রীব হয়ে উঠত।

আল্লাহ তখন জিজ্ঞাসা করবেন: ওরা কিসের থেকে আশ্রয় চায়? ফেরেশতারা বলেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন: ওরা কি জাহান্নাম দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন: আল্লাহর কসম! তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞাসা করেন: ওরা যদি তা (জাহান্নাম) দেখত তা হলে কি করত? তাঁরা বলেন, যদি ওরা তা দেখত তাহলে ওরা অধিকতর ভয় করত। তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা স্বাক্ষী থাক, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। একজন বলেন, ঐ জিকির মাহফিলে অমুক ব্যক্তি ঐ দল ভুক্ত নয়। সে অন্য প্রয়োজনে সেখানে হাজির হয়েছে। আল্লাহ পাক বলেন, ওরা এমন মজলিশ ভুক্ত, যে মজলিশের কেউই বিমুখ হয় না। (বোখারী শরীফ)। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) বলেন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি শ্রেষ্ঠ জিকির হলো “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” আর শ্রেষ্ঠ দোয়া হল “আল- হামদুল্লিল্লাহ।”

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ