প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৫০০ ডলার মূল্যবৃদ্ধি
প্রথমবারের মত বিটকয়েনের মূল্য ৭ হাজার ডলার অতিক্রম করল

বাঁধন : বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বিটকয়েনের মূল্য ৭০০০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করল।  বৃহস্পতিবার এই বিটকয়েনের মূল্য বেড়ে ৭ হাজার ডলার ছুঁয়ে ফেলে, যার মূল্য কিনা মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই ৬ হাজার ৫ শ ডলার ছিল।

রয়টার্স জানায়, গত বছরে এই বিটকয়েনের মূল্য দশগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র দুই বছর আগে এই বিটকয়েনের মূল্য ছিল মাত্র ১০০ ডলার।

চলতি বছরেও বিটকয়েনের মূল্য খুবই দ্রুত বেড়ে চলছে। গত সাত সপ্তাহে এর মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার ইউরোপের লাক্সেমবার্গে অবস্থিত বিটস্ট্যাম্পে (বিটকয়েন কেনা বেচা করার প্রতিষ্ঠান)  বিটকয়েন আদান প্রদান করা হয় সর্বোচ্চ ৭৩৫৪ ডলার সমমূল্যে। এরপর বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ এটির দাম স্থিতিশীল হয়ে ৭০৩০ ডলারে নেমে আসে।

বর্তমানে বিটকয়েনের মূল্য দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিজ্যান থিয়াম এই ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, এটির মূল্য ভবিষ্যতে কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন যা দেখতে পারছি, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে বিটকয়েন কেনা বেচা করা হচ্ছে শুধুমাত্র টাকা পয়সা রোজগার করার জন্যে। এটি হচ্ছে একটি বুদ্বুদের মত। আস্তে আস্তে বৃদ্ধি হবে ঠিকই, তবে দূরবর্তী সময়ে এই বুদ্বুদ ফেটে যাবে এবং এটির কোন মূল্যই থাকবে না।‘

বিটকয়েন মূলত একটি ওপেন সোর্স ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রোটকলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া সাংকেতিক মুদ্রা। যার সহজ কথায় বললে ডিজিটাল মুদ্রা। ২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো এই মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন করেছিলেন।

সেই সময় এই মুদ্রার দাম ছিল ১০০ মার্কিন ডলার। লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান বা নিকাশ ঘরের প্রয়োজন না থাকায় মানুষ এই ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে পড়ে।

এতেই দ্রুত বেড়ে যেতে থাকে এই মুদ্রার দাম। প্রাথমিক পর্যায়ে ধীর গতিতে বাড়লেও বর্তমানে এটির মূল্য খুবই দ্রুত গতিতে বেড়ে চলছে।

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা অবশ্য ধারণা করছেন, এই ধরণের মুদ্রা ব্যবস্থা একেবারেই মিথ্যা। তাদের ধারণা মতে এটি মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি কৌশল মাত্র। এটি রোধ করতে চীনে যেকোনো ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রচলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলাতে যদি কেউ বিটকয়েন মাইনিং (বিটকয়েন উপার্জন করার পদ্ধতি) করতে গিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে তার দুবছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

তবে বিটকয়েনের চড়া মূল্য সকলকেই আকর্ষণ করছে। অনলাইনের মাধ্যমে কিছু মানুষ বিটকয়েন উপার্জন করছে এবং তা অন্য আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। যিনি এই বিটকয়েন কিনছেন তিনি আবার ভবিষ্যতে এটির মূল্য বৃদ্ধি হওয়ার সময় বিক্রি করবেন। এভাবেই একজন থেকে আরেকজনের কাছে এই বিটকয়েন চলে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করে জানিয়েছে যে এই অতিরিক্ত চাহিদার ফলে এটির মূল্য কমে আশার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণেই অধিকাংশ ব্যাংক এবং প্রতিষ্ঠানে এই মুদ্রা ব্যবহার হচ্ছে না। সূত্র : রয়টার্স, ফোর্বস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ