প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলা, তৃতীয় স্ত্রীসহ আব্দুল করিম গ্রেফতার

সুশান্ত সাহা : ব্যক্তিগত শত্রুতা, পারিবারিক কলহ ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তাদের তদন্ত চলছে। তবে তদন্তে বারবার সামনে আসছে পারিবারিক কলহের বিষয়টি।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকা-ের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টায় নিহত শামসুন্নাহারের ভাই খোকন বাদি হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা (নম্বর ১) করেছেন।

মামলার বিষটি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ওসি কাজী মইনুল ইসলাম । তিনি বলেন, ওই মামলায় নিহতের স্বামী আব্দুল করিম ও তার তৃতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী শারমিন আক্তার মুক্তাসহ তাদের এক আত্মীয়কে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে করিম ও মুক্তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে ।

এর আগে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শামসুন্নাহারের স্বামী আবদুল করিম, ওই বাড়ির দারোয়ান, গৃহকর্মী ও তৃতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী মুক্তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ বলছে, হত্যাকা-টি তারা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করেই অনুসন্ধান করছে। দ্রুতই এ হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে পারিবারিক ক্ষোভ কিংবা কলহ কিংবা পারিবারিকভাবে কাউকে বঞ্চিত করা, কিংবা লাভবান হওয়া কিংবা সম্পর্কের টানপড়েনের কারণে হত্যাকা- ঘটেছে কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও আবদুল করিমের সাথে কারো ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা মনে করছেন, চাঞ্চল্যকর এ জোড়া খুনে জড়িতরা পূর্ব পরিচিত। খুনিদের টার্গেট ছিলেন শামসুন্নাহার কিন্তু ছেলে শাওন ঘটনাক্রমে মায়ের হত্যাকা- দেখে ফেলায় তাকেও খুন করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি, আবদুল করিম এ পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন। এছাড়াও একাধিক মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক ছিল। যা নিয়ে শামসুন্নাহারের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে স্বামীর বিরোধ চলছিলো। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকা- ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

আবদুল করিমের বাড়ির ভাড়াটিয়া ঠিকাদার জাকির হোসেন জানান, সাত বছর ধরে আবদুল করিমের ওই বাড়ির ৬ তলায় ভাড়া থাকতেন তিনি। তার পরিবারের সঙ্গে তিনি ও অন্য ভাড়াটিয়ারা কানেকটেড। করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার গত বছরের শেষের দিকে তার স্বামীর বিয়ের বিষয়টি জানেন। এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তার বোনের সঙ্গে আবদুল করিমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বোনের সংসারে কোনো ঝামেলা ছিল না। অবশ্য দুলাভাই তখন খুব দরিদ্র ছিলেন। পরবর্তীতে টাকা পয়সা হওয়ায় তিনি বেপরোয়া বনে যান। একপর্যায়ে তিনি ফিল্ম ব্যবসা শুরু করেন। বিভিন্ন ধরনের নায়িকাদের নিয়ে তিনি এনজয় করা শুরু করেন। যা আমার বোন মেনে নিতে পারেনি। এ নিয়েই মূলত বিরোধ শুরু হয়। দুলাভাই প্রায়ই বোনকে মারধর করতেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দুলাভাই ও মুক্তা ভাড়াটে খুনি দিয়ে আমার বোন ও ভাগ্নেকে হত্যা করে পথের কাটা সরিয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যায় মা-ছেলের ময়নাতদন্ত শেষে তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, মা-ছেলের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে মায়ের বুকে একটি গভীর আঘাত রয়েছে। যেটি তার লান্সকে ছিদ্র করে ফেলেছে। আর শাওনের দুটি আঘাত লান্স ও হার্টকে ছিদ্র করে ফেলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিপরীত দিকে গলির ৭৯/১ নম্বর বাসার গৃহকর্তা আবদুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছেলে শাওনকে (১৯) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।

 

সর্বাধিক পঠিত