প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিমান নিয়ে জঙ্গি হামলার ছক!

শাকিল : বিমান নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের (ভিভিআইপি) ব্যক্তিদের বাসভবনে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কো-পাইলট (ফার্স্ট অফিসার) সাব্বির এনাম সাব্বির। জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার আদলে হামলা চালানোর এই পরিকল্পনা করেন তিনি। এ ছাড়া বিমান যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দেশে অবতরণ করার পরিকল্পনাও ছিল তার। তার আগেই তাকে গ্রেফতার করে ফেললো র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বিরসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতার অপর তিনজন হলেন সাব্বিরের মা সুলতানা পারভীন (৫৫), সাব্বিরের মামাতো ভাই আসিফুর রহমান আসিফ (২৫) ও গত সেপ্টেম্বরে আত্মঘাতী বিষ্ফোরণে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী মো. আলম (৩০)। এছাড়া পুলিশি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি বোমা হামলার পরিকল্পনাও ছিল জঙ্গিদের।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান-বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ বলেন, গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দারুস সালামে জঙ্গি আব্দুল্লাহর আস্তানা ‘কমল প্রভা’ বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে জঙ্গি আব্দুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান এবং দুই সহযোগী নিহত হন। এ ঘটনার পর র্যাব গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং দায়ের করা মামলায় কমল প্রভা বাড়ির মালিক হাবীবুল্লাহ বাহার আজাদসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ থেকে আব্দুল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিল্লাল হোসেনকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব্বিরসহ এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, মিরপুরে আব্দুল্লাহ ‘কমল প্রভা’ নামে যে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তার মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদের ছেলে সাব্বির এমাম সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি থেকে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজ-এ চাকরি করেন। এই সময়ে তিনি স্পেন থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৪ সাল থেকে সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের কো-পাইলট হিসেবে চাকরিরত। তিনি বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করে থাকেন। তিনি সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। সাব্বির তুরস্ক থেকেও বিমান চালনার উপর প্রশিক্ষণ নেন। তিনি দুবাই, কাতার, ওমান, সিঙ্গাপুর, মালেয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছাড়াও আরো অনেক দেশে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে কাজ করেছেন।

র্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ আরো বলেন, জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাব্বিরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। নব্য জেএমবি নেতা সারোয়ার জাহানের মাধ্যমে তিনি জঙ্গিবাদের দীক্ষা নেন। গুলশান হামলার আগে ও পরে আব্দুল্লাহ, গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির, সারোয়ার একত্রে নাশকতার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাব্বির বিমান চালিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বাসভবনে আঘাত, অথবা বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। তার চাকরির ভাতা বাবদ ১০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা আব্দুল্লাহর মাধ্যমে তাদের সংগঠনে দান করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন সাব্বির।

সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত সুলতানা পারভীন (৫৫) সাব্বিরের মা। তিনি আব্দুল্লাহর ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটে গিয়ে ও ছাদে উঠে জঙ্গি সংগঠনের বিষয়ে আব্দুল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করতেন। তিনি জঙ্গি সারোয়ার জাহানের বাইয়াত (আনুগত্য) গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি আব্দুল্লাহকে সংগঠনের জন্য বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলে র্যাব প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।

এছাড়া গ্রেফতারকৃত আসিফুর রহমান আসিফ সম্পর্কে সুলতানা পারভীনের ভাতিজা। আব্দুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় আসিফ মাঝে-মধ্যেই তারা বাসায় যাতায়াত করতেন ও জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেন। আসিফ জঙ্গি আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তিনি জঙ্গি সারোয়ার জাহানের বাইয়াত গ্রহণ করেন। বিস্ফোরক তৈরির জন্য আব্দুল্লাহর বাসায় বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল সরবরাহ করতেন তিনি। এছাড়াও তিনি তার বন্ধুর কাছ থেকে একটা নাইনএমএম পিস্তল এনে আব্দুল্লাহকে সরবরাহ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় আব্দুল্লাহ পিস্তলটি গ্রহণ করেননি।

গ্রেফতারকৃত আলম (৩০) দারুস সালাম থানা এলাকার একজন চায়ের দোকানদার। তিনি বিভিন্ন সময় সংগঠনের কাজে আব্দুল্লাহকে গাড়ি সরবরাহ করতেন। গত রমজান মাসে আলমের মাধ্যমে একটি ট্রাক ভাড়া করে ইউরোপের হামলার মতো নিকটস্থ কোনো পুলিশি স্থাপনায় গাড়ি হামলার পরিকল্পনা করেন বিল্লাল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গাড়ি চালানো শিখে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো এ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি অথবা গাড়িবোমা হামলা করা। ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত