প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গ্রাউন্ডেড থাকার পর ফের ফ্লাইংয়ের অনুমতি পেয়েছিলেন পাইলট সাব্বির

রাহাত : গ্রেফতার সাব্বিরসহ অন্য জঙ্গিরামিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানের পর ৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাউন্ডেড ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার সাব্বির এমাম সাব্বির। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ফের কাজে যোগ দেন। তিনি বিমানের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজের ফার্স্ট অফিসার ছিলেন। জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ৩০ অক্টোবর আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। বিমানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের দারুস সালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই ভবনের পঞ্চমতলায় জঙ্গি আব্দুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগী ছিল। সেই ভবনের মালিক ছিলেন বিমানের ফার্স্ট অফিসার সাব্বিরের বাবা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ। জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ ও নৈশ প্রহরী সিরাজুল ইসলামকেও আটক করে র‌্যাব।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিজস্ব গতিতে কাজ করছে। আমরা আমাদের নিয়ম অনুসারে ব্যবস্থা নেব।’

বিমান সূত্রে জানা গেছে, যেকোনও ফ্লায়িং একাডেমি থেকে পাইলট ট্রেনিং শেষে সিভিল এভিয়েশন থেকে কর্মাশিয়াল পাইলট লাইসেন্স পেলে বিমানে পাইলট হিসেবে চাকরির আবেদন করতে পারেন। লিখিত, মৌখিক ও শারীরিক পরীক্ষা শেষে নির্বাচিতদের ক্যাডেট পাইলট হিসেবে বিমানে নিয়োগ দেওয়া হয়। ক্যাডেট পাইলটরা বিমান ট্রিনিং সেন্টারে গ্রাউন্ড কোর্সে প্রশিক্ষণ নিন। সেই প্রশিক্ষণ শেষে কৃতকার্যরা সিমিউলেট টেনিং শেষে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। বিমানে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে প্রত্যেকের পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন করা হয়। ফার্স্ট অফিসাররা যেকোনও ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে পাইলটকে সহায়তা করেন।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সাব্বিরকে আটক বিষয়ে ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিং এ মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ জানান, ‘বিল্লাল নামে এক জঙ্গির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৩০ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু করে মঙ্গলবার ভোরপর্যন্ত মিরপুরে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় বৈমানিক সাব্বির এমাম সাব্বির (৩১), তার মা সুলতানা পারভীন (৫৫), সুলতানা পারভীনের ভাইয়ের ছেলে মো. আসিফুর রহমান আসিফ (২৫) ও এলাকার চায়ের দোকানদার মো. আলমকে আটক করা হয়। তাদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।’

বিমানের আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে এলো প্রথম। সে ক্ষেত্রে সবকিছু তদন্তেই বের হয়ে আসবে। এই বৈমানিকের অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কিনা, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তদন্ত করে দেখা হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের শুরুর দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা করেছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তখন শাহজালালের নিরাপত্তা জোরদার করার সুপারিশ করেছিল কয়েকটি রাষ্ট্র। এই পরিস্থিতির মধ্যে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত থাকা ও নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগ ওঠায় বিমানের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘এটি ডিফারেন্ট ইস্যু।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাব্বির সাবেক টিঅ্যান্ডটি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ মুন্সীর ছেলে। গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর মিরপুরের দারুস সালাম থানাধীন বর্ধনবাড়ী এলাকার যে জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাব অভিযান চালিয়েছিল, সেই এ/পি-২/৩ বি নম্বর বাড়ির মালিক সাব্বিরের বাবা। মিরপুরের ওই বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানের সময় জেএমবি সদস্য আব্দুল্লাহ বিস্ফোরণ ঘটায়। এ কারণে আব্দুল্লাহ ও নারী শিশুসহ সাত জন নিহত হয়। এরপর এই ঘটনায় দু’টি মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে র‌্যাব-৪। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে জেএমবির সঙ্গে বৈমানিক সাব্বির ও তার পরিবারের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হলো।’

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘গুলশানের হলি আর্টিজানে নাশকতার আগে ও পরে জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গে বৈমানিক সাব্বির মিলে পরিকল্পনা করেন। যেহেতু সাব্বির বৈমানিক, তাই যেকোনও সময় উড্ডয়নরত উড়োজাহাজ দখলে নিতে পারবেন তিনি। এরপর উড়োজাহাজ নিয়েই সরকারের শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বাসভবনে আঘাতের পরিকল্পনা ছিল তার। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ‘বিকল্প উপায় হিসেবে বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও একটি দেশে নামার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। সাব্বিরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আব্দুল্লাহ তাকে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল। যেমন মোটামুটি সক্ষম জঙ্গি সদস্যদের উড়োজাহাজ চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া, প্রশিক্ষণের পর সাব্বিরই তাদের বিভিন্ন এয়ারক্রাফটে কাজের সুযোগ করে দেবে।’

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘সাব্বির ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেয়। এছাড়া উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়েছে স্পেন ও তুরস্কে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল-পর্যন্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজে কর্মরত ছিলেন সাব্বির। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত আছেন তিনি। বর্তমানে বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করে আসছে। বিল্লালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।’ বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত