প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উড়োজাহাজ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বাসায় হামলার পরিকল্পনা জঙ্গি সাব্বিরের

নুরুল আমিন হাসান: গুলশানের হলি আর্টিজানে নাশকতার আগে ও পরে জঙ্গি আব্দুল্লাহ্ ও সাব্বির মিলে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করে। যেহেতু সাব্বির বৈমানিক, তাই যে কোনও সময় উড্ডয়নরত উড়োজাহাজ দখলে নিতে পারবে সে। এরপর উড়োজাহাজ নিয়েই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বাসায় হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গি সাব্বিরের।

কাওরান বাজারস্থ র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সমে¥লনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, বিকল্প হিসেবে বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও একটি দেশে নামার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। সাব্বিরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে জানিয়েছে, আব্দুল্লাহ তাকে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল। যেমন মোটামুটি সক্ষম জঙ্গি সদস্যদের উড়োজাহাজ চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রশিক্ষণের পর সাব্বিরই তাদের বিভিন্ন এয়ারক্রাফটে কাজের সুযোগ করে দেবে।’

এর পূর্বে গ্রেফতারকৃত বিল্লাল নামের এক জঙ্গির দেওয়া তথ্যমতে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত মরিপুরে অভিযান চালিয়ে নাশকতার পরিকল্পনাকারী বোয়িং ৭৩৭-এর বৈমানিক সাব্বির এমাম সাব্বিরসহ (৩১) চার জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪। অন্যান্যরা হলেন, সাব্বিরের মা সুলতানা পারভীন (৫৫), সুলতানা পারভীনের ভাইয়ের ছেলে মো. আসিফুর রহমান আসিফ (২৫) ও এলাকার চায়ের দোকানদার মো. আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত জঙ্গি সাব্বির হলো সাবেক টিএনটি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ মুন্রি ছেলে। মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম থানাধীন বর্ধনবাড়ি এলাকার যে জঙ্গি আস্তানার বাড়িতে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাব অভিযান চালিয়েছে তার মালিক তিনি। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা নামক এলাকায়।

মিরপুরের ওই বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানকালে জেএমবির সদস্য আব্দুল্লাহ বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আব্দুল্লাহসহ সাত নারী ও শিশু নিহত হন। ওই ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যার তদন্তভার ছিল র‌্যাব-৪ এর উপর। উক্ত মামলার তদন্ত করতে গিয়ে গ্রেফতারকৃত চারজনের সম্পৃক্ততা পায় র‌্যাব।
মুফতি মাহমুদ বলেন, জঙ্গি আব্দুব্দুল্লার সঙ্গে সাব্বিরের পরিবারের অনেক দিরে ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদে সাব্বিরের সাথে আব্দুল্লার ঘনিষ্ঠতা সম্পর্ক গড়ে উঠে। আর আব্দুল্লার মাধ্যমেই জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয় সে। অপরদিকে মিরপুরের ‘কমলপ্রভা’ নামের যে বাড়িতে র‌্যাব অভিযান চালিয়েছিলো সেই বাড়ির মালিকের ছেলে সাব্বির। তিনি বাংলাদেশ বিমানের প্রথম শ্রেণির একজন বৈমানিক। সে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেয়। এছাড়া উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়েছে স্পেন ও তুরস্কে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিজেন্ট এয়ারওয়েজে কর্মরত ছিল সাব্বির। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানে কর্মরত রয়েছে। বর্তমানে বোয়িং ৭৩৭ পরিচালনা করে আসছে।

সর্বশেষ ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ থেকে নিহত আব্দুল্লাহর অন্যতম সহযোগী একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসে। এ প্রসঙ্গে গ্রেফতার ওই জঙ্গি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে সুলতানা পারভীন বাড়িওয়ালা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদের স্ত্রী। ওই বাসায় যাতায়াত থাকায় আব্দুল্লাহ তাকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে। আব্দুল্লাহর বাসাতেই নিহত জঙ্গি নেতা সারোয়ার জাহান মানিকের কাছে জঙ্গিবাদের বায়াত গ্রহণ করে। সে বিভিন্ন সময় আব্দুল্লাহকে অর্থ সরবরাহও করেছে।

আটক আসিফ প্রসঙ্গে র‌্যাব জানিয়েছে, সে সুলতানা পারভীনের ভাইয়ের সন্তান। আসিফও ওই বাড়িতেই থাকতো। সেও সারোয়ার জাহানের কাছ থেকেই বায়াত গ্রহণ করেছে। জঙ্গি আস্তানা থেকে যে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছিলো সেগুলো আসিফ সংগ্রহ করে বাসায় নিয়ে আসতো।

তিনি আরো বলেন, চা-দোকানি মো. আলমও জেএমবির সঙ্গে জড়িত ছিল। সে দীর্ঘদিন ধরে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে কাজ করেছে। আব্দল্লার বাসার পাশেই আলম চায়ের দোকান দিতো। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন তথ্য আলম সরবরাহ করতো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত