প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তারেকের নির্দেশে হামলা,ষড়যন্ত্র হয়েছিল নয়টি স্থান থেকে

ডেস্ক রিপোর্ট : স্পর্শকাতর ও বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলার পঞ্চম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। মঙ্গলবার মামলার চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল নয়টি স্থান থেকে। এদের মধ্যে হাওয়া ভবন অন্যতম। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে জঙ্গী ও অন্য আসামিরা এ হামলার ষড়যন্ত্র করে। তারেক রহমান জঙ্গীদের নিয়ে আব্দুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিস চৌধুরী, মাওলানা তাজ উদ্দিনসহ অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করে। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। নাজিম উদ্দিন রোডে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। এ মামলায় চীফ প্রসিকিউটরকে সহায়তা করেন এ্যাডভোকেট খন্দকার আবদুল মান্নান, এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, এ্যাডভোকেট মোঃ আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও এ্যাডভোকেট ফারহানা রেজা। আসামিপক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার, রফিকুল ইসলাম তারা মিয়া, রশিদ মোল্লা।

রাষ্ট্রপক্ষের চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তিতর্কে বলেন, তারেক রহমানসহ অন্যরা প্রশাসনিক সহায়তা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করা হয়। ঘটনার দিন ১৫টি গ্রেনেড ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি বিস্ফোরিত ও চারটি অস্ফোরিত অবস্থায় ছিল। জেলখানায় একটি পাওয়া গেছে, সেটা জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আলামত হিসেবে জব্দকৃত তিনটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে ধ্বংস করা হয়েছে। ঘটনাটি নয়টি জায়গা থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হয়। আর আটটি জায়গায় ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা ও গ্রেনেড মজুদ রাখা হয়েছিল। ওই আটটি জায়গা হলো হাওয়া ভবন, আহসানউল্লা কাজনের মেরুলের বাসা, আনন্দনগরের মুফতি হান্নানের বাসা, আলী এ্যান্ড নুর হাউজিং এস্টেট মোহাম্মদপুর, আসামি সুমনের বাসা, আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানম-ির সরকারী বাসা, মিরপুরের মসজিদ ই আকবর কমপ্লেক্স ও মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটে হরকত-উল জিহাদের কার্যালয়। এছাড়াও মামলার আসামি আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির সরকারী বাসভবনে মিটিং করেও এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে যুক্তিতর্ক উপস্থানের সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান উল্লেখ করেন।

আলোচিত এ মামলায় ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আর মামলায় ২০ জনের সাফাই সাক্ষী নেয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলাটি যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)। ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। মামলা তদন্তের ভার পান সিআইডির পুলিশ সুপার আব্দুল কাহ্হার আখন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গী নেতা মুফতি হান্নান ও জেএমবি সদস্য শহিদুল আলম বিপুলের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের নাম বাদ দেয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পালাতক রয়েছেন। এছাড়া জামিনে আট এবং কারাগারে রয়েছেন ২৩ জন। জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত