শিরোনাম
◈ প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার: ক্রেনের চালক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ◈ গার্ডার চাপায় নিহতদের ময়নাতদন্ত হবে সোহরাওয়ার্দীর মর্গে ◈ উত্তরায় দুর্ঘটনা: শিশু জাকারিয়া জীবিত ছিল আধাঘণ্টা ◈ পুলিশের উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে: এমপি শম্ভু ◈ রাজধানীতে ক্রেন থেকে রড পড়ে ৫ পথচারী আহত ◈ চকবাজার ও উত্তরার ঘটনায় শোক জানিয়ে তদন্তের দাবি ফখরুলের ◈ মানবাধিকারকর্মীদের কথা শুনলেন জাতিসংঘের মিশেল ব্যাচেলেট ◈ উত্তরায় ক্রেন দুর্ঘটনা: বেঁচে রইলেন শুধু নবদম্পতি ◈ খায়রুনকে লাথি মেরে সেই রাতে বাইরে যান স্বামী ◈ উত্তরায় প্রাইভেট কারের উপর ফ্লাইওভারের গার্ডার, নিহত ৫ (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০১ আগস্ট, ২০২২, ০৫:৫৩ বিকাল
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২২, ০৫:৫৩ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘বিএনপির নির্বাচনে না আসার ঘোষণাকে রাজনৈতিক সঙ্কট হিসেবেই দেখছে ইসি’

মো. আলমগীর

এম এম লিংকন: নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসার ঘোষণাকে রাজনৈতিক সঙ্কট হিসেবেই দেখছে ইসি। এবং এ সঙ্কট মোকাবেলা রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। আর নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও তারা কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার। সোমবার নির্বাচন ভবনে সদ্য সমাপ্ত হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সদ্য সমাপ্ত সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগগিরই একটি কৌশলপত্র প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এই কৌশলপত্র নিয়ে বিশেষ সংলাপে বসবে সংস্থাটি। রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে পর্যালোচনা শুরু করেছি। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ফের গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ জন ও দলগুলোকে ডাকা হবে। এক্ষেত্রে ডাকা হবে প্রথম সংলাপে সাড়া না দেওয়া বিএনপিকেও।
 
বিশেষ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী। সেখানে সবাই একমঞ্চেই থাকবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রুপ থেকে চার-পাঁচ জন করে অংশ নেবে। সংলাপে কৌশলপত্রটি উপস্থাপন করে অংশীজনের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত কৌশলপত্র প্রণয়ন করবে নির্বাচন কমিশন।
 
সাবেক এই ইসি সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ থেকে তিন ধরনের সুপারিশ এসেছে। এসব প্রস্তাবে তথ্য ঘাটতি (ইনফরমেশন গ্যাপ) আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কিছু বলা যাবে না। আমরা সব রেকর্ড রেখেছি। এখন পর্যালোচনা করছি। কিছু কিছু সুপারিশ আছে সংবিধান ও আইনের মধ্য থেকে করতে হবে। কিছু কিছু সুপারিশ আইনের পরিবর্তন নিয়ে। আর কিছু কিছু আছে ইসির এখতিয়ারের মধ্যে নয়। সেটা নিয়ে কিভাবে কী করবো, তা যখন আলাপ-আলোচনা করবো তখন সিদ্ধান্ত নেবো। তখন হয়তো আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবগুলো পাঠিয়ে দেবো। তবে এখনো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।

কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনের এ কমিশনার বলেন, পূর্বের কমিশন আগে রোডম্যাপ করে সংলাপ করেছেন। আমরা আলোচনা করে রোডম্যাপ করবো।   
মো. আলমগীর বলেন, বিএনপিকে আবার অবশ্যই ডাকবো। আমাদের কাছে সবার গুরুত্ব সমান। কেউ ছোট না, কেউ বড় না। যখনই প্রয়োজন হবে ডাকব। শুধু তাই নয়, যখন কোনো দল আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইবে আমরা বসবো।
 
তিনি বলেন, বিশেষ সংলাপে আমাদের কৌশলপত্রে উদ্দেশ্যে, লক্ষ্য, সুবিধা-অসুবিধা, অর্থ সংক্রান্ত বিষয়, লোকবল, চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি থাকবে। যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো কিভাবে মোকাবেলা করতে পারি, তা নিয়েই আলোচনা হবে।
 
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন আগামী দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে। এক্ষেত্রে গত ১৩ মার্চ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী, ২২ মার্চ নাগরিক সমাজ, ৬ এপ্রিল প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক/সিনিয়র সাংবাদিক, ১৮ এপ্রিল ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী/প্রধান বার্তা সম্পাদক/সিনিয়র সাংবাদিক, ৯ জুন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ১২ জুন নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ইসি।

এরপর গত ১৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে সংস্থাটি। এতে ২৮টি দল অংশ নিলেও বিএনপিসহ ৮ টি দল অংশ নেয়নি। দু’টি দল পরবর্তীতে সময় চেয়েছে।

এছাড়া প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ইভিএম যাচাই করার জন্য গত ২৫ মে, এবং রাজনৈতিক দলগুলো সঙ্গে ১৯, ২১ ও ২৮ জুন তিন দফায় বৈঠক করে ইসি। সে সময়ও বিএনপিসহ ১১টি দল সাড়া দেয়নি। সবার সঙ্গে সংলাপে পাওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়েই এবার কৌশলপত্র প্রণয়ন করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

  • সর্বশেষ