শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২২, ০৪:১৩ দুপুর
আপডেট : ২৫ মে, ২০২২, ০৫:১৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মৃত্যুবার্ষিকীতে পি এ কাজলের কাছে ক্ষমা চাইলেন দুই চিত্রপরিচালক

ইমরুল শাহেদ: প্রযোজকবান্ধব ও বাণিজ্যিক ছবির সফল নির্মাতা পি এ কাজলের আজ ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি আজ না থাকলেও পেছনে রেখে গেছেন তার কিছু সফল সৃষ্টি।

চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকটে ঘুরেফিরে যে ক’জন সফল বাণিজ্যিক ছবির নির্মাতার নাম সামনে আসে পি এ কাজল তাদের একজন। আলোচনায় আসে ‘প্রাণের স্বামী’, ‘এক টাকার বউ’, ‘চোখের দেখা’, ‘ভালোবাসা আজকাল’সহ আরো কিছু ছবির নাম।

তবে একজন খ্যাতিমান নির্মাতা হিসেবে বলতে গেলে প্রায় পদ পদেই তিনি হয়েছেন নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের শিকার। বিশেষ করে জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে ছবি নির্মাণ করতে গিয়েই বেগতিক পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাকে। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুব কম সময়ের মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

এ সময় নির্মাতা এবং তারকা সকলের কাছেই জাজ মাল্টিমিডিয়া স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কিন্তু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি কিছুতেই পি এ কাজলকে ছাড়বে না। কারণ প্রতিষ্ঠালগ্নে এই প্রতিষ্ঠানটি পি এ কাজলের কাছ থেকে বাণিজ্য সফল ছবি পেয়েছে। তারা এই পরিচালককে ছাড়বেন কেন? কিন্তু সেখান থেকে পিএ কাজলকে সরানো না গেলে অন্যেদের পথ প্রশস্ত হচ্ছে না।

সুতরাং পিএ কাজলকে কিভাবে জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে সরানো যায় তার পরিকল্পনা চলতে থাকে। সেই সুযোগও একদিন এসে গেল জাজ মাল্টিমিডয়ার কয়েকজন অসাধু টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে।

পি এ কাজল এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাজ করলেও কিছু টেকনিশিয়ানকে নানা কারণে তার ইউনিটে নিতেন না। তারা পি এ কাজলের বিরুদ্ধে একজোট হন এবং কিভাবে তাকে কাহিল করা যায় সে অপেক্ষায় থাকেন। একবার পি এ কাজলের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। পরে সেটি উদ্ধার হলেও একটা ষড়যন্ত্র সফল হলো।

তার আইডি থেকে কিছু অপ্রত্যাশিত চ্যাটিং নিয়ে পরিচালক সমিতিতে দিয়ে বলা হলো, একজন নারীর সঙ্গে আপত্তিকর কথা বলেছেন। যারা কাজলের আইডি থেকে এগুলো করেছেন তারাই একজন নারীর নাম দিয়ে পি এ কাজলের বিরুদ্ধে বিচার চান। কিন্তু পি এ কাজল তখন অসুস্থ অবস্থায় ভারতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পি এ কাজলের অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে পরিচালক সমিতি থেকে গণমাধ্যমতে কিছু তথ্য দেওয়া হয় এবং সে অনুসারে পি এ কাজলের চারিত্রিক ত্রুটি নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়।

পি এ কাজল সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর সব রকম নেতিবাচক আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি পরিচালক সমিতিতে একটি আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি তাহলে আমার বিচার করা হোক এবং বিচারে বাদিকে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু পরিচালক সমিতি বিচারের জন্য দুই থেকে তিন বার সময় নির্ধারণ করলেও কোনো বাদীকে উপস্থিত করতে পারেনি।

অভিযোগের কাগজপত্র কে বা কারা পরিচালক সমিতিতে পৌঁছে দিয়েছেন সেটাও কেউ বলতে পারেননি। প্রকৃতার্থে বাদী নারীটি ছিল একটি কল্পিত চরিত্র। বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

এরপর পি এ কাজল আরো একটি আবেদন করেছেন পরিচালক সমিতির কাছে। তাতে বলা হয়, গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ সরবরাহ করে তাকে যে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে তার প্রতিকার কি?

পরিচালক সমিতি আবারো পি এ কাজলকে নিয়ে বসে এবং তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে এবং তাকে দ্রুত ছবি শুরু করার তাগিদ দেয়।

পি এ কাজল তাদের দুঃখ প্রকাশে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। তিনি এই প্রতিবেদককে তখন বলেছিলেন, ‘আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবেন এবং কাজের মাধ্যমে তাদের রটানো দুর্নাম ধুলিসাৎ করে দেবেন।’

কিন্তু সে সময়টা তিনি আর পাননি। তার আগেই তাকে এক দুঃময় স্মৃতি নিয়ে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে।

পরিচালক সমিতির নির্বাহী সদস্য আনোয়ার সিরাজি বলেন, ‘বিষয়টা ছিল পুরোপুরিভাবে ভুল বুঝাবুঝি। আমাদের উচ্চাভিলাষী কয়েকজন নির্মাতা ষড়যন্ত্র করে তার চরিত্রের ওপর কলংক লেপন করেছে। আমি এজন্য দুঃখিত।’

চিত্রসম্পাদক এবং পরিচালক আবু মুসা দেবু বলেন, ‘আজ তার চলে যাওয়ার দিনেই বলছি, পি এ কাজলের প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে সেজন্য আমরা দুঃখিত, লজ্জিত এবং অনুতপ্ত।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়