শিরোনাম
◈ প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার: ক্রেনের চালক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ◈ গার্ডার চাপায় নিহতদের ময়নাতদন্ত হবে সোহরাওয়ার্দীর মর্গে ◈ উত্তরায় দুর্ঘটনা: শিশু জাকারিয়া জীবিত ছিল আধাঘণ্টা ◈ পুলিশের উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে: এমপি শম্ভু ◈ রাজধানীতে ক্রেন থেকে রড পড়ে ৫ পথচারী আহত ◈ চকবাজার ও উত্তরার ঘটনায় শোক জানিয়ে তদন্তের দাবি ফখরুলের ◈ মানবাধিকারকর্মীদের কথা শুনলেন জাতিসংঘের মিশেল ব্যাচেলেট ◈ উত্তরায় ক্রেন দুর্ঘটনা: বেঁচে রইলেন শুধু নবদম্পতি ◈ খায়রুনকে লাথি মেরে সেই রাতে বাইরে যান স্বামী ◈ উত্তরায় প্রাইভেট কারের উপর ফ্লাইওভারের গার্ডার, নিহত ৫ (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২২, ০৪:১৬ সকাল
আপডেট : ০৪ আগস্ট, ২০২২, ০৪:১৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডিএনএ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর জৈব অস্ত্র!

ফাইল ছবি

ফিচার ডেস্ক: প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানুষ বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক জীবাণু (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে আসছে, যা বর্তমানে জৈবিক অস্ত্র নামে পরিচিত।

জৈব-সন্ত্রাসবাদের আক্ষরিক অর্থ অণুজীব বা সংক্রমিত নমুনা ব্যবহার করে মানুষ, সরকার, সেনাবাহিনী বা সামগ্রিকভাবে সমাজের বৃহৎ গোষ্ঠীকে হুমকি দেওয়া, সন্ত্রাস ও আতঙ্ক তৈরি করা। জৈব সন্ত্রাসবাদের ঘটনাগুলো ব্যাপকভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরম বিকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইতিহাসবিদদের পক্ষে জৈবিক আক্রমণগুলোকে প্রাকৃতিক মহামারি থেকে আলাদা করা কঠিন, কারণ জৈবিক যুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে এখনও অনেক কিছুই অজানা।

মানুষ হত্যা কিংবা বিকলাঙ্গ করার উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে তৈরি জৈব অস্ত্র যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাকের ব্যবহার আজ হুমকির মুখে। একুশ শতাব্দীতে জৈব অস্ত্র আর কল্পনা নয়। তবে, কোনওদিন কি এমন কোনও জৈব অস্ত্রের কথা শুনেছে, যা ডিএনএ প্রোফাইল ব্যবহার করে শুধুমাত্র একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর হামলা চালাতে পারে? শুনে কল্পবিজ্ঞানের কাহিনি মনে হতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটির অন্যতম সদস্য তথা কলোরাডোর প্রতিনিধি জেসন ক্রো এই নতুন ধরনের অস্ত্রের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এই কারণেই যত্রতত্র তাদের ডিএনএ প্রোফাইল ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন কলোরাডোর সেনেটর। বিভিন্ন দেশই এই ধরণের জৈব অস্তর তৈরির কাজ চালাচ্ছে বলে সন্দেহ করা হয়।

অ্যাস্পেন সিকিউরিটি ফোরামে এই নতুন ধরণের জৈবি অস্ত্রের বিপদ সম্পর্কে একটি বক্তৃতা দেন জেসন ক্রো। সেখানে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য সেই ব্যক্তির ডিএনএ ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। এই নতুন ধরনের অস্ত্র আসতে খুব বেশি দেরি নেই। তাই বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ডিএনএ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে অসতর্ক হওয়া চলবে না। নাহলে আপনি এমন একটি জৈবিক অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন। যা আপনাকে হত্যা করবে অথবা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেবে অথবা অকার্যকর করে দেবে। কারোর ডিএনএ নেওয়া মানে তার পুরো মেডিকেল প্রোফাইলই জেনে নেওয়া।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিএনএ টেস্টিং পরিষেবার ব্যাপক প্রসার ঘটছে। গ্রাহকরা এই সকল বেসরকারি কেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছায় নিজেদের জেনেটিক ম্যাপিং ভাগ করে নেন। তারা নিজেদের বংশ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য জানতে চান। আর এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়েই এই জৈব অস্ত্রগুলো তৈরি করা হচ্ছে। অধিকাংশ বেসরকারি ডিএনএ পরীক্ষাকারী সংস্থাই দাবি করে, তারা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে না। কিন্তু, পুলিশ জিজ্ঞাসা করলে ডিএনএ পরীক্ষাকারী সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য ভাগ করে থাকে। কাজেই তাদের কথার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মার্কিন সেনেটেও ডিএনএ ভিত্তিক জৈব অস্ত্রের কথা উঠেছে। আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য তথা আইওয়ার সেনেটর জনি আর্নস্ট দাবি করেছেন, চিন-রাশিয়ার মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ শক্তিগুলি এই ধরনের ডিএনএ ভিত্তিক জৈব অস্ত্র তৈরি করছে। মার্কিনিদের খাদ্য সরবরাহে ব্যাপকভাবে হামলা করতে এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হতে পারে।

আর্নস্ট আরও বলেছিলেন, ধরা যাক কয়েকটি বিশেষ প্রাণীর মাংসের উপর মার্কিন অসামরিক জনতা থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নির্ভরশীল। ওই নির্দিষ্ট প্রাণীগুলো জৈবিক অস্ত্রের লক্ষ্য হতে পারে। যার ফলে সেই দেশে খাদ্যাভাব দেখা যেতে পারে। ফলে জনসংখ্যা দুর্বল হয়ে পড়বে।

‘ওয়াশিংটন এক্সামিনার’ পত্রিকায় একটি নিবন্ধে জেসন ক্রো-এর জৈব অস্ত্রের দাবি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্যাবলী ব্যবহার করে করে এই ধরনের অস্ত্র তৈরি করা অত্যন্ত সহজ হবে। বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করার মতো জৈব অস্ত্রের বিকাশের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যে ওই ব্যক্তির ডিএনএ ব্যবহার করতে হবে, তার কোনও মানে নেই। এমনকি, ওই ব্যক্তির নিকটাত্মীয়ের ডিএনএ ব্যবহার করেও ওই অস্ত্র তৈরি করা যেতে পারে।

ডিএনএ ব্যবহার করে একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পুরো জনগোষ্ঠীকেও নিশানা করা যেতে পারে। এই ধরনের প্রযুক্তি তৈরি হলে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে। একই সময়ে হত্যাকারীদেরও খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

পারমাণবিক বোমা যতটা সশব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, জৈবাস্ত্র ঠিক ততটাই নীরবে ঘাতকের কাজ করে যাচ্ছে। ডিএনএ ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে হয়তো পারমাণবিক বোমার জায়গা দখল করবে ডিএনএ ভিত্তিক জৈবিক অস্ত্র।

  • সর্বশেষ