শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২২, ০৮:১০ রাত
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২২, ০৯:৩১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বন্যার্তদের ঘরে ঘরে ত্রান নিয়ে যাচ্ছেন দুর্গাপুরের ইউএনও

ত্রাণ বিতরণ করছেন ইউএনও

শাহীন খন্দকার: নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলা বৃষ্টি ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত উপজেলার দূর্গাপুর সদরসহ পৌরসভার, ইউনিয়ণের বিভিন্ন গ্রামে বন্যার পানি কমলেও, দেখা দিয়েছি খাদ্য সংকট। সেই সঙ্গে ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ি-ঘর মেরামতে দেখা দিয়েছে অর্থ সংকট। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাজীব-উল-আহসান বলেন, ত্রাণমন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানার জন্য এবং বন্যা পরবর্তী সরকারি আর্থিক সহযোগিতায় আজ বৃহস্পতিবার ২৩ জুন উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে থাকছেন উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা, ইঞ্জিনিয়ার, মৎস্য কর্মকর্তাসহ ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ ।

এই কমিটি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেওয়া মাত্র তথ্য বিবরণী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ত্রাণ সাহায্য আসা মাত্র দরিদ্রদের ঘর করে দেওয়া এবং কৃষককে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বর্তমানে সরকারি যে সব অনুদান আসছে তা প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ঘরে ঘরে পৌছাইয়ে দিচ্ছি আমি স্বয়ং সঙ্গে থেকে। 

একটি সুত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলাতেও ১ লাখের উপরে মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থের সম্মুখীন। বানের পানিতে ভেসে গেছে অনেক ঘরবাড়ি, অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। এসব মানুষের অর্থ-খাদ্য কস্ট দেখে বসে নেই দুর্গাপুরের ইউএনও রাজীব-উল-আহসান। বন্যা পরবর্তী প্রতি রাতেই পৌরসভাসহ আশ-পাশের ইউনিয়ণের নিমাঞ্চলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষুধার্তদের হাতে তুলে দিচ্ছেন সরকারি ত্রানের খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট।

বন্যা দুর্গত চকলেঙ্গুরা গ্রামের বানভাসি মর্জিনা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরার গেরামো তিনদিন আগে খাউনের পেকেট হাইছলাম, আইজ কিতা খাইয়াম, এই চিন্তা করতাছলাম? আল্লায় আমরার লাগিন টেউনু সাইবরে খাউন দিয়া হাডাইছে, নইলে আইজ রাইত না খাইয়া থাহন লাগ্লয়।

পৌর শহরে জুতা সেলাই করে সংসার চলে কানাই লাল ঋষির। তিনি বলেন, আমি কাজ না করলে পরিবার সন্তান নিয়ে আমাকে উপবাস থাকতে হয়। এবারের মতন বন্যা আমি বিগত ৫০ বছরেও দেখি নাই। বাড়ির উপর দিয়ে  স্রোতের তীব্র পানি যাওয়ায় আমার ঘর-বাড়ি নষ্ট সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে নির্মানের ক্ষমতা আমার নাই। কয়েকদিন আগে ত্রাণ পাইছি, আইজ রাইতে টিউনো সাইব নিজে খাবার নিয়া আমার বাড়িতে আইসে এইডা ভাবতেও শান্তি লাগতাছে। আমার পাশে দাড়িয়েছেন ইউএনও সাহেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এবারের বন্যায় দুর্গাপুরের যে ক্ষতি হয়েছে, আগামি তিনদিনের মধ্যে আমাদের টেকনিক্যাল কমিটির কাছে থেকে জানা যাবে। তবে  গত শনিবার ১৮ জুন  থেকে প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ত্রাণ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিজিবি, বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সেনাবাহিনী‘র পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রান বিতরণ কার্যক্রম তাদের উপস্থিততে বিতরণ করছি। শুধু তাই নয়, আমি নিজেও রাতের খাবার আগপর্যন্ত ক্ষুধার্ত মানুষের ঘরে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সামগ্রী দিয়ে ঘরে ফিরছি। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়