শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২২, ০৫:২৪ বিকাল
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২, ০৫:২৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফুলবাড়ীতে এক মাসে ১৭ দুর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত ১৯

ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক

রীতা গুপ্তা, ফুলবাড়ী: [২] দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া-রংপুর জাতীয় মহাসড়কটি এখন কৃষকদের ধান-ভূট্টা মাড়াই ও খড় শুকানোর চাতালে পরিণত হয়েছে। সড়কের ওপর সারিসারি ধানের পালা। সারাক্ষণ ধান ও ভুট্টা মাড়াই চলছে। সড়কজুড়ে শুকানো হচ্ছে ভূট্টা, ধান ও খড়। এতে প্রতিনিয়ত ছোটবড় দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে টেম্পো, অটো রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বাইসাইকেল আরোহীরা।  

[৩] স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর ভূট্টা ও বোরো মৌসুম (মে-জুন) এই দু’মাস সড়কটি সড়কের আশপাশের গ্রামের কৃষকদের দখলে থাকে। সড়কটির ফুলবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে গত বছর ১৫ থেকে ২০ জন দুর্ঘটনায় হরাহতের শিকার হয়েছেন। এ বছর এক মাসে ১৫ থেকে ১৭ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩ জন নিহত ও অন্তত ১৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক

[৪] সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ী থেকে মধ্যপাড়া পর্যন্ত অন্তত ১৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে দলদলিয়া ডাঙ্গাপাড়া, মহেষপুর, তেতুলিয়া, চিলাপাড়া, ভাগলপুর, ভালকা জয়পুর, মহিষবাতান, রসুলপুরসহ প্রায় ১০ গ্রামের কৃষকেরা পুরো সড়কটি দখলে নিয়ে মাঠ থেকে ধান কেটে মহাসড়কের ওপর পালা করে যন্ত্র দিয়ে ধান মাড়াই করছেন। ধান মাড়াই শেষে সড়কজুড়ে  ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। এতে বিশাল প্রশস্তের মহাসড়কটি এখন সরু সড়কে পরিণত হওয়ায় সেই সরু সড়কের ফাঁক ফোঁকড় দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে ছোটবড় যানবাহন। শুধু এই মহাসড়কেই নয়, উপজেলার প্রায় প্রতিটি সড়ক ও মহাসড়কেই চলছে ধান ও ভুট্ট মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ।  

[৫] জিয়ার মোড় নামক স্থানের কৃষক নূরল ইসলাম বলেন, আগেরমত বাড়ীর সামনে ফাঁকা জায়গা ফেলে রাখে না মানুষজন। ফলে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর জায়গার অভাবে বাধ্য হয়েই মহাসড়কের ওপরই ধান-ভূট্ট মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ করতে হচ্ছে। 

[৬] মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনির ঠিকাদার শাহিন হোসেন, বিপুল চৌধুরী ও শিবলী সাদিক বলেন, ব্যবসায়ীক কাজে দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার ফুলবাড়ী থেকে মোটরসাইকেলে মধ্যপাড়া পাথরখনিতে যাতায়াত করতে হয়। মহাসড়কের বর্তমান অবস্থার কারণে বাড়ী থেকে বের হলে মনে হয় না যে, সুস্থ অবস্থায় বাড়ী ফিরতে পারবেন কী না! 

[৭] মাইক্রোবাস চালক সঞ্জিত প্রসাদ, মাহাবুব আলম ও জাকির হোসেন বলেন, এ মহাসড়কটিতে ধানকাটা মাড়াই মৌসুমে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।

[৮] মধ্যপাড়া পাথরখনির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে সড়কটিতে ধান ও ভুট্টা মাড়াই ও শুকানোর কাজ করায় চরম আতঙ্ক ও উৎন্ঠার মধ্যে গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

[৯] উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শুধু মহাসড়কেই নয়, আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও যেন কেউ ধান ও ভুট্টা মাড়াই ও শুকাতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 
[১০] দিনাজপুর সড়ক ও জনপথনের বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনসুরুল আজিজের তার দাপ্তারিক মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়