শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২২, ০৫:০৮ বিকাল
আপডেট : ২৬ মে, ২০২২, ০৫:০৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন বেতন -ভাতা না পাওয়ায়

অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সাভারের এমএইচভিদের

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য মপ্লেক্সে

রাকিবুল রিফাত : [২] করোনাকালীন সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে সাভারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএইচভিরা।  কিন্তু সামনের সারি থেকে কাজ করেও বেতন না পাওয়াসহ  নানাভাবে বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদের।

[৩] যেমনটা অভিযোগ করে বলেছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার (এমএইচভি) । তিনি বলেন, মানুষের জন্য ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে পারায় আনন্দ তারা কিন্তু দশ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না যা কাজের মনোভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছি। 

[৪] সারাদেশে গ্রামীন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু  হয় ১৯৯৮ সালে সংখ্যায় যা এখন ১৪ হাজারের বেশি। ক্লিনিক পর্যায়ে সেবাকে আরোও ত্বরাণিত করতে দেশের অধিকাংশ   ক্লিনিকে ৫-৭ জন করে  ৩ হাজার ৬০০ টাকা ভাতা হারে নিয়োগ দেওয়া হয় কিছু স্বেচ্ছাসেবক যা উল্লেখ করা হয় এমএইচভি হিসেবে।  সম্প্রতি ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে নতুন করে ২৬ জেলার ৮৭ টি উপজেলায় এমএইচভি নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

[৫] এরই ধারাবাহিকতায় সাভারের ৩৭ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ শুরু করে ২২৫ জন এমএইচভি।  তবে দীর্ঘ সময় বেতন ভাতা পরিশোধ না হওয়ায় অনেকেই আগ্রহ হারিয়েছে কাজ থেকে।

 [৬] করোনার শুরু থেকেই টিকা প্রদান ও চিকিৎসা সেবায় দেশব্যাপী সুনাম কুড়িয়েছে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
উপজেলা পর্যায়ে টিকা প্রদান এবং জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের দিক দিয়ে পৃথক ভাবে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছে প্রতিষ্ঠানটি। 

[৭] এক্ষেত্রে তৃণমুল পর্যায়ে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকা প্রদানে ভুমিকা রেখেছে এমএইচভিরা। কিন্তু তাতে আলাদা কোনও ভাতা পায়নি তারা।  

[৮] আয়তনে সাভারের বড় ইউনিয়ন শিমুলিয়া ইউনিয়নে একজন এমএইচভি জানান, আমরা সাভারে গিয়ে উপজেলা পর্যায়ে টিকা ক্যাম্পেইন এ অংশগ্রহণ করেছি,  ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা ক্যাম্পেইন এ অংশগ্রহণ করেছি এছাড়া নিজ ক্লিনিকে তো সর্বদাই থেকেছি কিন্তু আমরা কোন যাতায়াত ভাতা বা অন্য কোন ভাতা পাইনি। ১০ মাস যাবত নিজ অর্থ খরচ করে আমরা দায়িত্ব পালন করেছি কিন্তু এখনো বেতন পাইনি। শিমুলিয়ার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের  সিএইচসিপি জানান এমএইচভিরা শুরু থেকেই নামমাত্র পারিশ্রমিকের  বিনিময়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে আসছে যদিও বেশ কিছু দিন যাবত অর্থ না পাওয়ায় তারা আগের মত গুরুত্ব দিচ্ছে না।

[৯] মুলত, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া ও প্রতিটি পরিবারের জন্য গর্ভবতী মা, রোগের তালিকা, খানার সংখ্যা, পরিবারে আয়ের পরিমাণ ও সদস্য সংখ্যার এপস ভিত্তিক  তথ্য সংগ্রহ করাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিক্ষামুলক সচেতনতা বাড়ানোই এমএইভভিদের কাজ। কিন্তু সঠিক নির্দেশনা ও সমন্বয় না থাকায় মুল কাজ থেকে তারা পিছিয়ে। এছাড়া  কাজে সম্বনয়ের অভাব থাকায় স্বাস্থ্য সহকারী ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের নির্ধারিত কাজ এমএইচভি দিয়ে করিয়ে নেওয়া এবং এমএইচভিদের বেতন সিএইচসিপিরা কেটে নেওয়ার  অভিযোগ রয়েছে। 

[১০] সার্বিক বিষয় নিয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা জানান,  এটি  একটি প্রজেক্ট,  প্রজেক্টের বিষয়গুলো এরকম হতে পারে  এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখে। যেহেতু এটি কোন সরকারী চাকুরী নয় সেজন্য তাদের বেতন নয় ভাতা প্রদান করা  হয়। তিনি আরো জানান পরবর্তী সময়ে এমএইচভিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজের ওপর নির্ভর করে ভাতা দেওয়া হবে। তাছাড়া তাদের চাকুরী সরকারি করার কোনো সম্ভাবনা নেই। উপজেলা পর্যায়ে  এমএইচভিদের ভাতা এসেছে এবং তা দ্রুতই হস্তান্তর করা হবে। সম্পাদনা  : জেরিন 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়