শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২২, ০১:০৪ রাত
আপডেট : ২৬ মে, ২০২২, ১২:০৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানিকগঞ্জের চেয়ারম্যানকে মারধর, প্যানেল মেয়র গ্রেপ্তার

পৌরসভার প্যানেল মেয়র আব্দুর রাজ্জাক রাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলকে মারধরের অভিযোগে পৌরসভার প্যানেল মেয়র আব্দুর রাজ্জাক রাজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ মে) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদে মাসিক সমন্বয় সভা চলাকালে এই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা।

তিনি বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করেন ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাত পৌনে নয়টা দিকে ৩৩২/৩৫৩/৩০৭/৫০৬ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, জেলা যুবলীগের আহবায়ক রাজার সাথে আমার পূর্ব বিরোধ রয়েছে। সভা চলাকালে আমি আমার বক্তব্যে আমার ইউনিয়নের নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরার সময় রাজা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে তিনি আমার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা চেষ্টা করেন। এছাড়া, কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। উপস্থিত কয়েকজন আমাকে তার হাত থেকে রক্ষা করেন। আমাকে পরে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমি এর চিার চাই।

সভায় উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল ১০টা থেকে সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় শুরু হয়। ওই সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসরাফিল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং ইউপি চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। সমন্বয় সভা শেষে বেলা দেড়টার দিকে খাবারের বিরতির সময় আব্দুর রাজ্জাক রাজার সঙ্গে আবদুল জলিলের তর্কবিতর্কের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে প্যানেল মেয়র সভায় উপস্থিত লোকজনের সামনেই জলিলকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খবর দিয়ে পুলিশ প্যানেল মেয়রকে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সভায় উপস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ইসরাফিল হোসেন বলেন, সরকারি এমন একটি সভায় একজন প্রতিনিধি হয়ে অপর জনপ্রতিনিধির গায়ে হাত তুলতে পারেন না। একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ অনভিপ্রেত এবং দুঃখজনক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, সভা শেষে খাবার জন্য সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আমি হাত ধোয়ার জন্য বাইরে যাই। কিছুক্ষণ পরে এসে আমি এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি। সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশকে খবর দেই।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেন, তার ইউনিয়নে ডিস ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা নেওয়া বন্ধ করার পর থেকে প্যানেল মেয়র তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এর জের ধরে মাসিক সমন্বয় সভায় সবার সামনে তাকে প্যানেল মেয়র চড়-থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে তিনি প্যানেল মেয়রকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতিবাচক কথা বলায় আমি চেয়ারম্যানকে সর্তক করেছি। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে অপমানজনক কথা বলেন। এর প্রতিবাদ করায় ইউপি চেয়ারম্যান উল্টো আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। আমি তাকে মারধর করিনি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রউফ সরকার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্যানেল মেয়রকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল প্যানেল মেয়র আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এ দিকে আব্দুর রাজ্জাকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ সন্ধ্যায় জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তার অনুসারীরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়