শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২২, ০১:৫৫ দুপুর
আপডেট : ২৪ মে, ২০২২, ০১:৫৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পটুয়াখালীতে এবার হাজার কোটি টাকার মুগ ডাল ঘরে তুলবে কৃষকরা

মুগ ডাল

মুজাহিদ প্রিন্স : [২] দেশের ৬০ ভাগ মুগডাল উৎপাদনকারী জেলা পটুয়াখালীতে চলতি বছরেও মুগ ডালের বাম্পার হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে তাই মুগডাল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষক-কিষানীরা। 

[৩] ইতিমধ্যে ক্ষেতের প্রায় ৯৫ ভাগ ডাল সংগ্রহ করা হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ডালের কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এ বছর জেলায় এ বছর জেলায়  ৮৬ হাজার ৪৩১ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের  মুগের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে এক লক্ষ ৩১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন।
 
[৪] জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জানায়, জেলার মোট ৮টি উপজেলায় চলতি বছরে ৮৬ হাজার ৪৩১ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের  মুগের আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১৭ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে মুগ ফসলের আবাদ হয়েছে। এছাড়া বাউফল উপজেলায় ১৬ হাজার ১৪১ হেক্টর, গলাচিপায় ১৫ হাজার ৫০০ হেক্টর, কলাপাড়ায় তিন হাজার ৫৮০ হেক্টর, দশমিনায় ১২ হাজার ৪৬২ হেক্টর, মির্জাগঞ্জে  চার হাজার ৯৮৫ হেক্টর, দুমকিতে তিন হাজার ৮৫০ হেক্টর এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে মুগ ফসলের আবাদ হয়েছে। 

[৫] বোররার সকালে (২২মে) সরেজমিনে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বশাক বাজার,বল্লভপুর, শারিকখালী, আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা,পঁচাকোড়ালিয়া,মোল্লা স্ট্যান্ড ও বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালি ও  বদরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়. নারী-পুরুষ-শিশুরা ক্ষেত থেকে  মুগ ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অশনির প্রভাবে টনা বৃষ্টিপাতের ফলে কিছু ডাল ক্ষেতে নষ্ট হয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে। বৃষ্টির আগে দ্রুত মুগ ফসল  ঘরে তুলতে না পারলে ডাল নষ্ট হতে পারে এই আশংকায় বাড়ির সকল নারী-পুরুষ ও শিশুরা মিলে ডাল তুলতে ক্ষেতে নেমেছে।  

[৬] আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পঁচাকোড়ালিয়া গ্রামের কৃষানী আলেয়া বেগম(৪২) জানান, তাদের গ্রামের কৃষক পরিবারের নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে  খুব ভোরে এবং বিকেলে দল বেঁধে মুগ ডাল তুলতে মাঠে নামেন। ডাল তোলার শ্রমিক সংকট থাকার কারনে তারা নিজেরাই দল বেঁধে ডাল তুলছেন। আবার তাদের নারী ও শিশুদের অনেকে অন্যের ডাল তুলে দিয়ে সেখান থেকে ভালো একটা আয়ের পথ পেয়েছেন।

[৭] স্থানীয় কৃষক মো.ফজলু চৌকিদার(৪৫), মো.আনোয়ার আকন(৫০)সহ একাধিক কৃষক জানান, মুগ ফসল আবাদে খরচ কম এবং ফসলের দাম পাওয়া যায় ভালো। এ বছর মো.ফজলু চৌকিদার ৫ একর  এবং মো.আনোয়ার আকন ৩ একর জমিতে মুগ ফসলের আবাদ করেছেন। 

[৮] কৃষক মো.ফজলু চৌকিদার জানান,তার ৫ একর জমিতে ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। যে ফসল তিনি তুলেছেন তাতে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো জানান,ডাল তোলার কোনো মেশিন নেই। সমস্ত ডাল একটা একটা করে হাতে তুলতে হয়। একই সময় সবার ডাল পেকে যাওয়ায় শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই  ডাল তুলতে গ্রামের নারী ও শিশুদের সহযোগিতা নিতে হয়। ডাল তোলার ওপর ভাগ পায় তারা। যদি ডাল তোলার মেশিন থাকতো তাহলে কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হতো বলে দাবি তার।

[৯] জেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মুগ ফসল তোলার কাজে প্রায় দুই মাস গ্রামের দরিদ্র নারীদের ব্যাপক কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই কাজে নারীরাই বেশি পরদর্শী হয়। পটুয়াখালী অঞ্চলে সাধারণত তিন বার ক্ষেত থেকে ডাল তোলা হয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় নারী শ্রমিকরা আহরিত ডালের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পায়, দ্বিতীয় দফায় তিন ভাগের এক ভাগ ও শেষ দফায় দুই ভাগের এক ভাগ নিয়ে থাকে। কৃষি বিভাগ থেকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকতেই থাকতেই ক্ষেত থেকে মুগ ফসল তুলতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা । ইতিমধ্যে জেলার আবাদকৃত মুগ ফসলের ৯৫ ভাগ তোলা হয়েছে  বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

[১০] পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক এ,কে,এম মহিউদ্দিন জানান, জেলায় প্রতিবছরই মুডগালের বাম্পার ফলন হচ্ছে। আমন ফসল ওঠার পরই পরই জমি চাষ দিয়ে মুগের বীজ বপন করে কৃষকরা। স্বল্প পরিশ্রম ও ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকরা মুগ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তিনি জানান,বাম্পার ফলন হওয়ায় গত ৯ মে কৃষি মন্ত্রী ড.আবদুর রাজ্জাক মুগ ফসল দেখতে পটুয়াখালী এসেছিলেন। বদরপুর ও কালিকাপুরে তিনি দুটি মুগ ডালের ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন।

[১১] তিনি জানান, মুগ ফসল আবাদে কৃষক সবদিক থেকে লাভবান হচ্ছে। বিশেষ করে মুগ ফসল আবাদের ফলে গাছের শিকরে রাইজরিয়াম নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারনে  ক্ষেতের মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে পরবর্তী আবাদে কৃষকের রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেকাংশে কমে যাচ্ছে।

[১২] পটুয়াখালী অঞ্চলে বারি-৩ ও বারি ৬ জাতের মুগের আবাদ বেশী হচ্ছে। এ জাত দুটোতে ফসল তিনবার তুলতে হয়। কৃষি বিভাগ উৎপাদন আরো বাড়াতে আগামী বছর থেকে সারিবদ্ধ ভাবে মুগ চাষে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। সারিবদ্ধভাবে মুগ চাষ হলে উৎপাদন আরো শতকরা ১৫ ভাগ বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি। সারিববদ্ধভাবে মুগ চাষে যারা আগ্রহী হবে তাদের সরকারি ভর্তুকিতে আদুনিক মেশিনের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে জানান তিনি। ঘূর্ণিঝড় অশনিতে  মাত্র এক হাজার ১৬০ মেট্রিকটন ডাল ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার।

[১৩] তিনি জানান, অনুকূল আবহাওয়া,সার-কীটনাশকের সহজলভ্যতা ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শের কারনে উৎপাদন এবার দেড় লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমান বাজার মূল্য পাইকারী প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে বিক্রি করলে প্রায় হাজার কোটি টাকার মুগ ডাল এ জেলার কৃষকরা বিক্রি করবে বলে দাবি করেন তিনি। সম্পাদনা : জেরিন 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়