শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২২, ০৬:০৮ বিকাল
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২, ০৬:৩৫ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুষ্টিয়ায় যুবজোট নেতা খুন, আ.লীগ নেতাকে আসামি করে মামলা 

ফয়সাল চৌধুরী : [২] কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে জাতীয় যুব জোট ( জাসদ) উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান ওরফে সালামকে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

[৩] শুক্রবার (১৩ মে) নিহত সালামের বাবা এনামুল হক বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এ ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবীদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

[৪] পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের জুন মাসে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকায় কথিত তাছের পীরের দরবারে এক তরুণ খুন হন। ওই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন সালাম। এ নিয়ে তার সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের বিরোধ ছিল। জামিনে তিনি এলাকায় ছিলেন। এরপর গত বছর ওই পীরের দরবারে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব নিয়ে হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরীর সঙ্গে সালামের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

[৫] গত বুধবার (১১ মে) রাত ১১টার দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি টোকেন চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সালামের ওপর হামলা চালায়। তারা সালামকে কোপায় ও হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

[৬] থানা সূত্রে জানা য়ায়, মাহবুব খান ওরফে সালামকে (৪০) হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর ছোট ভাই হোগলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা সেলিম চৌধুরী, তার ভাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বুলবুল আহমেদ টোকন চৌধুরী, ভাতিজা তুষন চৌধুরী, আসাদুজ্জামান লোটন চৌধুরী ও ভাইয়ের জামাই স্বপনসহ ২২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মজিবুল, সোহানুর রহমান ও মেহেদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

[৭] মাহবুবের চাচাতো ভাই আহসান হাবীব  জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়। মামলায় ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে ২২ জনকে। অজ্ঞাতনামা আসামি আরও আট-নয়জন। প্রধান আসামি করা হয়েছে সেলিম চৌধুরীকে। ২ নম্বর আসামি তাঁরই ছোট ভাই বুলবুল আহমেদ ওরফে টোকেন চৌধুরী।

[৮] মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলায় সেলিম চৌধুরীর পরিবারের ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সেলিম দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, তাঁর ভাই বুলবুল আহমেদ দৌলতপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও আসাদুজ্জামান উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাঁদের বড় ভাই কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী। এ ছাড়া একই আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ছেলে শিশির মোল্লাকেও আসামি করা হয়েছে।

[৯] দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবীদ হাসান  বলেন, নিহত সালামের বাবা বাদী হয়ে ২২ জনের উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক তিনজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নাজিবুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও সোহান। বাকিরা পলাতক। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের ধরতে মাঠে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সম্পাদনা : জেরিন

  • সর্বশেষ