শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২২, ০৪:২২ দুপুর
আপডেট : ০৫ আগস্ট, ২০২২, ০৪:২২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শখের ড্রাগন ফল চাষে বাহার মোল্লার ভাগ্য বদল

শখের ড্রাগন ফল চাষে বাহার মোল্লার ভাগ্য বদল

জহিরুল ইসলাম : ড্রাগন মূলত বিদেশি ফল হলেও এটি এখন সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই আবাদ হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে একসময় ড্রাগন ফল অনেকটাই অপরিচিত থাকলেও এখন সবার কাছেই পরিচিত নাম। দেশের বিভিন্ন জেলায় কমবেশি ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষিজীবী। 

জমিতে ধান, সয়াবিন ও সবজির পাশাপাশি কেউ কেউ অনান্য রবি শস্য চাষ করেন। তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রম মো. বাহার মোল্লা। তিনি হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। শখের বসে চাষ করছেন ড্রাগন ফল। বাহার মোল্লার শখের বসে করা ড্রাগন ফলের বাগান বর্তমানে রূপ নিয়েছে বাণিজ্যিক বাগানে। চলতি মৌসুমে এ বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন বাগান মালিক মো. বাহার মোল্লা। এরই মধ্যে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রিও শুরু করেছেন তিনি। রসালো ও সুস্বাদু এ ফলটির চাহিদা রয়েছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে। 

এই জেলার ড্রাগনের আবাদ তেমন একটা না থায় এই বাগানটি দৃষ্টি কেড়েছে সবার। সারি সারি ড্রাগন গাছে থোকায় থোকায় শোভা পাচ্ছে লাল রঙের ড্রাগন ফল। দেখে সকলেরই চোখ জুড়িয়ে যায়। ছোট-বড় সবার কাছে সুস্বাদু ও লোভনীয় এই ড্রাগন ফল নিতে এবং বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন ছুটছেন বাহার মোল্লার বাগানে। এদিকে অল্প পুঁজিতে ড্রাগন চাষ লাভজনক হওয়ায় বাগান মালিক এ ফলের বাগান ছড়িয়ে দিতে চান জেলার সর্বত্র।  

জানা গেছে, কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরকাদিরা গ্রামে লতিফ এগ্রো কমপ্লেক্স এ্যান্ড ফিশারিজের মালিক বাহার মোল্লা তার এগ্রো কমপ্লেক্সের ভেতরে দুই একর জমিতে শখের বসে ২০১৮ সালে গড়ে তোলেন ড্রাগন ফলের বাগান। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চার বছরের ব্যবধানে সে বাগান এখন লাভজনক বাগানে পরিণত হয়েছে। বাগান থেকে চারা বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে বাগান মালিকের।   

বাগান মালিক বাহার মোল্লার বলেন, ২০১৮ সালে আমি নাটোর জেলায় ঘুরতে যাই। সেখানে ড্রাগনের একটি বাগান দেখে আমার মধ্যে ড্রাগন ফলের বাগান করার ইচ্ছে জাগে। ৯০ হাজার টাকা দিয়ে আমি সেখান থেকে এক হাজার চারা আনি। দুই একর জমিতে ৫৮০টি পিলারের মধ্যে চারাগুলো রোপণ করি। বাগান তৈরিতে জৈব সার এবং সামান্য কিছু অনান্য সার ব্যবহার করি। এতে ছয়-সাত লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। এক বছরের মাথায় গাছে ফল আসা শুরু করে। গত বছর দুই লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি। আশা করছি, চলতি মৌসুমে ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারব। প্রতিটি গাছ থেকে টানা ৪০ বছর ফল সংগ্রহ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ সার, ওষুধ এবং পরিচর্যা ছাড়া তেমন কোনো খরচ হবে না।  

তিনি আরও বলেন, বাগান তৈরিতে যে টাকা ব্যয় হয়, তা তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উঠে যায়। এছাড়া বাগান থেকে চারা তৈরি করা যায়। প্রতিটি চারা ৩০ টাকা করে বিক্রি করি। এখান থেকে চারা নিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বাগান গড়ে উঠেছে। আর জেলার মধ্যে এটিই সবচয়ে বড় বাগান।  

শখের বসে বাগান শুরু করলেও কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে আরও দুটি বাগান তৈরি করেছেন তিনি। সেগুলো থেকেও ফল দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতি হাটবারে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে স্থানীয় হাটেই প্রতি কেজি ৩০০ টাকা করে বিক্রি করি।

বাগান মালিক বাহার মোল্লার আশা, ড্রাগন বাগান জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের মাটিতে বিদেশি এ ফলের বিপ্লব ঘটানো যাবে। এতে করে ফলটির নতুন করে বাজার তৈরি হবে। পুষ্টিকর এ ফলটি অল্প টাকায় কিনতে পারবে ক্রেতারা।  

বাগান দেখতে ও ড্রাগন ফল ক্রয় করতে আসা আবুল হোসেন, ফিরোজ উদ্দিন ও নাজমুল হোসেন বলেন, আগেও আমরা ড্রাগন ফল খেয়েছি। তবে এ বাগানের ফল অত্যন্ত রসালো ও সুস্বাদু। বাগানটি আমাদের সবার দৃষ্টি কেড়েছে। সারি সারি ড্রাগন গাছে থোকায় থোকায় শোভা পাচ্ছে লাল রঙের ড্রাগন ফল। দেখে চোখ জুড়িয়ে য়ায়। সুস্বাদু ও লোভনীয় এই ড্রাগন ফল নিতে এবং বাগান দেখতে আমাদের আসা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, ড্রাগন দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে জন্ম নেওয়া লতানো ক্যাকটাস গাছের ফল। বর্তমানে থাইল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের উপযোগী। বাহার মোল্লার ড্রাগন ফলের বাগানে আমাদের একটি প্রদর্শনী আছে। আমরা সার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি। অল্প সময়ে বাগানে ফল আসা শুরু করে, তাই এটি লাভজনক। তবে বেশি পরিমাণে বাগান তৈরি হলে হয়তো ড্রাগন ফলের দাম কমে যাবে। 

বিভিন্ন সময়ে এখন বাজারে ড্রাগন ফল দেখতে পাওয়া যায়। তবে শীতকালে এ ফল পাওয়া যায় না। শীতের মৌসুমে ড্রাগনের ফুল ফুটলেও ফল হয় না। তবে বাগানকে আলোকিত রাখা হলে শীতকালেও গাছে ফল আসে। তাই কৃত্রিমভাবে শীতকালের রাতে বাগানে লাইটের আলো দেওয়া হলে ফল ধরবে। আমরা বাগান মালিকদের সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

 

 


 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়