শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২২, ০৪:৪৯ দুপুর
আপডেট : ০৭ জুলাই, ২০২২, ০৭:১৩ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দাম বেশি হলেও বেচা কেনার ধুম

ভোলায় জমে উঠেছে পশুর হাট

ভোলায় জমে উঠেছে পশুর হাট

ফরহাদ হোসেন : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জমে ওঠেছে ভোলার কুরবানীর পশুর হাট। দাম বেশি হলেও কেনা-বেচার ধুম চলছে বাজারগুলোতে। ঈদের সময় যতই নিকটে আসছে ততই বাজারগুলোতে বেচা-কেনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তবে ক্রেতাদের দাবি গত বছরের তুলনায় এবছর গরুর দাম দুই-তিন গুন বেশী চাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বেশী থাকায় গরু লালনপালনে তাদের খরচ বেশী হয়েছে। সরেজমিনে ভোলা সদরের বিভিন্ন গরুর হাটে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এবছর কুরবানী ঈদ উপলক্ষে ৯৩টি স্থায়ী ও ৩৯টি অস্থায়ী পশুরহাট বসেছে। এর মধ্যে সদরে ১৫টি, দৌলতখানে ৬টি, বোরাহনউদ্দিনে ১২টি, তজুমদ্দিনে ৫টি, লালমোহনে ২৬টি, চরফ্যাশনে ২২টি ও মনপুরায় ৭টি। এছাড়াও জেলা ও সাত উপজেলার প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আরো ৮টি অনলাইন পশুর হাট রয়েছে। এ হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মোট ২১টি ভেটেনারী মেডিকেল টিম কাজ করছে। ভোলায় কুরবানীর জন্য বিভিন্ন খামারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে মোট এক লক্ষ তিন হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু ৫৫ হাজার ৮৭০টি, মহিষ ৮৫০টি, ছাগল ৪৪হাজার ৯৩০টি ও ভেড়া এক হাজার ৩৫০টি। তবে ভোলায় এ বছর পশুর চাহিদা রয়েছে ৯৭হাজার ৫০০টি। চাহিদার চেয়ে পাঁচ হাজার ৫০০টি পশু বেশী রয়েছে।

গত বছর ভোলা ৮টি অনলাইন পশুর হাটে এক হাজার ৫৫টি পশু বিক্রি হয়েছে। এর দাম হয়েছে সাড়ে আট কোটি টাকা। এবছর গত তিন দিনে এ ৮টি অনলাইন পশুর হাটে ১৬২টি পশু বিক্রি হয়েছে। তবে এ বছর অনলাইনের চেয়ে সাধারণ বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশী।

সদর উপজেলার ইলিশার হাটে গরু বিক্রি করতে আসা পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চরপাতা গ্রামের মো. কাঞ্চন বলেন, তিনি একটি গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। গরুর দাম দিয়েছেন এক লক্ষ ৭০হাজার টাকা। তবে ক্রেতারা এক লক্ষ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দাম বলে চলে যাচ্ছেন।
 
একই হাটে গরু নিয়ে আসা রাজাপুর ইউনিয়নের ২ নাম্বার ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মো. কামাল জানান, তিনি দুইটি গরু নিয়ে হাটে আসছেন। একটি এক লক্ষ ১২হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আর যেটা আছে সেটার দাম দিচ্ছেন দুই লক্ষ ২০হাজার টাকা। ক্রেতারা দাম বলছেন এক লক্ষ ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তবে দুই লাখ টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন। তিনি আরো জানান, এবছর গো-খাদ্যের দাম বেশী থাকায় গরু লালন-পালন করতে খরচ বেশী হয়েছে। তাই গরুর দামও বেশী।

পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চর ইলিশা গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা মো. আবু তাহের বলেন, হাটে গরুর দাম বেশী থাকায় গরু কিনতে পারেন নাই। আশা করছেন আগামী হাটে গরুর দাম কম হবে।
 একই বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা মো. সিরাজ মাতাব্বর জানান, তিনি গত বছর দুইটি গরু কিনে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করেছেন। এখন ঈদ উপলক্ষে গরু দুইটি বিক্রি করতে বাজারে এনেছেন। তবে চাহিদার চেয়ে ক্রেতারা দাম কম বলেছেন। তাই তিনি বিক্রি করছেন না।

ইলিশা বাজারের গরুর হাটের ইজারাদার সোহরাওয়ার্দী বলেন, হাটে এখনো তেমন বেচা-কেনা হচ্ছে না। বিক্রেতা পশুর দাম চাচ্ছেন দ্বিগুন আর ক্রেতারাও দামাদামি করছেন। তবে দুই এক দিনের মধ্যে পুরোদমে বেচা-কেনা শুরু হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, এবছর কুরবানীর জন্য দুই হাজার ৪৪৫টি বাণিজ্যিক খামার ও ১৮ হাজার পারিবারিক খামারে এক লক্ষ তিন হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ভোলায় চাহিদা রয়েছে ৯৭ হাজার ৫০০টি। কুরবানী উপলক্ষে জেলায় ৯৩টি স্থায়ী ও ৩৯টি অস্থায়ী হাট বসেছে। এছাড়াও অনলাইনে আটটি পেইজের মাধ্যমে অনলাইনে পশু বিক্রির সুযোগ রয়েছে। পেইজগুলোতে ইতোমধ্যে আট হাজার ৫০০টি পোস্ট কার হয়েছে। এর মধ্যে ১৬২টি পশু বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও কুরবানীর হাটগুলোতে ২১টি ভেটেনারী মেডিকেল টিম কাজ করছে। যাতে করে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিগ্নে পশু বেচা-কেনা করতেন পারেন সে জন্য সকল প্রকার সহযোগীতা করা হচ্ছে।

সদর থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, কুরবানির পশুর হাটের ক্রেতা বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সর্তক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বাজারে টহল পুলিশ রয়েছে বলেও জানান ওসি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়