শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০৭:৪৬ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০৭:৪৬ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মুরাদনগরে নৌকার চাহিদা বেড়েছে

মুরাদনগরে নৌকার চাহিদা বেড়েছে

এম কে আই জাবেদ : বর্ষার শুরুতেই কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর ও ডুমুরিয়া বাজারে এখন নৌকা বিক্রির অনেকটা ধুম পরেছে। বর্ষাকালে নদীতে পাল তোলা নৌকা চোখে কম পড়লেও কোষা নৌকা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছে। প্রাচীন কাল থেকে কোষা নৌকা হাটের জন্য বড় বাজার হিসাবে রামচন্দ্রপুর বাজার বেশ প্রসিদ্ধ। গত বছরের তুলনায় কাঠের দাম বেশি হওয়ায় এবার নৌকার মূল্য একটু বেশি হলেও। জমে উঠেছে নৌকা বিক্রির পালা।

মুরাদনগর সহ পার্শ্ববর্তী হোমনা, মেঘনা, দাউদকান্দি, তিতাস, বাঞ্চারামপুর ও নবীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের যোগাযোগের একমাত্র বাহন এই কোষা নৌকা। কৃষকেরা গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটা, বর্ষা মৌসুমে চলাচল, জীবন জীবিকা, পরিবহনের প্রধান বাহন ছাড়া ও দৈনন্দিন নানা রকম কাজ কর্মে এই কোষা নৌকার ব্যবহার করে থাকে। 

বর্তমানে সড়ক পথের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও  জল পথে কোষা নৌকার চাহিদার এখনো রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাঠ মিস্ত্রিদের তেমন কাজ না থাকায় মুরাদনগর উপজেলার কৈজুরী, পাঁচকিত্তা ও তিতাস উপজেলার মেলামচর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে কোষা নৌকা তৈরির  ব্যস্ত সময় পার করছেন। ক্রেতা সাধারণেরা এবার কোষা নৌকার দাম গত বছরের চেয়ে বেশি বলে দরিদ্ররা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

একজন নৌকা বিক্রেতা জানান, ৩জন থেকে ৮/১০ জন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম বিভিন্ন কাঠের গুণগতমানের ভিত্তিতে ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা দামে পর্যন্ত নৌকা বিক্রি করে থাকেন। মুরাদনগর উপজেলার প্রায় ২শত বছরের প্রাচীন রামচন্দ্রপুর বাজারে প্রতি মঙ্গলবার নৌকার হাট বসে এবং একই উপজেলার ডুমুরিয়া বাজারে রবিবার ও বৃহস্পতিবারে নৌকার হাট বসে।  উন্নত মানের কাঠের নতুন একটি নৌকা প্রায় ২/৪ বর্ষা মৌসুম পর্যন্ত মেরামত করে ব্যবহার করা যায়। এবার এই এলাকাগুলোতে বর্ষার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা চড়া দাম দিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে কোষা নৌকা কিনে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করছেন। 

মুরাদনগরসহ পাশ্ববর্তী ৬টি উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যষিত অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে মাছ শিকার করা, পণ্য পরিবহন ও যাতায়তের জন্য এই নৌকার উপর অনেকটা নির্ভরশীল থাকেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়