শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২২, ০৬:১৬ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুলাই, ২০২২, ০৬:১৬ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

ফরহাদ আমিন : কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরের ৬ মাসে এই আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু হয়েছে এক কন্যা শিশুর।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মো.মোমিনুর রহমান জানান, জুন মাসে মোট ৮৯জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৫ জন ভর্তি রয়েছে। যার মধ্যে ১১জন রোহিঙ্গা ।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা.আশিকুর রহমান জানান, গত ২৩ জুন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত জিসমা(৪) নামের রোহিঙ্গা এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারি ডা.তোহা ভূঁইয়া জানান, জানুয়ারি থেকে জুন মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত যে তথ্য রয়েছে যেখানে ১ হাজার ৮২১ জন রোহিঙ্গা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তার দেয়া তথ্য মতে, জানুয়ারি মাসে ১৮৪ , ফেব্রুয়ারি মাসে ৯, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৭, মে মাসে ২৩৩ রোহিঙ্গা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। চলতি জুন মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩২১ রোহিঙ্গা। 

গত মাসের ১৯ জুন থেকে শেষ ১০দিনে আক্রান্তের কোনো তথ্য কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে না থাকলে তা অন্তত ৪ শত হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য সমন্বয়কারি ডা. তোহা ভূঁইয়া।

তিনি আরো জানান, নিজেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রয়েছে বর্তমানে।  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘন বসতি। প্রতিটি ঘরে ৮ থেকে ১০জন গাদাগাদি করে থাকে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে মশা জন্মানোর সুযোগ বেশি। এ কারণে একজনের ডেঙ্গু হলে অন্যদেরও আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সচেতনতারও অভাব আছে। এখন সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানো হচ্ছে, ব্যবস্থা করা হয়েছে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষার। এ ছাড়া যেসব স্থানে পানি জমে থাকে,  সেগুলো নষ্ট করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে বিভিন্নগণ্যমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায় যে, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ছোঁয়াচে চর্মরোগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পের নারী-শিশুসহ লাখো রোহিঙ্গা স্ক্যাবিস নামক চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। অল্প জায়গায় ধারণক্ষমতার বেশি লোক বসবাসের কারণে দ্রুত ছড়াচ্ছে এ রোগ।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে এলেও প্রতিকার হচ্ছে না। এটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগসংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, ৩৩টি রোহিঙ্গা শিবিরে স্ক্যাবিস সংক্রমণের একটি মূল্যায়নের জন্য ক্যাম্পে কাজ করা স্বাস্থ্য অংশীদারদের নিয়ে জরিপ চালানো হয়। প্রাথমিক জরিপে সংক্রমণের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা স্ক্যাবিস আক্রান্ত। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বাস। সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়