শিরোনাম

প্রকাশিত : ০১ জুলাই, ২০২২, ০৪:১৮ দুপুর
আপডেট : ০১ জুলাই, ২০২২, ০৪:১৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মেয়ের উচ্চশিক্ষার আশায় সুখের স্বপ্ন দেখছেন কোহিনূর

কোহিনূর

শাহীন খন্দকার: বরিশালের পটুয়াখালী লাউকাঠি ইউনিয়ের কোহিনূর ২০ বছর আগে অভাবের তারনায় তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে চাচাতো বোনের হাত ধরে প্রথম ঢাকায় আসেন। আদাবর বাজারে কথা হলে কোহিনূর জানান ঢাকার মোহাম্মদপুর  শেখেরটেক ৭ নম্বর হারুনের বস্তিতে উঠি। সেখান থেকেই মানুষের বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ।

বিশ বছর আগে ২০০ টাকা বেতনে শুরু  হয় তার জীবন সংসার এই শহরে পথ চলা।  কোহিনূর বলেন, চাতো বোনকে ঘর ভাড়া দিতাম ৫০ টাকা বাকী ১৫০ টাকা দিয়ে তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে ভালো ই চলে যেতো কোহিনূরের সংসার। আস্তে  আস্তে মেয়ে তানজিলা রিমু বড় হয় তাকে ব্র্যাক  স্কুলে শিশু ক্লাসে ভর্তি করি। তানজিলা এবছর মীরপুর বাংলা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্নাস ভর্তি হয়েছে। ছোট মেয়ে লামিয়া আগামী বছর এসএসসি দেবে আর ছেলে প্রতিবন্ধী। 
 
কোহিনূরের এখন ৯ হাজার ৫০০ টাকায় আয়, তিনি দুই বাসায় কাজ করে এই টাকা পান।  বর্তমানে থাকেন  শেখেরটেক ৮ নম্বর বাজারের মার্কেটের ওপরে টিনের চালাঘরে। ২০০ টাকা বেতনে কোহিনূরের সংসারে প্রতি সপ্তাহে খোশ । ৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পান ঝিয়ের কাজ করে বাসা ভাড়া দিতে হয় ৪ হাজার ৭০০ টাকা। বাকি ৩ হাজার ৮০০ টাকা  থেকে দুই মেয়ের লেখাপড়া আর প্রতিবন্ধী ছেলের ঔষধ খরচ চালাতে নাভিশ্বাস হয়ে যাচ্ছে। 

কোহিনুর বলেন, প্রায় সকালে না খেয়েই কাজে যান তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বাসা বেধেছে নানা অপুষ্টিজনিত রোগ। জানালেন, এ মাসে তার পাতে মাছ মাংস উঠেছে মাত্র একবার। কোহিনুর বলেন, যে টাকা কামাই করি, বাজারে কী পাওয়া যাবে তা দিয়ে? কী খাবো? মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, আবার খাওয়া প্রতিবন্ধি পোলাডারে খাইয়ে থাকলে খাই, না থাকলে না খাই।

কোহিনূর বলেন, যতোই দিন যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি তার বেতন। সংসারের জোয়াল আর টানতে পারছি না। কোথায় যাবো কার কাছে সাহায্য চাইমু মুই ? মোর ছেরিডারে কিভাবে লেখাপড়া করাইমু ? তিনি আরো বলেন, বাসাবাড়িতে গার্মেন্সে  মাইয়া দুইখানরে কাজে দেই নাই ওরা শিক্ষিত হইবো আমার দুঃখডা দূর অইবো। এখন আর তাও অইবার নাই, তার পরেও আশা ছাড়িনি।

তিনি বলেন, যাদের সাহায্য নিয়ে এতো দূর আইছি তাদের কাছে ও এহোন আর সাহায্য চাইতে পারি না। কারন করোনাকাল থেকে সবারই এখন অর্থকস্টো চলছে। ডলারের দামের সাথে নাকি সব কিছু বেচাকেনা হবে। বাসাবাড়ির কাজ চলে গেলেন কোথায় মৈ যামু ? 

এক প্রশ্নের জবাবে কোহিনূর বলেন, প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য ও কোন সরকারি অনুদান পান নাই। মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে এক্ষেত্রে ও তিনি সরকারি কোন সাহায্য পান নাই। করোনার পর থেকে তাদেরও সহযোগিতা আর আগের মতো পাচ্ছি না। আমার মেয়ের লেখাপড়াসহ প্রতিবন্ধি ছেলের জন্য সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি। রাজধানীর বস্তিগুলোতে ঘুরলে চোখে পড়ে এমনই সব গল্প। শহুরে উচ্চ বাজারদরে খরচের লাগাম টানতে খাবার গ্রহণ কমিয়েছেন অধিকাংশই। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে বাকি সবার কথা ভাবতে গিয়ে বেশি ভুগছেন নারীরাই। ফলে হচ্ছে হাড় ও হাঁটুর ব্যথা। রয়েছে ক্যালসিয়ামেরও অভাব। 

বস্তিবাসীদের একজন বলেন, শাক-ডাল খাই তাই শরীর দুর্বল থাকে। মাংস কোথায় পাবো, টাকাই কামাই করতে পারি না। আরও একজন বলেন, ছেলে মেয়েকে খাওয়াবো নাকি নিজে খাবো? ছেলে মেয়েকে খাইয়ে থাকলে নিজে একটু খাই। 

  • সর্বশেষ