শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২২, ০১:১৩ দুপুর
আপডেট : ২৭ জুন, ২০২২, ০১:১৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভাঙন রোধের দাবিতে পদ্মা পাড়ে হাজারও মানুষের মানববন্ধন

পদ্মা পাড়ে হাজারও মানুষের মানববন্ধন

ইসমাইল হোসেন, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া): কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পদ্মা ভাঙন থেকে বাহিরচর ইউনিয়নের বার মাইল, টিকটিকিপাড়া, মুন্সিপাড়া পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে ৩ গ্রামের বাড়িঘর হুমকির মুখে। ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাজারও নারী-পুরুষ পদ্মানদীর পাড়ে বিশাল মানববন্ধন করেছে। ভয়াল পদ্মাপাড় ভাঙন রক্ষার্থে ২৬ জুন সোমবার বিকেলে গ্রামের নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধনে দাড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে জোর প্রতিবাদ জানায়।

পদ্মা পাড়ে হাজারও মানুষের মানববন্ধন

অবিলম্বে টিকটিকিপাড়া,মুন্সিপাড়া এলাকার মানুষ পদ্মানদীর ভাঙনের টেকসই সমাধান চাই। দ্রুত পদক্ষেপ, নদী ভাঙন রক্ষা করা না হলে কয়েক হাজার পরিবার বাস্তুভিটা হারা হয়ে যাবে। সেই সাথে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে ভেড়ামারা-কুষ্টিয়ার তথা উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের মহা সড়ক। জনস্বার্থে এলাকার সংসদ সদস্যসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

মসলেমপুর থেকে মুন্সিপাড়া পযন্ত প্রায় ১২ থেকে ১৫শ’ বিঘা মৌসুমী ফসলের জমি ইতোমধ্যে পদ্মানদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হয় জমি ও ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে এলাকার কৃষক মানুষগুলো। নদী শাসন এবং ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হয় এই অঞ্চলের মানুষ। হাজার হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। অস্বাভাবিক নদী ভাঙন ঠেকাতে মানুষের জীবন-জীবিকা ও অবকাঠামো কীভাবে টিকে থাকবে, সেই পরিকল্পনা নেয়ার জন্য এরাকাবাসী সরকার বাহাদুরের প্রতি জোরদাবী করেছেন।

পদ্মা পাড়ে হাজারও মানুষের মানববন্ধন

ডাঙন এরাকার মানুষ মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ১৫ দিন আগে প্রথম দফায় নদীর পানি বেড়ে যায়। গত সাত দিনই পানি অস্বাভাবীক ভাবে বেড়ে ফসলের জমি তলিয়ে যায় শুরু হয় ভাঙনের তীব্রতা। 

কৃষক শহিদুল,হাবিব,আবু বক্কার,হান্নান,মজিবর,শুকটা জানান এ পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৫শ’ পরিবারের প্রায় ১৪শ’ বিঘা জমি ভাঙনে নদীর বুকে চলে গেছে। গত সাত দিনে প্রায় ৫শ’ বিঘার জমির আউশ ধান, কলা, পেঁয়াজ, রসুন, করোলা ও সবজিসহ ফসলি জমি নদীতে ভেঙে গেছে। 

আবু হাসান জানায়, ছয়-সাত বছর ধরে এ এলাকা নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। প্রতিবছরই নদীতে চলে যাচ্ছে  ফসলি জামি। তবু ও কেউ কোন ব্যবস্থা নেয় না।

ইউপি সদস্য ফারুক বলেন, ভাঙনের বিষয়টি অত্র এলাকার  সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান এমন কি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি। ফলে ৩ গ্রামের ৫ হাজার বাড়িঘর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য  মানুষকে সাথে নিয়ে মানববন্ধন করছি।

বার মাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাসুদ করিম বলেন, বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর থেকে মুন্সীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকার ভাঙনে ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন বাড়িঘর ভাঙনে হুমকির মধ্যে। ভাঙন থেকে মাত্র দেড় শ মিটার দূরে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের বাড়িঘর। 

মানববন্ধনে স্থানীয়রা বলেন, গত ৭ দিনে পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ইতোপূর্বে আউশ ধান, কলা, পেঁয়াজ, রসুন, করলা ও সবজির মাঠ নদীতে ভেঙে গেছে। এক সপ্তাহের ভাঙনে ৫/৬শ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এর আগেও ভেঙেছে। এখন বাড়িঘর ভাঙনের মুখে। নদী এখন এক শ মিটার দুরে রয়েছে। রোধ করা না হলে সব নদী গর্ভে চলে যাবে আমরা ভিটা ছাড়া হয়ে পথে বসতে হবে। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। 

কুষ্টিয়া-২ ভেড়ামারা-মিরপুর আসনের সংসদ সদস্য জাসদ কেন্দ্রী কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনরে প্রতিনিধি জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল আলিম স্বপন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- পৌর মেয়র আনোয়ারুল কবির টুটুল, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এসএম আনসার আলী, পৌর জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বকুল, ইউনিয়ন জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান আবু, ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন, ইউপি সদস্য সফিকু ল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

প্রধান অতিথি আব্দুল আলিম স্বপন বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমাদের সংসদ সদস্য জাসদ সভাপতি হাসানুল এম মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছেন। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী পরিদর্শন করে সার্ভে করে গেছেন। আমি ভাঙন রোধে আন্দোলনকারীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। প্রধান অতিথি আব্দুল আলিম স্বপন পদ্মা থেকে অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান। 

এই ব্যাপারে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ বলেন, গত পৌষদিন সকালে নির্বাহী প্রকৌশলী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সার্ভে করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই ভাঙন রোধে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ছাড়াও ভাঙন কবলিত এলাকা নিয়ে স্টাডি চলছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়