শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২২, ০৩:৪৪ দুপুর
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২২, ০৩:৪৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউএনও’র মহানুভবতায় দেশে ফিরল ত্রিশালের নূরুল ইসলাম

রুকুনুজ্জামান সরকার রাহাদ: পরিবারের দৈন্যতা নিবারণে পিতার সহায় সম্বল শেষ করে প্রায় ১৪ বছর আগে পারি দেন মালয়েশিয়ায়। মাঝে দু’বার ছুটিতে দেশে আসলেও পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি, ৩য় বার আবারও ছুটি কাটিয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় ফিরে যান পূর্বের কর্মস্থল মালয়েশিয়ায়। এবার পিছু নেয় বিপদ, শুরু হয় কষ্টের দিনের। মালয়েশিয়ান সরকারের আইনে আটকে জেল হয় ৫ বছরের। ওই দেশের হাই কমিশনের ২য় সচিব ও ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারুজ্জামানের মহানুভবতায় অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরেছে নিজ দেশ ও পরিবারের নীড়ে।

বলছিলাম ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা দক্ষিণপাড়া গ্রামের শাহাদাত আলী শেখের ছেলে প্রবাসী মোঃ নূরুল ইসলামের কথা।


পরিবার ও ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া সরকারের আইনে পাঁচ বছরের জেল হয় নূরুল ইসলামের। বিষয়টি নজরে আসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারী (লেবার) সুমন চন্দ্র দাসের। পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে হাই কমিশনের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জায়গায় দুই বছরে একটি বিশেষ সুযোগে নূরুল ইসলামকে কারাগার থেকে মুক্ত করা সম্ভব বলে তিনি বিষয়টি ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারুজ্জামানকে অবহিত করেন।
ইউএনও আক্তারুজ্জামান গত ১৩জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউএনও ত্রিশাল আইডি থেকে নূরুল ইসলাম (৩৬) এর সন্ধ্যান চেয়ে একটি পোষ্ট করা হয়। এছাড়াও ওই পোষ্টটি ইউএনও এর সূত্রধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আলোকিত ত্রিশালসহ বেশ কিছু আইডিতে পোষ্ট করায় ভাইরাল হয় বিষয়টি। “মালয়েশিয়া প্রবাসী এই ব্যাক্তি গত ৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ার কারাগারে বন্দী আছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয় উনাকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া গ্রহন করেছে। উল্লিখিত ঠিকানায় এই ব্যাক্তির নিকটাত্মীয় স্বজনের খোজ দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হল” পোষ্টে উল্লেখ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কল্যাণে ২৪ঘন্টা পাও হওয়ার আগেই সন্ধ্যান মিলে নূরুল ইসলামে পরিবারের। গত ১৪ জুন তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও বড় ভাই আব্দুল আউয়াল আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে। জানানো হয় নূরুল ইসলামকে দেশে ফেরত আনার বিষয়টি, খোঁজ নেন নূরুল ইসলামে পারিবারের, প্রবাস জীবন সম্পর্কেও বিস্তারিত কথা বলেন ইউএনও আক্তারুজ্জামান।
প্রবাসী নূরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে বিমানের টিকিট ক্রয় করারও সাধ্য ছিল না পরিবারের। বিষয়টি উপলদ্ধি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারুজ্জামান নিজ উদ্যোগে স্থানীয়দের সহয়তায় টিকিট ক্রয় করার ব্যবস্থা করে দেন। গত ১৫ জুন বিমানের টিকিট ক্রয় করা হয় যার ফ্লাইট তারিখ হয় ২১ জুন রাত ১০টা ২০ মিনিটে (কুয়ালালামপুর) সময়। 
গত ২২ জুন নূরুল ইসলাম কুয়ালামাপুর বিমানবন্দর থেকে ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেন। প্রবাসী নূরুল ইসলাম এক স্ত্রী ও এক সন্তানের জনক বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।

নূরুল ইসলামের কারাবাস ও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এবং সবশেষ বিমানের টিকিটের ব্যবস্থার সার্বিক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে বেশ কয়েকদিন যাবত। ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারুজ্জানের মহানুভবতায় প্রসংশায় ভাসছেন তিনি। অনেকে ইউএনও ত্রিশালের এমন মহতি উদ্যোগে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওই প্রাবাসীর পাশে থাকায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। মানবতার এক উত্তম নিদর্শন বলেও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারুজ্জান বলেন, একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার খোজ নিতে পেরেছি, পরিবারের সদস্যদের সাথে সার্বিক বিষয়ে কথা বলে নূরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ পেয়েছি বলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এছাড়াও নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এ কাজটি করেছি। অনেকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করায় ইউএনও আক্তারুজ্জামান তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়