শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২২, ০২:৩০ দুপুর
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২২, ০২:৩০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ব্রাজিল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করেছে রাশিয়া : পুতিন

রাশিদুল ইসলাম : রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেন, পশ্চিমারা অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার দেশ ব্রাজিল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ‘নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের’ সাথে বাণিজ্য পুনরায় শুরু করেছে। আরটি

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে পুতিন তার উদ্বোধনী ভিডিও ভাষণে বলেন, আমরা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের, প্রধানত ব্রিকস দেশগুলোর প্রতি আমাদের বাণিজ্য প্রবাহ এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক যোগাযোগের পুনর্বিন্যাসে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত। পুতিনের মতে, রাশিয়া এবং ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য ৩৮শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বছরের প্রথম তিন মাসে বাণিজ্যের পরিমান ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পুতিন বলেন, ‘রাশিয়ার ব্যবসায়িক বৃত্ত এবং ব্রিকস দেশগুলির ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার হয়েছে।’ উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়ায় ভারতীয় চেইন স্টোর খোলার জন্য [এবং] আমাদের বাজারে চীনা গাড়ি, সরঞ্জাম এবং হার্ডওয়্যারের অংশ বিক্রি বাড়ানোর জন্য আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে রাশিয়া চীন এবং ভারতে তেল রপ্তানিও বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে যদিও তেল রপ্তানিতে মোটা ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে মস্কো।

রাশিয়া থেকে চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানি মে মাসে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে, যা সৌদি আরবকে চীনে শীর্ষ তেল সরবরাহকারী দেশ থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। পুতিন আরো বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বার্তা পাঠানোর জন্য রাশিয়ার ব্যবস্থা পাঁচটি দেশের ব্যাংকগুলিকে সংযুক্ত করার জন্য উন্মুক্ত এবং মস্কো ডলার বা ইউরোর মতো মুদ্রার ওপর নির্ভর না করে লেনদেনের নতুন উপায় খুঁজে বের করছে। ব্রিকস অংশীদারদের সাথে আমরা আন্তর্জাতিক বসতি স্থাপনের জন্য নির্ভরযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।

পুতিন তার বক্তব্যে পশ্চিমা দেশগুলোকে মুক্ত বাজারের মতো ‘বাজার অর্থনীতির মৌলিক নীতি’ উপেক্ষা করার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা সমস্ত দেশের মানুষের কল্যাণকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।’ 

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইউক্রেনে আগ্রাসনের আদেশ দেওয়ার পর থেকে অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির প্রধানদের সঙ্গে পুতিনের এ বক্তব্য প্রথম আন্তর্জাতিক ফোরামে বেইজিংয়ের মাধ্যমে আয়োজন করা হল। পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞাগুলি রাশিয়াকে বিশ্ব অর্থনীতির বড় অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং দেশটিকে গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু মস্কো রপ্তানি থেকে অর্থ উপার্জন অব্যাহত রেখেছে, বিশেষ করে জালানি শক্তির দাম বাড়ার সাথে সাথে লাভবানও হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি অনুমান করে যে মে মাসে রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

পুতিন ব্রিকসের সদস্য ব্রাজিল, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করে। বৃহস্পতিবার চীনে ব্রিকসের ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু হওয়ার আগে জোটটির বাকি সদস্যগুলোকে এ আহ্বান জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়