শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২২, ১০:৫০ দুপুর
আপডেট : ১৪ মে, ২০২২, ১১:১৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দুইয়ের বেশি সন্তান হলে সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিতের দাবি জানাল বিজেপি

রাশিদুল ইসলাম : [২] ভারতের রাজস্থানে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। এর পাশাপাশি দুইয়ের বেশি সন্তান জন্ম নিলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার দাবি উঠেছে। পারসটুডে

[৩] বৃহস্পতিবার হিন্দি গণমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’ সূত্রে প্রকাশ, বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র রামলাল শর্মা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পদের ক্ষয় ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি উদ্বেগের বিষয়। এ জন্য এখন যত দ্রুত সম্ভব দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে হবে।

[৪] শর্মা বলেছেন, যে পরিবারগুলোতে দুটির বেশি সন্তান রয়েছে তাদের সমস্ত সরকারি  প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা উচিত। প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের হোক বা রাজস্থান সরকারের হোক। এর পাশাপাশি, সরকারি ভর্তুকি প্রকল্পের সুবিধাও দুইয়ের বেশি সন্তানের পরিবারকে দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিতে ব্যারিকেড দিতে হবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, অন্যথায় আগামীদিনে আমাদের ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এই আইন প্রণয়ন করা এবং কোনো বৈষম্য ছাড়াই সমগ্র দেশে তা কার্যকর করা, যাতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় বলেও মন্তব্য করেন রাজস্থানের বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র রামলাল শর্মা।

[৫] জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের দাবি প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গের সভানেত্রী শাহাজাদী পারভীন বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, ‘এই সরকার যখন থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছে, জনগণকে অনেক বড়বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’, (সবার সঙ্গে সকলের উন্নয়ন) ‘আচ্ছে দিন’ (সুদিন) আনব ইত্যাদি  বড় বড় জুমলাবাজী (মিথ্যে প্রতিশ্রুতি) করেছিল। তারা প্রতিশ্রুতির কোনোকিছু কার্যকর  করতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছে, বিভিন্ন ক্ষেত্র বেসরকারিকরণ করছে, চাকরিবাকরি নেই। এ ছাড়া আছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মারামারি। তাদের কাছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোট মেরুকরণের রাজনীতি করছে তারা। এ সব করে ক্ষমতায় কীভাবে টিকে থাকা যায় তারা সে সবের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’  

[৬] তিনি বলেন, ‘দেশে গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গরীবদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাচ্ছে, সেদিকে নিয়ন্ত্রণের কোনও ব্যবস্থা নেই। মেয়েদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে। ধর্ষণ করে মেরে পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাট করে দেওয়া হচ্ছে। এরা কখনও ‘সিএএ’, কখনও ‘এনআরসি’, কখনও ‘এনপিআর’ কখনও সন্তান নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে। এ সব করে তারা জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে ফায়দা লুঠছে। ‘নন ইস্যু’কে ‘ইস্যু’ তৈরি করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে বলেও ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গের সভানেত্রী শাহাজাদী পারভীন মন্তব্য করেন। 

[৭] এরআগে ‘আরএসএস’ ঘনিষ্ঠ বিজেপি এমপি রাকেশ সিনহার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের পক্ষে সাফাই দিয়েছিলেন। দেশে বহুকাল ধরে দুই সন্তান নীতি চালু করার পক্ষে আরএসএস বা সঙ্ঘ পরিবার। তাদের আশঙ্কা, অবিলম্বে ওই নীতি না গ্রহণ করলে আগামীদিনে দেশে হিন্দুরাই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন। আরএসএসের নেতারা মনে করেন,  জনসংখ্যা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ দেশে সংখ্যাগুরু হয়ে পড়বে মুসলিম সমাজ। সেজন্য একমাত্র আইন করেই মুসলিম সমাজের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো সম্ভব।    

[৮] অন্যদিকে, চলতি মাসেই অখিল ভারতীয় সন্ত পরিষদের জাতীয় আহ্বায়ক এবং জুনা আখড়ার সঙ্গে যুক্ত মহামণ্ডলেশ্বর সন্ত ইয়েতি নরসিংহানন্দ সরস্বতী হিন্দুদের বেশি সংখ্যক সন্তান জন্ম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

  • সর্বশেষ