শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২২, ০২:৪২ দুপুর
আপডেট : ০৭ জুলাই, ২০২২, ১০:৪৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দলীয় প্রধানের পদ থেকে বরিস জনসনের পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীত্বও ছাড়বেন

বরিস জনসন

ইমরুল শাহেদ: বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নিজ দলের মন্ত্রী এবং সদস্যদের বিদ্রোহের মুখে কার্যত ‘একাকী ও ক্ষমতাহীন’ হয়ে পড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দলের প্রধান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আগামী শরৎকালে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তিনি। নেতা নির্বাচন করবেন কনসার্ভেটিভ পার্টির এক লাখ সদস্য। বিবিসি ও ডেইলি মেইল

বৃহস্পতিবার সকালে ২ ঘণ্টা তার মন্ত্রিসভা থেকে হেলেন হোয়াটেলি, ডামিয়ান হিন্ডস, জর্জ ফ্রিম্যান, গাই অপারম্যান, ক্রিস ফিলিপ এবং জেমস কার্টিজসহ ৮ জন পদত্যাগ করেন। ৪৮ ঘণ্টায় বরিস জনসনের মন্ত্রিসভার ৫০ জন পদত্যাগ করেছেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া রয়েছেন। সেখান থেকে সফর অসমাপ্ত রেখেই লণ্ডন ফিরছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। তিনি ছিলেন জি-২০ বৈঠকে। উল্লেখ করার বিষয় হলো, বরিস জনজনকে কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও গ্রহণ করতে কেউ সম্মত নন। সকলে চান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখনই তার পদত্যাগ। 

অন্যদিকে তিনি ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করতে শুরু করেছেন। গ্রেগ ক্লার্ক, কিট মলথাউস এবং সইলেশ ভারাকে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 

১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র বলেছে, জনসন তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে কনজারভেটিভ পার্টির ১৯২২ কমিটির চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডির সঙ্গে কথা বলেছেন। সূত্রটি বলেছে, গ্রাহাম ব্র্যাডির সঙ্গে দেড় ঘন্টা কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। অক্টোবরে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচনে পদত্যাগ করতে সম্মত হয়েছেন তিনি। সম্মেলনে নির্বাচিত নতুন নেতাই প্রধানমন্ত্রী পদে জনসনের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

২০২০ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্যে যখন করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম ঢেউ চলছিলো, সেই সময় বেশ কয়েকজন অতিথির জন্য লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নিজের সরকারি বাসভবনে পার্টির আয়োজন করেছিলেন ব্রিটিশ এই প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্যের প্রথম লকডাউনের মধ্যে আয়োজিত সেই পার্টিতে শতাধিক অতিথি আমন্ত্রিত ছিলেন এবং সবাইকে যার যার মদ আনার আহ্বান জানানো হয়েছিলো।

পার্টিতে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো ই-মেইলের মাধ্যমে। গত জানুয়ারিতে ইমেইলটি ফাঁস হয় এবং তা থেকে জানা যায় ২০২০ সালের ২০ মে আয়োজন করা হয়েছিলো সেই গার্ডেন পার্টির। গণমাধ্যমে এই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর পার্লামেন্টের বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপিরা জনসনের পদত্যাগ দাবি করেন। দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ভাটা পড়ে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়