শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২২, ১২:১৫ দুপুর
আপডেট : ২৯ জুন, ২০২২, ১২:৩২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘লাখ লাখ মানুষকে অনাহারে রাখার’ জন্যে জি সেভেনের নিন্দা করেছে অক্সফাম

রাশিদুল ইসলাম : বৈশ্বিক খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলা করার জন্য একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি জি সেভেন। অক্সফাম এমন অভিযোগ তুলে বলেছে উন্নত দেশগুলি ‘অনাহারে থাকা এসব মানুষের’ জন্যে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বৈশ্বিক সহায়তা গোষ্ঠী অক্সফামের অসমতা নীতির প্রধান ম্যাক্স লসন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেন যে শিল্পোন্নত দেশগুলি ক্ষুধা মেটানোর জন্যে মাত্র ৪.৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আরটি

তিনি বলেন, ক্ষুধা নিবারণের জন্য এবং জাতিসংঘের মানবিক আবেদনের বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে খাদ্য ও কৃষি বিনিয়োগের জন্য অন্তত আরো সাড়ে ২৮ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। জি সেভেন গ্রুপের দেশগুলি এই বছর বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার মধ্যে মঙ্গলবারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

প্রতিশ্রুত এ অর্থের কতটা প্রকৃতপক্ষে তার প্রয়োজনীয় প্রাপক দেশগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ইউএস কংগ্রেস গত মাসে ইউক্রেনের জন্য একটি বড় অস্ত্র এবং সহায়তা প্যাকেজ পাস করার সময় ‘বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার লড়াইয়ের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলার’ দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু পলিটিকো বলছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত অর্থের কোন অংশই দেওয়া হয়নি। 

এমনকি ধনী দেশগুলোও কোভিড মহামারীর দুই বছরের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।  অক্সফাম প্রতিনিধি পরামর্শ দিয়েছেন যে তারা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বলদের মধ্যে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তারা দরিদ্র দেশগুলির ঋণ বাতিল করতে পারে বা খাদ্য এবং শক্তি কর্পোরেটদের অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর ধার্য করতে পারে।

অক্সফাম প্রতিনিধি বলেন, জি সেভেন গ্রুপ জৈব জ্বালানি নিষিদ্ধ’ করতে পারত যা খাদ্যের জন্য ব্যবহার করা ফসলগুলিকে শক্তি উৎপাদনে স্থানান্তর করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তারা অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জলবায়ু ভাঙ্গন যা এই ক্ষুধাকে চালিত করছে তা মোকাবেলা করতে পারত। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা এর কোনোটিই করতে ব্যর্থ হয়েছে।

লসন উল্লেখ করেছেন যে বিশ্ব যখন ‘এক প্রজন্মের মধ্যে’ সবচেয়ে খারাপ ক্ষুধা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন ধনী ব্যক্তিদের মুনাফা একই সময় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোভিড মহামারীর ২ বছরে কর্পোরেট মুনাফা বেড়েছে এবং ২৩ বছরের তুলনায় ২৪ মাসে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা অনেক বেশি বেড়েছে। তিনি বলেন, খাদ্য শিল্প একাই ৬২ জন নতুন বিলিয়নেয়ার তৈরি করেছে এবং ক্ষুধার জরুরি পরিস্থিতি বা অবস্থাকে ‘বড় ব্যবসা’য় রুপান্তর করেছে। 

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জি সেভেন গ্রুপের দেশগুলিকে অনুরোধ করেছে ‘এখনই কাজ করতে বা রেকর্ড ক্ষুধা বাড়তে থাকবে এবং আরও লাখ লাখ মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হবে। বিশ^খাদ্য সংস্থা বলছে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ২২.২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। যার সংস্থানে জি সেভেন দেশগুলোর কোনো মাথা ব্যথা নেই। অথচ জি সেভেন গ্রুপের দেশগুলো বলছে এই বছরের ভয়াবহ খাদ্য সংকটের কারণে ৩২৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্তের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, ২০২২ সালে মোট ৯৫০ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত হবে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও জি সেভেন গ্রুপের দেশগুলো বিশ্ব ক্ষুধা সমাধানের জন্য তাদের মানিব্যাগ খুলতে অনিচ্ছুক, কিন্তু ইউক্রেনের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের ফলে গম কাটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে যা সাধারণত বিশ্বের খাদ্য চাহিদার এক পঞ্চমাংশ পূরণ করে। 

অক্সফাম বলছে, খাদ্য সরবরাহ সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড খরা, বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকা এ খরায় বিশেষভাবে কবলিত। অক্সফামের মতে, ইথিওপিয়া, কেনিয়া এবং সোমালিয়ায় প্রতি ৪৮ সেকেন্ডে একজন ক্ষুধার্ত মারা যায়, এসব দেশে খরা ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়