Skip to main content

সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ 

সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, মুক্তচিন্তার লেখক বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি মারা যান। বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করবে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে মরহুমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল। একুশে টেলিভিশন।

বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছিলেন একাধারে স্বনামধন্য লেখক, বিশ্লেষক ও কবি। বাংলায় কোষগ্রন্থ রচনায় তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। পেশাগত জীবনে অসামান্য সাফল্য, স্বল্প সময় দেশ পরিচালনাকালে ১৯৯৬ সালে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে তিনি জাতির শ্রদ্ধার আসনে স্থান পান। তার সততা, নিষ্ঠা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব সকল দল-মতের ঊধর্্েব জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসেবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯২৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুর মহকুমার দয়ারামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার বাবা মৌলভী জহিরউদ্দিন বিশ্বাস জাতীয় যুক্তফ্রন্টের বিভাগীয় নেতা ছিলেন। ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে মুর্শিদাবাদ ছেড়ে জহিরউদ্দিন বিশ্বাস রাজশাহীতে চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে ১৯৪৯ সালে বিএ সম্মান ও ১৯৫১ সালে এমএ পাস করেন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। পরে ১৯৫৮ সালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আধুনিক ইতিহাসে বিএ সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে ইতিহাসের রিডার (১৯৬২-৬৪) ও আইন বিভাগের ডিন (১৯৬১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি আইন ব্যবসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ঢাকা হাইকোর্ট বারে যোগ দেন। পরে সহকারী অ্যাডভোকেট জেনারেল (১৯৬৯) ও হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের (১৯৭২) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলেরও (১৯৭২) সদস্য ছিলেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। ১৯৮৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন।

এরপর ১৯৯৫ সালে প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। অবশ্য একই বছরে অবসরে যান তিনি। সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। সে সময় সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা হলে তিনি তা অসামান্য দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দেন এবং অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তিনি লেখক, বিশ্লেষক, কবি হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। রবীন্দ্রগবেষণায় তার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ 'মাতৃভাষার সপক্ষে রবীন্দ্রনাথ'। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছেথ যথাশব্দ, বাংলাদেশের তারিখ, কোরআন সূত্র, বচন ও প্রবচন, বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক, কোরআন শরীফের সরল বঙ্গানুবাদ, মিত্রাক্ষর অভিধান, নির্বাচন হতে হবে তবে নির্বাচন যথেষ্ট নয় ও আইন কোষ প্রভৃতি। নানা ভাষার অজস্র কবিতা তিনি অনুবাদ করেছেন বাংলায়।

অন্যান্য সংবাদ