Skip to main content

সম্পর্ক হোক সমতার

একবার প্যারিসে গেলাম অফিস ট্যুরে। এরাবিয়ান সেন্টারের ওপরের কফিশপে এক সন্ধ্যায় কলিগদের সাথে তুমুল তর্ক জমে গেলো পার্টনারশিপ আর পাওয়ার রিলেশন নিয়ে। কথায় কথায় এক কলিগ বললেন, ইউরোপে একটা কথা খুব প্রচলিত আছে। সেটি হলো, ‘ম্যান ক্যান বি জাজড বাই হিস ওম্যান চয়েস’। অর্থাৎ একজন পুরুষ সঙ্গী হিসেবে কেমন নারীকে বেছে নেয় তা দিয়ে তার মানসিকতা মাপা যায়। কথাটা আমার পছন্দ হয়েছে।
সে হিসেবে, আপনি যদি আপনার পকেটের দিকে তাকিয়ে থাকা সঙ্গী নির্বাচন করে থাকেন তবে তাকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন, সে যে লতার মতো আপনাকে জড়িয়ে ধরে বাঁচবে, আপনার পকেট দখলে নেয়ার জন্য আপনার মা-বোন-ভাইয়ের সাথে কম্পিটিশনে নামবে, আপনার পকেটের টাকা শাড়ি-গয়না কিনে উড়িয়ে দেবে, সেটাই এনজয় করুন। মনে রাখবেন, আপনার মতো আত্মবিশ্বাসহীন পুরুষের জন্য সেই যোগ্য সঙ্গী।
আর যে পুরুষ নিজের ওপর আস্থাশীল, সঙ্গী হিসেবে সে মানসিকভাবে স্বাধীন, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর একজন নারীকে পছন্দ করবে। সেই নারীরা কারণে-অকারণে লুতুপুতু করে সঙ্গীর ওপর চাপ বাড়ায় না, ঘর সামলানো থেকে ঘর-সংসারের খরচ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভাগ করে নেয়। প্রয়োজনে ড্রিল, কার্পেইন্টিং, শিফটিং, অ্যাপ্লায়েন্স মেইন্টেনেন্স, কার সার্ভিসিং ইত্যাদি কাজও অনায়াসে সেরে নিতে পারেন।
যেহেতু সেই সক্ষম নারীরা নিজের দায়িত্ব নিজেই নেন, সেহেতু নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণও নিজের হাতেই রাখেন। তাদের সঙ্গীরাও পার্টনারশিপের ক্ষেত্রে সেটা খুব ভালোভাবে মাথায় রাখেন। এখন, আপনার স্ত্রী বা সঙ্গী যদি শাড়ি, গয়না, তেল, সাবান, বাচ্চা পালা, ডাক্তার দেখানো, বাজার করা সব কিছুর জন্য আপনার দিকে তাকায়ে থাকে, আপনি দিনের পর দিন সেটা এনজয় করে আজকে হঠাৎ পুরুষ নির্যাতন হচ্ছে বলে বিলাপ শুরু করেন সেটা খুবই হাস্যকর। অহেতুক ভিক্টিমহুড না খেলে এবিউজিভ সম্পর্ক থেকে বাঁচতে চাইলে পুরুষতান্ত্রিক বিশ্বাস ও চর্চাকে আগে নিজে চ্যালেঞ্জ করেন।
‘স্ত্রী’ নয়, সঙ্গী ভেবেই বাইরের পৃথিবীটা উনাকেও দেখতে দেন। আপনিও ভাগ নিন গৃহকর্ম আর সন্তান পালনের দায়িত্ব। মেধা আর যোগ্যতার লড়াইটা করতে দেন তাকেও। আপনাকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকা লতা বানিয়ে না রেখে নিজের দায়িত্ব, সংসারের দায়িত্ব নেয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সবলতা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা তাকেও অর্জন করতে দেন। হোঁচট খেলেও তাকে হাঁটতে দেন নিজের পায়েই। তখন সে সম্পর্কটা আক্ষরিক অর্থেই পার্টনারশিপের হবে।
সমতার সম্পর্ক কিন্তু দিন শেষে দু’জনকেই লাভবান করে। সে সম্পর্কে কেউ কাউকে নিয়ন্ত্রণ করবে না, কেউ কাউকে নিপীড়ন করবে না। সেই সম্পর্কের মজাই আলাদা। যদি হজম করতে পারেন আর কী। -ফেসবুক থেকে