Skip to main content

সমাধানের আশায় দেওবন্দমুখী তাবলিগের উভয় পক্ষ

তাবলিগ জামাতের বর্তমান আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার আলেমদের মতামতের পর ইজতেমার তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তাবলিগের দু’পক্ষের সর্বশেষ অবস্থান এবং ইজতেমা আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক হয়। এই বৈঠকে তাবলিগের দুই পক্ষের মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সাদ শরিয়তবিরোধী কাজ করছেন। তিনি যেসব কথা বলেছেন, সেগুলো শরিয়াবিরোধী কি না সেটা যাচাইয়ের জন্য তাবলিগের দুই পক্ষের সমন্বয়ে একটি দল দেওবন্দে পাঠানো হবে। তারা ফিরে আসার পর সিদ্ধান্ত হবে।’ (সূত্র: প্রথম আলো)

তাবলিগে দেওবন্দের গুরুত্বের বিষয়ে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের মুয়াজ্জিন মাওলানা আমানুল হক বলেন, ‘এ দেশে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা দেওবন্দের সিলেবাস অনুযায়ী হয়। দেওবন্দ এই উপমহাদেশের এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ফতোয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এ দেশের সিংহভাগ আলেম।’

ধর্ম নিয়ে সাদ কান্ধলভীর কিছু বক্তব্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশে তাবলিগের একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই বিভেদ প্রকাশ্য রূপ নেয় গত বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা থেকে। বাংলাদেশে এসেও তখন ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি সাদ।

এদিকে মাওলানা সাদের বিষয়ে দেওবন্দের সর্বশেষ অবস্থান জানতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে একটি প্রতিনিধি দল ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় যাবে। প্রতিনিধি দলে থাকবেন- তাবলিগ জামাতের সাদবিরোধী শুরা সদস্য মাওলানা মো. জুবায়ের, সাদপন্থী শুরা সদস্য মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী মাসউদ, গুলশান আজাদ মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান, সেতুসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহসহ আরো কয়েকজন।

উল্লেখ্য, তাবলিগের দুই পক্ষ গত বছরের ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই দিন ময়দানেই সাদের অনুসারী এক মুসল্লি নিহত হন। সংঘর্ষের পর থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরের ইজতেমা ময়দান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আরেক মুসল্লি প্রায় এক মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২ জানুয়ারি মারা যান।

অন্যান্য সংবাদ