Skip to main content

শিক্ষা-ব্যবস্থাকে দুটো অংশে ভাগ করতে হবে

জুয়েল খান : মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. মুনতাসীর মামুন বলেছেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সরকারই শিক্ষা কমিশন গঠন করে তবে, সেই কমিশনের অধিকাংশ সিদ্ধান্তই সরকার মানে না। তাহলে শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা কী? ১১ জানুয়ারি রাতে নিউজ২৪-এর এক আলোচনায় তিনি একথা বলেন। 
মুনতাসীর মানুন বলেন, শিক্ষাকে দুইটা অংশে ভাগ করতে হবে-একটা শিক্ষা, আর একটা শিক্ষা প্রশাসন। যারা শিক্ষা প্রশাসনে আছেন তারা প্রশাসনের একটা পর্যায় যাবেন, আর শিক্ষায় যারা আছেন তারা কলেজেই থাকবেন। একজন শিক্ষককে ছুটি নিতে হলে তাকে প্রিন্সিপাল হয়ে, মাউশি হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত যেতে হয়। কিন্তু এখানে এতো প্রক্রিয়া কেনো। প্রিন্সিপালই যথেষ্ট ছুটি দেয়ার জন্য। তাহলে অনেকগুলো লোক কমে যাচ্ছে, অনেক জটিলতা কমে যাবে। এসব বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আসলে নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক ভালো ভালো কথা বলা থাকে কিন্তু বাস্তবে সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয় না। বঙ্গবন্ধুর সময় দেশে যখন কোনো কিছুই ছিলো না তখন শিক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ ছিলো ২০ শতাংশ। আজ আমরা এতো উন্নত অবস্থায় থেকেও আমাদের বরাদ্দের পরিমাণ এতো কম কেন? শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা বলা হলেও তার পুরোটাই শিক্ষা ক্ষেত্রে খরচ করা হয় না। এই বরাদ্দের টাকা আরো অন্য খাতে খরচ করা হয়।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেই খাতে কতো টাকা বরাদ্দ আছে। কলা- সমাজবিজ্ঞান বাদ দিলেও বিজ্ঞান শিক্ষা গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকা উচিত কিন্তু সেই খাতে কী পরিমাণ বরাদ্দ আছে? তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটা ভালো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি সেটা হলো গ্রান্টস কমিশনের একটা নিয়োগের ক্ষেত্রে, তবে সেটা আমরা নিজেরা জেনারেট করতে পারলে আরো ভালো হতো। আসলে টাকা বরাদ্দের সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক জায়গাতেই আমি দেখেছি প্রাথমিক স্কুলগুলোতে সেরকম বিল্ডিং নেই তবে স্কুল আছে, শিক্ষক নেই। ছাত্ররা রাস্তা দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তবে তাদের হাতে বইটা আছে। এই যে একটা পরিস্থিতি, বাস্তবের সঙ্গে নীতি-ইশতেহার আর তার সঙ্গে যারা নেতৃত্ব দেবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা আমলাদের সাথে কিন্তু তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। 
বঙ্গবন্ধু সেই ১৯৪৮ সাল থেকে বলে আসছিলেন, যে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে বিনা বেতনে। সেটা হয়েছে কিন্তু কী ফল পাচ্ছি আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যে প্রক্রিয়া সেখানে কেউ যে বিষয়ে পড়তে চাচ্ছেন না, তিনি সেই বিষয় পাচ্ছেন। যেসব বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই তার পরেও সেই বিষয়ে পড়ছে কারণ সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে তার জন্যই এখানে ভর্তি হচ্ছে। যেখানে পড়ার জন্য কোনো মন নেই সেখানে সে পড়বে কীভাবে? আজকে কোনো ছাত্র যতোই মেধাবী হোক না কেনো সে যে বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাকে সেই বিষয়ে পড়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে কিছুটা গলদ আছে।
তিনি জানান, আজকে একটা শিশু শিক্ষার্থীকে সারাদিন একটা ঘরের মধ্যে রাখা হচ্ছে। সারাদিন লেখাপড়া আর পরীক্ষা দিয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে। বাইরে খেলাধুলা বা বিনোদনের কোনো সুযোগই নেই। এই বিষয়টা জরুরি অবশ্যই বাচ্চাদের বাইরে বেরোনোর মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

অন্যান্য সংবাদ