Skip to main content

রাজনীতিতে শফী সাহেবদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করছে কে?

ফিরোজ আহমেদ :  ঊনিশ শতকের কলকাতা মানে অনেকের কাছেই সতীদাহ নিবারণ, স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন কিন্তু ঊনিশ শতকের কলকাতারঅধিকাংশ নাটক-ছড়া-চুটকি পড়লে মনে হবে ঠিক উলটোটা, মনে হবে নারীকে বেঁধে রাখার শক্তিটাই বেশি শক্তিশালী বটতলার নাটক কিংবা ঈশ্বরগুপ্তর কবিতা, সকলে সেই সাক্ষ্যই দেয়

শফী সাহেবের ওয়াজের শক্তিও ততোটুকুই সমাজ সুনিশ্চিতভাবে যে দিকে আগাচ্ছে, তিনি ঠিক তার বিপরীত শক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন শাপলা চত্বরের ঘটনাটা না ঘটলে তার এমন ফতোয়া এমনকি গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেতো না ওয়াজের প্রায় সমুদাংশ শ্রোতা তার কথাবার্তা দিব্যি শুনে বাড়ি এসে পরদিন সকালেই মেয়েকে তখনো বিদ্যালয়ে পাঠাতেন, এখানো পাঠাবেন উপাসনাস্থল আর দৈনন্দিক বাস্তবতাকে পৃথক রাখার এই অভ্যাস এই সমাজে খুবই স্বাভাবিক দস্তুর

রাজনীতিতে শফী সাহেবদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করছে কে? রাষ্ট্র কারণ শফী সাহেবরা সংবাদের শিরোনাম হয়ে রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটাকে হারিয়ে যেতে, গৌণ হতে সাহায্য করছে

ভোটের প্রশ্ন তাই লঘু হবে, পোশাকশ্রমিক মেয়েটির মজুরির অধিকারও তাই লঘু হবে সরকারেরই একপক্ষ তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে থাকবে, আরেক পক্ষচেতনা সমৃদ্ধ হয়ে তাকে প্রতিরোধের ডাক দিতে থাকবে

নারীর পক্ষে দাঁড়াতে চান? পোশাকশ্রমিকের মজুরির প্রশ্নটাকে তাকে সমর্থন করুন পেট ভরে খেয়ে, জুতো-জামা-প্রসাধনী কিনে, সপ্তাহে একদিন একটা চলচ্চিত্র দেখে, গান শুনে, বাচ্চাকাচ্চাকে রবি ঠাকুর-নজরুলের কবিতার বই কিনে দিয়ে সে আপনার শিল্প-ব্যবসা-সাহিত্য-প্রগতিশীলতা সব কিছুর অফুরাণ উৎসমুখ হয়ে থাকবে

শফি হুজুরকে উৎখাত আপনি করতে পারবেন না একমাত্র যেটা করতে পারবেন, সেটা হলো মানুষের আনন্দ-কর্ম-বিনোদনের কোলাহলের নিচে তাকে গৌণ করে ফেলতে পারবেন

 লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা ফেসবুক থেকে