Skip to main content

মায়ার ৫৬ বছর কারাদণ্ড

যুগান্তর : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির দায়ে ম্যানিলার রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দিগুইতার ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আর্থিক জরিমানা হয়েছে প্রায় ৯২৭ কোটি টাকার (১০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার)। বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের আদালত এ রায় ঘোষণা করে। আদালত সাবেক এই ব্যাংক কর্মকর্তাকে মানি লন্ডারিংয়ের ৮টি অভিযোগের সবকটিতে দোস্তি সাব্যস্ত করে এ সাজা দিয়েছে।

অপরদিকে রিজার্ভের অর্থ ফেরত পেতে চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে এ মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিব মো. আসাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন। তারা সেদেশে মামলার কাঠামো চূড়ান্ত করছে। আইনি ফার্মও নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

তারা ফিরে আসার পর সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি দল যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে মামলা দায়ের করবেন। রিজার্ভের অর্থ ফিরিয়ে আনতে হলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ঘটনার তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে তিন বছর পূর্তি হবে। এর আগেই এ বিষয়ে মামলা দায়ের হবে। মামলা ছাড়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরত আনা সংক্রান্ত সরকারের টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান বলেন, রিজার্ভ চুরির ব্যাপারে নির্ধারিত সময়ই মামলা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইতিমধ্যে মামলা করার ব্যাপারে অনুমোদন দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংককে।

প্রসঙ্গত প্রায় তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমসের নিউইয়র্ক শাখায় থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এই অর্থ চুরি হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলংকার একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। ওই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক দু’দিনের মধ্যেই ফেরত আনতে সক্ষম হয়। ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকে যায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেটি নিয়েই এখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে ফেরত এসেছে। বাকি ৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এখনও ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ফিলিপাইনের আদালতে সিভিল ও ক্রিমিনাল দুটি মামলা হয়েছে। এর পরিচালনা ব্যয় ও সব ধরনের আইনি সহায়তা করছে ফিলিপাইন সরকার। এছাড়া অপর একটি মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ব্যাংকও একটি মামলা করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরেকটি মামলা করতে যাচ্ছে।

ফিলিপাইনের আদালতের রায় : বিশ্বের অন্যতম সাইবার জালিয়াতির এ ঘটনায় প্রথম কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয়া হয়। এ অর্থ চুরিতে সম্পৃক্ততার দায় প্রমাণ হওয়ায় ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) প্রাক্তন শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দিগুইতোকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করে ফিলিপিন্সের আঞ্চলিক আদালত। মানি লন্ডারিংয়ের আটটি অভিযোগের প্রতিটিতেই তিনি দোষী প্রমাণিত হন। প্রত্যেক মামলায় তাকে সর্বনিু চার থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর করে জেল দেয়া হয়েছে।

আদালত রায়ে মায়া সান্তোস দেগুইতো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে অর্থ আনা এবং তা চারটি অজ্ঞাত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা করার বিষয় নিজে তদারকি করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত আজ ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, ‘অর্থ লেনদেনে তার কিছুই করার ছিল না বলে মায়া আদালতে যে কথা বলেছেন, তা একেবারে নির্জলা ও বড় ধরনের মিথ্যা। এতে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ ব্যাংক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। মাকাতি আঞ্চলিক আদালতের বিচারক তার রায়ে বলেন, মুদ্রা পাচারে সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ দেগুইতোর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া আরসিবিসির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং যে শাখাটি থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল সেখানকার পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে ফিলিপিন্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম রয়টার্সকে বলেন, আমরা আশা করি শিগগিরই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এই মামলাটি দ্রুত বিচারের মুখোমুখি হবে।

দেগুইতোর আইনজীবীরা আরসিবিসির মুখপাত্র থে ডায়াপে এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেগুইতোর বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে কারণ তিনি একজন অসৎ কর্মকর্তা ছিলেন এবং এই রায় ব্যাংকে তার যে অবস্থান তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আরসিবিসি ব্যাংক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। দেগুইতোর একজন আইনজীবী জোয়াকুইন হিজোন রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি এখন কারাগারে নেই কারণ তিনি জামিন চেয়ে যে আবেদন করেছিলেন সেটা তার বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তার অপর আইনজীবী দেমেত্রিও কাস্টোডিও বলেন, দেগুইতোর বেকসুর খালাসের জন্য তারা বৃহস্পতিবারের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করবেন।

রিজার্ভ চুরির সঙ্গে দেগুইতো কিভাবে জড়িত : তিন বছর আগে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয় ওই সাইবার চুরির ঘটনা। রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা দেগিতোই ছিলেন এ মামলার একমাত্র আসামি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলংকায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। বাকি চারটি মেসেজের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেয়া হয় ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায়। সে সময় ওই শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন দেগুইতো। পরে সেই অর্থ ফিলিপিন্সের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের মাধ্যমে দেশটির তিনটি কাসিনোতে যায়। এরপর থেকে সেই অর্থের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে এখনও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ওই সময় বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ ফিলিপিন্সে ঢোকার বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে দেশটির সিনেট কমিটি তদন্ত শুরু করে। ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর আরসিবিসি তাদের শাখা ম্যানেজার দেগুইতোকে বরখাস্ত করে। আর ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ১ কোটি ৯১ লাখ ডলার জরিমানা করে আরসিবিসিকে।

রিজার্ভ চুরির মামলা চলতি মাসেই : আন্তর্জাতিক আদালতের আইন অনুযায়ী রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির দাবি তুলে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশকে মামলা করতে হবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলা করার আগে এর অনুমতি চেয়ে সদ্যবিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠান। সে প্রস্তাবে অনুমতি প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে মামলা করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে। সূত্র আরও জানায়, মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল। এ সফরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, পরামর্শক দেবপ্রসাদ দেবনাথ ও যুগ্ম পরিচালক মো. আবদুর রব রয়েছেন। দলটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। আইনি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক ও সোসাইটি ফর ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের (সুইফট) সঙ্গেও আলোচনা করবে প্রতিনিধি দলটি। এরপর সেখানে কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রতিনিধি দলটি সবকিছু চূড়ান্ত করবে। আজ শনিবার ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি মামলা করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে।

সূত্র আরও জানায় ইতঃপূর্বে রিজার্ভ হ্যাংকিংয়ের ঘটনার সপক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে মিচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্ট অ্যাক্ট ২০১২-এর আওতায়। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো তথ্য থাকলে তা সরবরাহ করতে বিশ্বের সব দেশকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন : রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু সেটি প্রকাশ করার জন্য একাধিকবার ঘোষণা দিয়েও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তা প্রকাশ করেননি। তদন্তের স্বার্থে ওই প্রতিবেদনটি ফিলিপাইনও বাংলাদেশ সরকারের কাছে চাচ্ছে। কিন্তু আইনগত কারণে সেটি তাদেরও দেয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘটনা জানার জন্য নিজেরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সেটির তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। ওই প্রতিবেদনের আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভকে নিরাপদ রাখতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু গাফিলতির দায়ে কোনো কর্মকর্তার শাস্তি হয়নি।

এ বিষয়ে মূল তদন্ত করছে সিআইডি। তারা নিবিড়ভাবে তদন্ত করলেও এখনও তাদের কাজ শেষ হয়নি। যে কারণে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। গত ৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে সিআইডি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার কথা ছিল। ওই দিন তারা আদালতকে জানিয়েছে তাদের তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। যে কারণে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারছে না। এ জন্য আরও সময় চেয়েছে। সিআইডি বলেছে, তদন্ত কাজে তারা বিভিন্ন সংস্থার কাছে তথ্য চেয়েছে। ওইসব তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনা তদন্ত করতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই থেকেও একটি কমিটি হয়েছিল। তারাও তদন্ত করেছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে আলাদা তদন্ত করেছে। তবে কোনো প্রতিবেদনই আলোর মুখ দেখেনি।

রিজার্ভের অর্থ কত উদ্ধার হয়েছে : বাংলাদেশ ব্যাংকের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সুইফটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে ৩৫টি অবৈধ ভুয়া পেমেন্ট ইন্সট্রাকশন দেয় হ্যাকাররা। এর মধ্যে ৫টি পেমেন্ট ইন্সট্রাকশনের মাধ্যমে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেয়া হয়। এর ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলংকায়। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে কিমওয়াং কর্তৃক ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে ফেরত এসেছে। আরসিবিসি ব্যাংকে জমা ৭০ হাজার ডলারও ফেরত পাওয়া গেছে। আর এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ কোটি ৪২ লাখ ডলারের। বাকি ৫ কোটি ২২ লাখ ডলারের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার আছে সোনেয়ার রিসোর্ট ও ক্যাসিনো ম্যানিলার ব্যাংক হিসাবে, ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আছে ফিলিপাইনের রেমিটেন্স কোম্পানি ফিলরেমোর হিসাবে। আর ৬০ লাখ ডলার এখনও রয়েছে কিম অংয়ের কাছে। বাকি অর্থের মধ্যে ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সন্ধান পাওয়া গেছে কিম ওয়াংয়ের দু’জন কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে। বাকি অর্থের সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

অন্যান্য সংবাদ