Skip to main content

মালিকপক্ষের বঞ্চনার কারণেই পোশাক শ্রমিকদের মাঝে বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে

মিরপুর ১০ থেকে ফার্মগেট আসার পথে শেওড়াপাড়ায় মূল রাস্তার সাথেই পাশাপাশি দুটি পোশাক কারখানা। এদের একটি মিসামিবিটপি, অন্যটি ইয়ুথ ফ্যাশন। প্রথমটির সামনে দু’জন নিরাপত্তাকর্মী। ভেতরে শান্তিপূর্ণ অবস্থাই দেখা গেলো। বহুতল ভবনটিতে শ্রমিকরা  কাজ করছে নির্বিঘেœ, নিশ্চিন্তে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার ঘটনা এটি। পাশেই ইয়ুথ ফ্যাশনের সামনে পুলিশের উপস্থিতি। ব্যাপক জটলা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ভাঙচুরে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভবনের গেট ও জানালার কাঁচ। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও মালিকপক্ষের কয়েকজন পুলিশের কাছে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, আর পুলিশ তা লিপিবদ্ধ করছে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণ হলো, সরকার ঘোষিত সর্বশেষ মজুরী কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন না হওয়া। একই দাবীতে পার্শ্ববর্তী আলফা ফ্যাশন, ফায়াজ গার্মেন্টস ও নূরা ফ্যাশনার এর শ্রমিকরাও রাস্তায় তখন বিক্ষোভ করছে। তবে মিসামিবিটপি এই অশান্তি থেকে মুক্ত। কারণ হিসেবে সেখানকার শ্রমিকরা জানালেন, মালিকপক্ষ বেতন-ভাতা ঠিকভাবেই দিচ্ছেন। এই কারখানার শ্রমিকদের প্রশান্তি ছুঁতে পারেনি পাশাপাশি থাকা অন্য কারখানার শ্রমিকদের, তারা বঞ্চনার কারণে বিক্ষুব্ধ।

বিক্ষোভরত শ্রমিকদের একজনের নাম জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, তিনি গত ৮ বছর পোশাক কারখানায় কাজ করছেন। এখন একজন দক্ষ শ্রমিক বা অপারেটর। কিন্তু তাকে হেলপার হিসেবে আখ্যায়িত করে বেতন দেয়া হয়েছে ৮ হাজার ৬৪ টাকা।

তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত সর্বনি¤œ মজুরী হলো ৮ হাজার টাকা। এটি পাবে অদক্ষ শ্রমিক বা যারা নতুন কাজে এসেছেন। কিন্তু মালিকদের নির্দেশে বেতন বাবদ ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অপারেটরদেরকেও হেলপার বানিয়ে সর্বনি¤œ মজুরী কাঠামোয় রেখে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, তার অনেক নারী সহকর্মীকেও একইভাবে বেতন কাঠামো অনুযায়ী সুষ্ঠু বেতন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

হুমায়ুন নামের অপর একজন শ্রমিক কাজ করেন ১৪ বছর ধরে। এখনও তিনি অপারেটর এবং তার বেতন সর্বশেষ গত বুধবার (৯ জানুয়ারী) ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১৩৫ টাকা। এর একদিন আগে গত সোমবার তার বেতন ধরা হয়েছিলো ৯ হাজার ৬৬৬ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোর আগে তার বেতন ছিলো ৮ হাজার ৬৪ টাকা। তার দাবী, সঠিকভাবে হিসেব করলে তিনি বেতন পাবেন চতুর্থ গ্রেড-এ মোট ১১ হাজার ২০০ টাকা। এই দাবী পূরণ না হওয়ায় তিনিও তার সহকর্মীদের সাথে রাস্তায় নামেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, মালিকপক্ষ নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য বেতনের বিপরীতে দুই দফা অপব্যাখ্যামূলক বা বঞ্চনামূলক বেতন নির্ধারণ করেছে।মালিকপক্ষের এমন হঠকারী আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবী করেন তারা।

পিংকি, সেলিনা, রানা ও মিন্টুসহ অনেক শ্রমিকই অভিযোগ করেন যে, তাদের প্রাপ্য বেতন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। একই গ্রেডেও তিন-চার ধরণের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সমান দক্ষতা নিয়ে কেউ বেশী আবার কেউ কেউ কম বেতন পাবেন। কিন্তু মালিকপক্ষের হিসেবের কোনটাই শ্রমিকদের হিসেব করা বেতনের সাথে মিলে না। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব
 

অন্যান্য সংবাদ