Skip to main content

মন্ত্রিসভা : সব কি ভালো হয়েছে?

টেকনোলজি এমন একটি বিষয় যেখানে আমি চাইলেও আমার ধ্বংসের চিহ্ন অস্বীকার করতে পারবো না। ফেসবুকে সপ্তাহে কতো ঘণ্টা সময় দেয়া হয় সেটার হিসাব ৩৭ ঘণ্টা, এটি স্মার্ট ফোনের স্ক্রিন/মনিটরের টোটাল টাইম স্কেলের নটিফিকেশন। অর্থাৎ দিনে গড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি! এটি নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ের হিসাব! এমন ঘটনা এবারই নতুন না। এর পূর্বেও যুদ্ধাপরাধের বিচার, হেফাজত ইস্যুতে এর থেকেও বেশি সময় গেছে! কিন্তু এই সময়ের মূল্য কতো? বিনিময় মূল্য কি? আসলে এসব বিবেচনা করলে তো শ্বাপদ সংকুলে আর রা রা করে হায়েনা তাড়ানো সম্ভব না।
কে মন্ত্রী হলো, কে এমপি হলো এটা তো আমার বিবেচ্য নয়। আমি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা আরো পাঁচ বছর দায়িত্বে থাকুক। এখন উনি ডিক্টোরিয়াল ম্যানেজমেন্টে দেশ চালাবেন, নাকি ডেমোক্রেটিক ম্যানেজমেন্টে চালাবেন সেটি উনার ব্যক্তিগত বিষয়। আমি গেলো নির্বাচনে গণতন্ত্রের জন্য ক্যাম্পেইন করিনি। কারণ, পুঁজিবাদ এবং সামন্তবাদের গণতন্ত্রে আমার আগ্রহের ঘাটতি আছে। বরং, আমি কিছু লোকের, দলের, সংগঠনের রাজনৈতিক ধ্বংস চেয়েছিলাম। সিগনেচার সেই পূর্বের মতোই, সরকার এবং বিরোধী দল দু’পক্ষই ’৭১ পন্থি হবে। ’৪৭-এর ভেজাল আদর্শের সমূলে নির্মূল চাই। ওবায়দুল কাদের সাহেব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক! এই পদের থেকে মন্ত্রীর মর্যাদা অনেক কম, উনাকে মন্ত্রিত্ব না দিলে দলের সাংগঠনিক ভিত আরো মজবুত হতো। নিকট অতীতেও দেখা গেছে সরকারের ব্যাপক উন্নয়নকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কাজে লাগাতে পারেনি! এটি সাংগঠনিক ব্যর্থতার চরম দলিল।
মতিয়া চৌধুরীর মন্ত্রিত্ব হারানো অনেক বেদনার এবং বাংলাদেশের জন্য খারাপ সংবাদ। সৈয়দ আশরাফ যেমন তেমনি মতিয়া চৌধুরীও বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব! আসাদুজ্জামান নূর, তারানা হালিমের প্রস্থান সেই বেদনাবোধকে দীর্ঘ করেছে! আরেক খারাপ সংবাদ হলো, বিএনপির রিজভী সাহেবের ফটোকপি, একজন শিক্ষিত বাচাল হাছান সাহেবের মন্ত্রিত্ব পাওয়া! স¤্রাট শাহাজান, কামরুল, নাহিদ সাহেবদের অনেক আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ ছিল আরেক অপছন্দের মানুষ! আমু, তোফায়েল সাহেব ’৭৫-এর পরেও গর্তের  ভেতরে চলে গিয়েছিলো, ১/১১ এর সময়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো! উনারা মূলত চার খলিফার মতোই বঙ্গবন্ধুর আবিষ্কৃত, ক্রান্তিকালের এক্সিডেন্টাল প্রোডাক্ট। এবার মন্ত্রিত্ব হারিয়ে আবারো অনেকে বিশ্বাসঘাতক হয়ে ওঠার চেষ্টা করবে।
পূর্বের দিলীপ বড়ুয়া, সদ্য সাবেক মেনন, ইনু সাহেবরা মন্ত্রিত্ব পেয়ে দেশকে কি কি উপহার দিয়েছেন? বিমানের অবস্থা আজো লোকসানে! রেলওয়ে সেক্টরটি মতিয়া চৌধুরীকে দিলে আমূল পরিবর্তন সম্ভব। বিদ্যুৎ সেক্টরের সাফল্যের পেছনে যিনি নিবেদিত ছিলেন তিনিই আছেন, এটি ভালো সংবাদ। পলক সাহেব অনেক ফেসবুক লীগারের চক্ষুশূল, তবে এই নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে তিনি অনেক নন পার্টিজান সেলিব্রেটিকে ফেসবুকে সক্রিয় করে প্রমাণ করেছেন কেনো তিনিই সেরা। মন্নুজান সুফিয়ান সততার প্রতীক। 
তবে ফরাসউদ্দীনের পরিবর্তে লোটাস/সিএমসি কামাল/শেয়ার কামাল খারাপ চয়েস। আব্দুল মান্নান, ড. রাজ্জাক দক্ষ, সততার উদহারণ।
ঘরের বউ দুর্নীতিবাজ হলে সেই ঘরে সৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব একটি বায়োবীয় বিষয়! জেলহত্যা ভিকটিম, জাতীয় চার নেতার পুত্রদের মধ্যে নাসিম সাহেব একজন! 
একদিকে  সৈয়দ আশরাফ, খায়রুজ্জামান লিটন, সোহেল তাজ! অন্যদিকে দুর্নীতিবাজ নাসিম সাহেব, যিনি বউ, শালা, পুত্রের কল্যাণে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিকে বিশেষ মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন! উনাদের পেছনে দুদক হামলা করবে এটিই প্রত্যাশিত। যেমনটি চলছে সাবেক ভূমিখোর মন্ত্রী মান্নানের ক্ষেত্রে!
কেবিনেটে অনেকের পতনে অনেকের মতো আমিও খুশি। দুর্নীতিবিরোধী জিরো টলারেন্স প্রমাণে প্রথম ধাপের অগ্রগতি দৃশ্যমান, এই মন্ত্রিপরিষদ। জাতি হিসেবে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে সমৃদ্ধ, উন্নয়নের রোডম্যাপে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্বই শেষ কথা।