Skip to main content
Title Prefix
শুধু সোনা নয়, লোহার এঙ্গেল বিক্রির কথা বলে চলতো প্রতারণা

ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রতারণা করতেন গ্রেফতার মবিন

শুধু কাস্টমস হাউজের জব্দ করা সোনা নয়, লোহার এঙ্গেল নিলামে কম দামে বিক্রির কথা বলে প্রতারণা করতেন সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া প্রতারক খন্দকার ফারুক ওরফে ওমর মবিন (৫২)। তাকে গ্রেফতারের পর ভুক্তভোগীরা গণমাধমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে যোগাযোগ করলে বিষয়টি জানতে পারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির সিরিয়াস অ্যান্ড হোমিসাইডাল স্কোয়াডের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, মবিনকে গ্রেফতারের পর গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে শুক্রবার একজন ভুক্তভোগী ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হাবিবুল ইসলাম সিআইডি কার্যালয়ে আসেন। 

তিনি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে বলেন, ২০১৭ সালের মে মাসে মাহাবুব নামে একজন কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয়ে তাকে ফোন দিয়ে বলেন, বিদেশ থেকে বেশ কিছু লোহার এঙ্গেল এসেছে। যা কাস্টমস জব্দ করেছে। এঙ্গেলগুলো কম টাকায় নিলামে বিক্রির কথা বলে হাবিবুলের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন গ্রেফতার হওয়া খন্দকার ফারুক ওরফে ওমর মবিন। এরপর থেকে মবিনকে পাচ্ছিলেন না ভুক্তভোগী হাবিবুল। 

সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, মবিন প্রতারণার কৌশল হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করতেন। এর ফলে প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিরা পরে তাকে খুজে পেতেন না। 

সিআইডির কর্মকর্তা বলেন, মবিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার তার বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে প্রতারণার বিষয়ে মবিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের নবাবী ভোজ রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে মবিনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। বাকি দুইজন হলেন- মবিনের সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে নূর ইসলাম সরকার (৩৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম (৩০)। তাদের কাছ থেকে মবিনের নামে ছাপানো ভুয়া পরিচয়দানকারী কাস্টমস সহকারী কমিশনারের ১৮টি ভিজিটিং কার্ড, চারটি  ব্যাংকের চেকের পাতা, সাতটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অপারেটরের ১৩টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। মবিন নিজেকে কাস্টমস কমিশনার বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন।

সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ দুর্ধষ প্রতারক চক্র। তারা শুল্ক বিভাগের জব্দ করা সোনার বার কম টাকায় নিলামে দেয়ার কথা বলে বলে অভিনব কায়দায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। আবার কখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সেজে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিথ্যে পরিচয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী পাওয়া গেছে। যাদের কারো কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়েছে এবং কারো কাছ থেকে চেষ্টা করেছে। প্রতারণার আগে তারা জাল কাগপ-পত্র তৈরি করতো। তারা এমনভাবে কাগজপত্র তৈরি করতো যে, দেখে বুঝার উপায় নেই যে, ওইসব জাল।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, গ্রেফতারের পর মবিনের মোবাইলে মৃণাল নামে এক ভুক্তভোগীর ফোন আসে। এরপর তিনি সিআইডি কার্যালয়ে এসে প্রতারকদের শনাক্ত করেছেন। মৃণালের কাছ থেকে মবিন কাস্টমস হাউজের সোনা কম দামে নিলামের মাধ্যমে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জান্নাত আরা বলেন, মবিন পাঁচ-৭ বছর আগে জামালপুরের এক এমপির পিএস ছিল বলে জানা গেছে। ওই চাকরি ছাড়ার পর তিনি প্রতরণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে বিষয়টির তদন্ত চলছে।