Skip to main content

বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন ৪০ বিলিয়ন ডলার 

বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই সময়ের মধ্যে ১৬ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে। একই ভাবে ৪ হাজার কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে বিতরণ লাইন। গত দশ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেলেও সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে সমান্তরাল ভাবে উন্নয়ন হয়নি। এ কারণেই এবার এই দুটি শাখাকে বেশী গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপশি শতভাগ বিদ্যুতায়নের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সেটিও আগামী এক বছরের মধ্যে বাস্তাবায়ন করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্রমতে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট হলেও সর্বোচ্চ চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির বর্তমান গ্রোথ ধরা হয় শতকরা ১০ ভাগ হারে। এই হারে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়তে থাকলে পাাঁচ বছরে আরও ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। এই টার্গেট ধরেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখিত পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। 

এদিকে বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় হাব হতে যাচ্ছে মহেশখালি ও মাতারবাড়ি। শুধু এই অঞ্চলেই আগামী পাঁচ বছরে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎাপদনের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পয়রায় দুটি বড় আকারে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৩২০ মেগাওয়াট করে এখানে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হবে। এরমধ্যে প্রথমটি অর্থাৎ ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে বিপিডিবি’র পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে সে অনুযায়ী উৎপাদন বাড়লে আমাদের চাহিদার তুলনায় কিছুটা বিদ্যুৎ সারপ্লাস থাকবে। তিনি বলেন, কোন কারনে দু’একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ট্রিপ করলেও যাতে বিদ্যুৎ সংকট না হয় সেজন্যই এই পদক্ষেপ। তাছাড়া জ্বালানি সংকটের কারনেও অনেক সময় কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সাময়িক বন্ধ থাকতে পারে এসব দিকও মাথায় রাখা হচ্ছে। এপ্রসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদাহরণ তুলে ধরেন। 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করাই হবে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার কর্মসূচি প্রায় সাফল্যের সাথে সম্পন্ন হতে চলেছে। ৯৪ ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ সরবরাহের নেটওয়ার্কে এসে পড়েছে। আগামী জুন ২০১৯ এর মধ্যে সবাই বিদ্যুৎ পাবে। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরবচ্ছিন্নভাবে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখাতে প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। এই মূহুর্তে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা গেলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান আবারও সংশোধন করে কোন জ্বালানিতে কতটুকু বিদ্যুৎ নেবো তা ঠিক করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য নীতিমালা সংশোধন করে প্রতিবেশীদের তাদের ভুখন্ড ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ আরও সাশ্রয়ী মূল্যে ভারতের বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে। একইসঙ্গে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যে আন্তঃদেশীয় গ্রিডলাইন নির্মাণ করা হবে তা দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ওই দুইটি দেশে বিদ্যুৎ রফতানি করতে পারবে। 
 

অন্যান্য সংবাদ