Skip to main content

নতুন বছর শুরু হোক ভালো কাজের প্রতিজ্ঞায়

প্রত্যেক জাতির সংস্কৃতি সেই জাতির নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি সামগ্রিক পরিচয় স্পষ্টভাবে ধরে রাখে এবং তা বিশ্ববাসীর দোরগোড়ায় সেই জাতির মানমর্যাদা ও আত্মপরিচয়কে উচ্চস্তরে নিয়ে যায়। মূলত সংস্কৃতি হচ্ছে, একটি জাতির আয়নাস্বরুপ। এর মাধ্যমেই প্রতীয়মান হয় সেই জাতির প্রতিচ্ছবি। মানুষ জানতে পারে তাদের মৌলিক চিন্তা-চেতনা। সংস্কৃতির বহুবিধ উপাদানের মধ্যে নববর্ষ বা থার্টি ফার্স্ট নাইট অন্যতম। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার ঘণ্টা বাজার পরপরই ঘোষিত হয় এই ঐতিহ্যজাত নববর্ষের সূচনা মুহূর্ত, ঘোষিত হয় ইংরেজি নববর্ষের আগমন বারতা। মধ্যরাতের সেই মুহূর্তটায় আমাদের দেশের আকাশে বিভিন্ন রকমের বাতিতে উজ্জ্বল হয়। ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ উচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে চতুর্দিক।

ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করে। ১লা জানুয়ারি পালনের ইতিহাস ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত নয়। পহেলা জানুয়ারি পাকাপোক্তভাবে নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার (পোপ গ্রেগরীর নামানুসারে যে ক্যালেন্ডার) অনুযায়ী নববর্ষ পালন করা হচ্ছে।

বর্ষবরণ তথা থার্টি ফার্স্ট নাইট সম্পর্কে শরিয়তে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। দান-খয়রাত ও আমলে উৎসাহিত করার বিভিন্ন বর্ণনাও রয়েছে। হযরত ইমাম আবু হাফস কবীর ( রা.) তিনি বলেন, নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও দান করে তার ৫০ বৎসরের আমল থাকলে তা বরবাদ হয়ে যাবে। অর্থাৎ নওরোজ বা নববর্ষ পালনের কারণে তার জিন্দেগির সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে।

হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর তাদের সাথেই হবে। (সুনানে আহমদ, সুনানে আবু দাউদ)