Skip to main content

ড. কামাল ভেবেছিলেন তিনি ক্ষমতায় আসছেন

জুয়েল খান : সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলছেন, বঙ্গবন্ধুর এতো কাছের কামাল হোসেন আজকে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন। এই ঐক্যফ্রন্টের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক ব্যাপার আছে কিনা সেটা ভাবার বিষয়। ড. কামাল হোসেন ভেবেছিলেন তিনি ক্ষমতায় আসছেন, তাই সেদিন  বুদ্বিজীবী স্মৃতিসৌধ ঐ সাংবাদিককে দেখে নেবার হুমকি দিয়েছিলেন, খামোশ বলেছিলেন। ১০ ডিসেম্বর রাতে ডিবিসি নিউজের এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
কামাল লোহানী বলেন, ৮ জানুয়ারি আমরা জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধু ছাড়া পেয়েছেন এবং তিনি লন্ডনে চলে গেছেন। সেখানে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন এবং সেখানে তিনি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নিয়ে তার যে চিন্তা সেটা তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি যেদিন ছাড়া পেয়ে লন্ডনে গেলেন সেদিন সেখানে তাকে একটা মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার যে মর্যাদা সেটা তিনি অর্জন করেছিলেন এবং যে স্বীকৃতিটা তিনি সেদিন পেয়েছিলেন সেটা অসাধারণ। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে রাজকীয় সম্মান দেখানো হয়েছিলো। পরবর্তী সময়ে লন্ডনের রয়েল এয়ারলাইন্সের একটা বিমানে তিনি দিল্লিতে আসেন এবং দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং প্রথানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে সম্মাননা জানান। পরে তিনি সেখান থেকে সরাসরি ঢাকায় চলে আসেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ১০ জানুয়ারি তিনি প্রথম পদার্পণ করেন। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু যখন প্রথমে লন্ডনে পৌঁছান তিনি তখন, বলেছিলেন আমার কামাল কোথায়, আমার কামাল বলতে তিনি শেখ কামালকে বোঝাননি, তিনি ড. কামালের কথা বলেছিলেন। তার মানে তিনি ড. কামাল হোসেনকে কতোটা ভালোবাসতেন। তবে যেহেতু একটা নতুন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একটা সংবিধান দরকার একজন আইনজ্ঞ দরকার আর ড. কামালের সেদিক থেকে খুবই সুখ্যাতি ছিলো। তাই তিনি প্রথমেই ড. কামাল হোসেনকে খুঁজেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে একই বিমানে ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশে আসেন। পরবর্তী সময়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংবিধান রচিত হয়। তিনি আজ বঙ্গবন্ধুর চেতনার বিপক্ষের শক্তির সাথে হাত মিলিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, তখন এতো গণমাধ্যম ছিলো না বিটিভি এবং বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে যতোটুকু জেনেছে তাতেই সেদিন ঢাকার রাস্তায় মানুষের ঢল নেমেছিলো, জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিলো। কারণ মানুষ তখন অনেকেই জানতো না যে বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন কিনা বা আদৌ তাকে এই বাংলার মাটিতে আর দেখতে পাবো কিনা। তাই বঙ্গবন্ধুর আগমনের কথা শুনেই মানুষ আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি। তাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তায় নেমেছিলো। তেজগাঁওয়ের রাস্তা থেকে একবারে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত পুরোটা রাস্তা একেবারে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিলো সেদিন।
তিনি বলেন, ১০ জানুয়ারি সকালে ঢাকার পুরনো বিমানবন্দরে যখন নামলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন এবং বঙ্গবন্ধু তখন দেখলেন যে তার বাবা শেখ লুৎফুর রহমান সেখানে একটা হুইল চেয়ারে বসে আছেন, তখন তিনি তাজউদ্দীন আহমেদকে নিয়ে সেখানে গেলেন এবং তার বাবার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলেন, বুকে জড়িয়ে ধরলেন সে এক অসাধারণ অনুভূতি। স্বাধীন স্বদেশের মাটিতে প্রথম পা রাখার অনুভূতি। বাঙালি কখনো সেই দিনের কথা ভুলবে না। কোথাও ঘরের ছাদে আবার কোথাও গাছে চড়ে বসেছে বঙ্গবন্ধুকে একনজর দেখার জন্য। যার ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে, যার নামে মানুষ স্লোগান দিয়েছে তাকে তো একনজর দেখতেই হবে।

অন্যান্য সংবাদ