Skip to main content

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ জনের মৃত্যুতে আতংকিত গ্রামবাসী

ব্যাপক হারে জীবাণুবাহিত রোগের প্রাদুভার্ব ছড়িয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উত্তর ফকদন পুর ও দেহন গ্রামে। গত দু’ বছরে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ওই দু’ গ্রামে। এতে গ্রামবাসীরা আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগের গবেষণা দল। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য কৈলাশ চন্দ্র বর্মন বলেন, আক্রান্তদের শরীর ফুলছে ও পেটে পানি জমছে। খেতেও পারছে না। যা খাচেছ তা বমি করে ফেলছে। দীর্ঘ দিন রোগ ভোগার পর অবশেষে মারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে আক্রান্তরা। 

জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি উত্তম কুমার (৩৫) ও গত বছর ৪নভেম্বর সদর উপজেলার রহিমান পুর ইউপির উত্তর ফকদনপুর গ্রামের সাবু চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী মিনতি রাণী এবং ১৬ ডিসেম্বর ইব্রাহিম ও কাইমতদ্দিনের মৃত্যুর পর আরো আতংকিত হয়েছে ওই দুই গ্রামের মানুষ। এ নিয়ে দুই বছরে মারা যান ১৫ জন। এ ঘটনা গ্রামবাসীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। 

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মী সৈয়দ ফেরদৌস আখতার বলেন, মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে প্রতিবেশীদের বাড়ি যাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে অনেকে। 

গত ১৮ ডিসেম্বর রোগ নিরাময়ে কাজ করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অপরদিকে এই রোগের কারণ অনুসন্ধাণে ঢাকা মহাখালীর রোগ তত্ত ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. অনিন্দিতা শবনম কোরাইশীর নেতৃত্বে চারজনের টিম ৪ দিন (২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) ধরে ওই দুই গ্রামের মানুষের রক্ত ও পানি সংগ্রহ করে। ওই টিমের প্রধান আইইডিসিআর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ডা. অনিন্দিতা শবনম কোরাইশী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা নিরিক্ষার পর আপনারা জানতে পারবেন সবকিছু। তবে প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত করা হয়েছে এটি হেপা-টাইটিস বি’ রোগের ভাইরাস ।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির এটি আতংক হওয়ার বিষয় নয় । স্বাস্থ্য বিভাগ নিবির ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওই গ্রামগুলো ছাড়া আশপাশ এলাকা । তা ছাড়া রোগ প্রতিরোধ কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগের গবেষণা ইন্সটিটিউটের একটি মেডিকেল টিম।