Skip to main content

জান্নাতের বাজার মসজিদ

আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার উপায় হলো ইবাদত। যে ব্যক্তি যত বেশি ইবাদত করবে সে আল্লাহর ততই নৈকট্য লাভ করবে এবং আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ইবাদত করা হয় আল্লাহ তাআলার ঘর মসজিদে। কারণ নামায, যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতসহ সব রকমের ইবাদত মসজিদে করা হয়। হাদীস শরীফে আছে, রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদ আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান হলো বাজার। [মুসলিম]

জান্নাতের বাজার হলো মসজিদ। একদিন হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইআব রা. সাহাবায়ে কেরামের মজলিসে বয়ান করছিলেন। তখন তিনি মজলিসে উপস্থিত মানুষগুলোকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমরা কি জান্নাতের বাজারে যেতে চাও। যদি চাও তাহলে মসজিদে যাও। কারণ মসজিদ জান্নাতের বাজার।

মুমিনের কর্তব্য, মসজিদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং একে জ্ঞান ও আলো, হেদায়েত ও সফলতার কেন্দ্র মনে করা। মুসলমানদের উচিৎ মসজিদের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করা। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যদি মসজিদের সাথে অন্তরের সম্পৃক্ততা থাকে তবে তা অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়।

মসজিদের সাথে মানুষের অন্তরের সম্পর্ক হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই সে স্বাচ্ছন্দ্যে মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করতে সক্ষম হয়। আর প্রত্যেক সুস্থ-সবল বালেগ পুরুষের কর্তব্য পাঁচ ওয়াক্ত নামায মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করা। জামাতে নামাজ আদায় করার ফযীলত ও উপকারিতা অনেক বেশি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করলে দৈনিক অন্তত ৫বার মসজিদে যাওয়া হবে। আস্তে আস্তে মসজিদের সাথে অন্তর সম্পৃক্ত হবে। আর হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল সা. বলেছেন, একা নামাযের চেয়ে মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাযের মর্যাদা সাতাশ গুণ বেশি। [বুখারী-মুসলিম]

মসজিদ আল্লাহর ঘর। আল্লাহর ঘর সবসময় আবাদ রাখতে হবে। মসজিদ শুধু নামায আদায়ের জন্য নয়, কুরআন-হাদীস, মাসআলা-মাসায়েল ও ইসলামী শিক্ষা-নির্দেশনা শেখা-শেখানোরও জায়গা। রাসূল সা.-এর যুগ থেকে সাহাবা, তাবেয়িন, তাবে-তাবেয়িন ও পরবর্তী অনেক সময় পর্যন্ত এ কাজগুলো প্রধানত মসজিদেই সম্পন্ন হত। সুতরাং সকলের কর্তব্য মসজিদে তালীমের ব্যবস্থা করা এবং তাতে নিয়মিত উপস্থিতির চেষ্টা করা। নামাযের জামাত ও তালিমের মজলিশে অধিক পরিমাণে মানুষের উপস্থিতি, পুরো এলাকায় হেদায়েতের আলো বিস্তার মসজিদ আবাদের অংশ।

মসজিদ ইসলামের অন্যতম ও সম্মিলিত ইবাদতের জায়গা। তাই মসজিদ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. আমাদেরকে মহল্লায় মসজিদ বানাতে এবং তা পরিষ্কার রাখতে ও তাতে সুগন্ধি লাগাতে আদেশ করেছেন। প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব মসজিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশগ্রহণ করা।

পরিশেষে একটা কথাই বলছি, মসজিদ জান্নাতের বাজার। মানুষকে মসজিদমুখী করার ব্যাপারেও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রত্যেকেই মুমিনের জন্য জরুরি বিষয়। (ভারতের ডেইলি উর্দু পত্রিকা আখবারে মাশরিক অবলম্বনে)