Skip to main content

জনবান্ধব পুলিশিং...

প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিং বর্তমানে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমাজের তাগিদে সুচারুরূপে কাজ করে চলেছেন। জনবান্ধব পুলিশিং সফল ব্যক্তিত্ব, পুলিশ সুপার, গাজীপুর, শামসুন্নাহার পিপিএম তাঁর ঋজু ব্যক্তিত্বে, চিন্তন, মনন, প্রজ্ঞার সমন্বয় করে আত্মোলব্ধিতায় সুদুরপ্রসারী বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্যের পাশাপাশি পিতা মাতার ভরণ পোষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগে কাজ করে চলেছেন, অবিরত। 

মানবীয় সমাজ ব্যবস্থাপনার তাগিদে জনগনের  পরস্পর সহমর্মিতা, বিশ্বাস,আস্হা, শৃংখলার তাগিদে সমাজ হতে চিরতরে অমানবীয় পৃথিবীজুড়ে থাকা দৈত্যের মুলোৎপাটন করার তাগিদে প্রতিদিন তাঁর বীক্ষণে স্হান পাচ্ছে, মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং, জঙ্গিবাদ, জেন্ডার সমতায় নারীদের আত্মমর্যাদা, প্রবীণ ও শিশুদের নিরাপদ জীবন। প্রবীণদের আত্মমর্যাদা রক্ষা ও নিরাপদ জীবনের তাগিদে চালিয়ে যাচ্ছেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। আজ সে সামাজিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের সব খানে। আমাদের দেশ এখন পিছিয়ে নেই। জাপানীরা পারলে আমরা পারবোনা কোনো? এক সময়ে জাপানীরা অভাবের /সামাজিক রীতিনীতির কারনে চলনশক্তি হারানো প্রবীনদের তাদের ছেলেরা পিঠে নিয়ে পাহাড়ের নীচে ফেলে দিতেন।পিঠে থেকে সন্তানের এ অমানবীয় কাজের জন্যে শাস্তি হিসেবে বাবা, মা হাতে খড় খুটো,কিংবা ছোট গাছের ডাল দিয়ে প্রহার করতেন। পাছে যদি সন্তানের অমঙ্গল ঘটে! আজ বিশ্বে মানবীয় আচরনে জাপানীরা এগিয়ে। প্রবীণদের জাপানে এখন সবচেয়ে বেশি সন্মান জানানো হয়। জাপান যান্ত্রিক উৎকর্ষতায় ক্রমাগত বিশ্বশাসন করলে ও মানবীয়তার সুশীতল ছায়াতলে একাট্টা হয়ে প্রবীণদের কল্যানে কাজ করে চলেছেন।

আসলে এ জগতে খারাপ বাবা মা খুঁজে বের করা কষ্টসাধ্য বটে! মা মাকড়শার মতো সহাস্যে জীবন বিলিয়ে দিয়ে সন্তানদের পৃথিবী গ্রহের বাসিন্দা করায় নিষ্ঠুর সুসাসলের হালখাতার যন্ত্রণা পাঁই পাঁই করে পরিশোধ করে দেন।এঁনাদের একটাই চিন্তা সন্তানের সুখ, সমৃদ্ধি শান্তি।

আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃৃদ্ধিতে স‚চক ক্রমশ: উর্দ্ধমুখী। শিক্ষা, চিকিৎসা সেবার হারে ঈর্ষণীয় সাফল্য। কৃষি, শিল্প, বিনিয়োগ, সমুদ্র, রেমিটেন্স, মহাকাশে সাফল্যের কেতন উড়ে চলেছে। বিশ্বমানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এখন হাতের মুঠোয়। অচিরেই উন্নত দেশের কাতারে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।

শিশু বেলা হতে সবাই বাবা মায়ের হাতে ধরে দাঁড়িয়ে জীবন ভেলায় চড়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে জীবন বাঁকের ভয়ংকর ঘ‚র্ণিটা পেরিয়ে নিরাপদ জীবনে থিতু হয়ে ভেলার সহযাত্রী অশীতিপর কান্ডারীদের ছুঁড়ে ফেলে না দিয়ে, কৃতঘœ না হয়ে নিজ নিজ অবস্হান হতে জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থাপনার সফল ব্যক্তিত্ব পুলিশ সুপার গাজীপুর, শামসুন্নাহার, পিপিএম এঁর উদাত্ত মানবীয়, সাম্যের আহবানে সাড়া দিয়ে, সম্মিলিত মানবীয় আচরনে পরিবর্তন এনে, একজন জগতপ‚জ্য সুফী সাধক হযরত বায়েজিদ বোস্তামি কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উপহার দিতে না পারলে ও অন্তত: অশীতিপর পিতা মাতাকে বৃদ্ধ নিবাসের জেলে রেখে কৃতঘ্নতা দেখানোর কোনো আত্মজা আর তৈরী হবেনা। এ হোক আমাদের প্রত্যাশায়, আগামীর পথচলা। লেখক- রাজীব কুমার দাশ, পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।