Skip to main content

কালকিনির খরস্রোত পালরদী নদী এখন মৃত্যুপ্রায়

এক সময়কার খরস্রোত পালরদী নদী এখন মৃত্যুপ্রায়। অথচ বছর দশেক আগেও ছিল পানির প্রবাহ ও প্রাণের স্পন্দন। নদী দিয়ে চলতো একসময় লঞ্চ, স্টিমার ও জাহাজ। মাত্র ৪০ কিমি: দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এ নদী ফাসিয়াতলাহাট দিয়ে প্রবেশ করে শরীয়তপুর অদুরে আড়িয়াল খার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

প্রায় শতাধিক চর সৃষ্টি করে নদীটি এখন তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। শুধু বালুচর আর বালুচর। গভীরতা কমে যাওয়ায় মানুষ পায়ে হেটে পার হয়ে যাচ্ছে পালরদীর বুক দিয়ে। অনেক স্থানে নদীর বুকে যেন যেন আবাদি জমি। পালরদী শুধুই এখন কালের সাক্ষী। পালরদীর তীরবর্তী হাজার-হাজার হেক্টর জমির ইরি-বোরো আবাদের চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সেচ পাম্পগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত  পরিমান পানি উত্তোলন না হওয়ায় হাজার-হাজার কৃষক দিশেহারা। নদীটির মধ্যে ভাগে কোথাও কোথাও জেগে উঠেছে চর। নাব্য না থাকায়  নৌকা চলাচল ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। 

এখানকার যে পরিবারগুলো এক সময় পালরদীতে মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতো তারা এখন তাদের দীর্ঘদিনের পেশা হারিয়ে কেউবা দিনমজুর, কেউবা বাড়িঘড় ছাড়া, আবার কেউবা বেকার জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে অসংখ্য চরাঞ্চল সৃষ্টি করে এক সময়কার খরস্রোত পালরদী মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। ফলে সেখানকার মানুষের জীবন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে  পালরদী নদীর দুই পাড় ধীরে দখল করে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশলী মহল। এতে করে ধীরে ধারে এ নদী ছোট হয়ে খালে রুপ নিচ্ছে।

ভুক্তভোগী সুমন আহম্মেদ বাবু ও তুহিনসহ একাধিক লোকজন বলেন, হাজার-হাজার হেক্টর  জমি সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। চরম বিপর্যয় ঘটছে এ এলাকার কৃষি জমির। বিনষ্ট হচ্ছে  প্রকৃতি বৈচিত্র। অপুরনী ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।

স্থানীয় কৃষক মোশারফ ও দেলোয়ার সরদারসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমাদের গভীর নলকুপ এখন অকেজো হয়ে গেছে। কারণ পালরদী নদীতে পানি নাই। নষ্ট হয়ে গেছে গভীর নলকুপ। গভীর নলকুপের ক্যানেলও নেই। শুধু চর আর চর।

পরিবেশবাদী সালাহউদ্দিন ও নুরু আহম্মেদ বলেন, এক সময় বরিশাল, ঝালকাঠি, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ বড়-বড় নৌকা নিয়ে ব্যবসা করার জন্য নদী দিয়ে এ এলাকায় আসত। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় তারা আর এখানে আসেনা। পালরদী পারের নৌকার মালিকরা নৌকা চালাতে পারছেনা। এবং নদীর দুই পাড় অবৈধখভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। জেলেরা মাঝ ধরতে পারছেনা। কারণ পানি নাই আর বিভিন্ন ময়লা- বর্জ্য নদী ফেলানোর কারণে মাছ যা ছিলো তা মড়ে যাচ্ছে।

পালরদী পাড়ের নৌকার মাঝি ওয়াজেদ বলেন, পালরদী এখন মড়া। এখানে কোন মাছ নেই। সরাদিন জাল বেয়ে ১৫-২০ টাকার মাছ পাওয়া যায়। পরিবার পরিজন নিয়ে বড় কষ্টে বেঁচে আছি।

আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, এ নদীটি পুনরুদ্ধার করতে হলে নদীর মোহনার তলদেশ খনন এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আড়িয়াল খা নদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা গেলে নদীটি আবার তার আগের রুপ ফিরে পাবে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ অবস্থা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি মনে করি নদী রক্ষায় আমাদের সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। আমরা সচেতন হলেই এই নদীটি বেঁচে থাকবে। যেমন নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। নদীর পারে কোন স্থাপনা করা যাবেনা। আর বিশেষ করে এ নদীর মোহনায় খনন কাজ গভীরভাবে করলে হয়তবা নদীটি বেঁচে যাবে। বিলুপ্তি হয়ে যাবেন না। এ নদীটি বাচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।