Skip to main content

এখনো অনেক কোম্পানির শেয়ার আন্ডার প্রাইজে রয়েছে জেট ক্যাটাগারি থেকে সাবধান থাকতে হবে: মির্জ্জা আজিজ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের  শেয়ারবাজার। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। গতকালও ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়। এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব ও স্টেক হোল্ডারদের নানামুখী তৎপরতায় স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। এই ইতিবাচক ধারাকে স্বাভাবিক মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা। 

এবিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারে সূচক বাড়া ইতিবাচক। তিনি বলেন, বাজার ইতিবাচক দিকে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কারণ ডিএসইর মূল্যসূচক সাড়ে ছয় হাজার হতে পারে এটা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, খেয়াল রাখতে হবে যে ২০১০ সালের মতো শেয়ারবাজার উল্লম্ফন না হতে পারে। মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, এখনো অনেক কোম্পানির শেয়ার ইন্ডার প্রাইজে রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য বলেন, “জেট” ক্যাটাগাড়ি কোম্পানি শেয়ার থেকে সাবধান থাকতে হবে। এবিষয়ে ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, রাজনৈতিক হানাহানি ছাড়াই সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় শেয়ারবাজরে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী পরিবর্তন হওয়া শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, নির্বাচনের পর নতুন বছরে শেয়ারবাজারে ৭ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৬ কার্যদিবসেই ম‚ল্য সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। গতকাল বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পরও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ম‚ল্যস‚চক বেড়েছে। এ নিয়ে শেষ ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে ১৩ কার্যদিবসই দেশের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলো।

গতকাল ম‚ল্যস‚চকের উত্থানের পাশাপাশি এদিন ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১০ কোটি ৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১৬১টি প্রতিষ্ঠান। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পরও ডিএসইর প্রধান ম‚ল্যস‚চক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান ম‚ল্যস‚চকের পাশাপাশি উত্থান হয়েছে অপর দুটি ম‚ল্যস‚চকেও। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ স‚চক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেনে এরপর রয়েছে- সিঙ্গার বিডি, ঢাকা ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, জেএমআই সিরিঞ্জ, বেক্সিমকো এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক ম‚ল্যস‚চক সিএসসিএক্স ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ৭৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৬৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২১টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির দাম।
 

অন্যান্য সংবাদ