Skip to main content

ইসলামের দৃষ্টিতে রোবট

মানুষের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে রোবট। যন্ত্রচালিত এ রোবট মানুষ আসল মানুষের অনেক কষ্ট কমিয়ে দিচ্ছে। রোবট মূলত কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে ব্যতিক্রমও আছে। খারাপ কাজেও রোবটের ব্যবহার হয়। এ বিষয়ে রোবটের বৈধ ও অবৈধ বিষয় তুলে ধরা হলো:

যে সকল রোবট মূলত মুর্তি (মানুষ বা কোনো প্রাণীর অবয়বে বানানো) তা ব্যবহার সম্পূর্ণ হারাম। কেননা কোনো প্রাণীর-মূর্তি নির্মাণ করা ইসলামী শরীয়তে কঠিন কবীরা গুনাহ ও হারাম।

মূর্তি সংগ্রহ, মূর্তি সংরক্ষণ এবং মূর্তির বেচাকেনা ইত্যাদি সকল বিষয় ইসলামে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। মূর্তিপূজার কথাতো বলাই বাহুল্য, মূর্তি নির্মাণেরও কিছু কিছু পর্যায় এমন রয়েছে যা কুফরী। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্তু অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ (সূরা হজ্জ : ৩০)

এই আয়াতে পরিস্কারভাবে সবধরনের মূর্তি পরিত্যাগ করার এবং মূর্তিকেন্দ্রিক সকল কর্মকান্ড বর্জন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রোবট যদি কোনো প্রাণী অবয়বে না বানানো হয় তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে। যেমন বিশ্বের প্রথম রান্না করতে জানা রোবট মোলি, যে কিনা একশতরো বেশি পদ রান্না করতে জানে। ২০১৮ সালেই তারা মলিকে বিশ্বের প্রথম অটোমেটিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট হিসেবে বাজারে আনবে। (সুত্র www.forbes.com I http:/ww/w.moley.com/)

রোবটের সাথে বিয়ে : এ বিষয়ে সূরা নাহালের ৭২ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন” সূরায়ে নিসার ৩ নাম্বার আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন আরো বলেন, “তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে”। বুঝা গেল আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে যে নারীকে বিয়ে করার কথা বলেছেন সে আদম সন্তান। সুতরাং অন্য কোনো জাতির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয নেই। (ফাতাওয়ায়ে শামী ৩/৫, বাদাইউস সানায়ে’ ৭/৩৬)

রোবটের মাধ্যমে জৈবিক চাহিদা পূরণ : বর্তমান দুনিয়াতে জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য কিছু সেক্স রোবট/ সেক্স ডল বানানো হয়। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও হারাম কাজ। এধরণের উদ্ভাবন বিশ্বকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘(অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে) ...আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের তাদের মালিকানা (শরয়ী) বান্দি ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।’ (সূরা মু’মিনুন আয়াত নং ১ ও ৫-৭)

তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখা হয়েছে, নিজের বিবাহিতা স্ত্রী কিংবা শরীয়তসম্মত বান্দী (যা বর্তমানে রহিত হয়ে গেছে) ছাড়া আর কোনো পদ্ধতিতে জৈবিক চাহিদা পূরণ করার সুযোগ নেই। এ দুটি পদ্ধতি ছাড়া পৃথিবীতে জৈবিক চাহিদা পূরণের যত পন্থা আছে সব নিষিদ্ধ। (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন উর্দু : ৬/২৯৭)