Skip to main content

ইতিহাসের পদযাত্রা! 

ইতিহাস তার পদযাত্রায়  সব আনন্দ আর বেদনা নিয়ে চলে। ফিরে ফিরে আনন্দ যেমন উপলব্ধি করে, তেমনি ক্ষতের বেদনা অনুভব করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কারো কাছে আনন্দ, কারো কাছে প্রচ- ক্ষত। কিন্তু ইতিহাসের পদযাত্রা কি আনন্দ-বেদনার স্মৃতি গহ্বরে স্থবির থাকে? কখনো না। পথরেখা অঙ্কিত হয় কর্মফলে। ইতিহাস তাই বলে। আনন্দধারার ভবিষ্যৎ তারাই নির্ধারণ করবেন। ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলার জন্য প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক। রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভবত হাতুড়েপনার পদচারণা চলছে। তা না হলে ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতবিহীন প্রকৃতবিরোধী শক্তির কণ্ঠ কি একাদশ জাতীয় সংসদে শূন্য থাকবে? বিরোধীশক্তি শপথ নেবেন না বলে দেশবাসীকে জানিয়েছেন। 
স্বৈরাচার এরশাদ বা জাতীয়পার্টি তো আওয়ামী লীগের  নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নির্বাচিত বিজয়ী দল। তারা এখন ঘোষিত মহাজোটের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়িত  করবেন। তাই তারা বিরোধী কণ্ঠ হতেই পারেন না।
এমতাবস্থায় ‘সপ্তপদী’ যদি আকাশে দ্যুতি ছড়াতে চায়Ñ গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শক্তির প্রমাণ দিতে চায়, তবে ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্টে’র সাতজন সদস্যের শপথ গ্রহণ এবং সংসদে বিরোধী কণ্ঠের ধ্বনি তোলার বিকল্প নেই।
জাতির কাছে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাচ্ছেন’। 
সংসদের ভেতরে জনস্বার্থের কথা বলা আর গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ায় সংসদের বাইরের আন্দোলন কি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নাকি আন্দোলনের সহায়ক হবে? ‘ইমোশন’ দিয়েই কেবল রাজনীতি হয় না। ‘ ইমোশনের’ গতিপথ জনস্বার্থে কিনা তা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘নির্বাচন হয়েছে কিন্তু ভোট হয়নি’Ñ  তার কথা মতো তাই যদি হয়, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসদে কণ্ঠ যতোই ক্ষুদ্রই হোক ‘প্রকৃতবিরোধী শক্তির অবস্থান জরুরি। 
 লেখক : রাজনীতিবিদ