Skip to main content

আলেকজান্ডার-মাতাব্বর হাট-মতির হাট মেঘনা পাড়ে

Article Highlights

আকাশে রৌদ্রে ঝিলমিল করছিল। সমতল পানির ঢেউ, পানিতে রোদ্রের গড়াগড়ি। তখন বেলা দুপুর গনিয়ে বিকেল ৩.০০ টা। নদীর পাড় ঘেঁষে থাকা পাথরের ব্লক গুলো উঁচুতে দাঁড়িয়ে নিজে ছবি তুলতে ব্যস্ত। 

আকাশে রৌদ্রে ঝিলমিল করছিল। সমতল পানির ঢেউ, পানিতে রোদ্রের গড়াগড়ি। তখন বেলা দুপুর গনিয়ে বিকেল ৩.০০ টা। নদীর পাড় ঘেঁষে থাকা পাথরের ব্লক গুলো উঁচুতে দাঁড়িয়ে নিজে ছবি তুলতে ব্যস্ত। 

মেঘনার ভাঙন রোধে ব্লক গুলোর উপরে বসে নদীর দিকে তাকালে মনটা ফুরফুরে হয়ে ওঠে। চোখ যে দিকে যায় হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে।মনে হয় মনে মাধুরী মিশিয়ে নেমে যায় গভীর জলে।সাঁতার কাটি মনের হরশে। নদীতে মাছ ধরার জন্য পাড়ে চলছে নৌকা। মাছ শিকারে জেলেরা।

ছবি: আমজাদ হেসেন
ছবি: আমজাদ হেসেন

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে মেঘনা পাড়ের মনোরম দৃশ্যে অবলোকন নিয়ে গড়ে উঠা আলেকজান্ডার- মাতাব্বর হাট-মতির হাট মেঘনার পাড়।  

আলেকজান্ডার-মাতাব্বর হাট, মতির হাট মেঘনার পাড় নদী বাধের ব্লক গুলোতে বসে আপন মনে ভাবতে পারেন প্রিয় জনের কথা, দেখতে পারেন সূর্যাস্তের মত অপরুপ দৃশ্য। নদীর ঢেউয়ের গর্জনে শোনা যায় পানির শব্দ। নদী ভ্রমনে স্পিড বোর্ডে হারিয়ে যায় মন। খুব কাছ থেকে দেখা যায় সূর্য্যস্তের দৃশ্য। মনে হয় হাত ছুঁয়ে দেখি।  

এমন মনোরম দৃশ্যে উপভোগের করতে সকাল-বিকেল  লোকসমাগমে ব্যস্ত থাকে মেঘনার পাড়। হিমেল হাওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য  ঘেরা জায়গাটি খুঁজে বেড়ায় তার আপন ভুবণ। নদীর আশেপাশে গাছগাছালি ভরা বন। ঘাসের উপর বসে ক্লান্তি দেখা যায় দেখা-অদেখা মুহুর্ত।    

এখানে বিকেল হতেই ছুটে আসে  শত শত মানুষ। আনন্দে মেতে উঠে  উপভোগ করে ক্লান্তি ভরা মুহূর্ত। তবে স্থানীয় লোকজনের সংখ্যাই বেশি দেখাচ্ছে । এখানে লক্ষ্মীপুর জেলা থেকেও অনেক পর্যটক বেড়াতে আসে। এছাড়াও  ঈদে, পূজায়, পয়লা বৈশাখসহ বিভিন্ন সরকারি ছুটির সময় হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে। 

ছবি: আমজাদ হোসেন

নদীর মাঝখানে অবস্থিত চরে, বেড়াতে যাওয়া পর্যটকের ভিড়ে দিন পার হয়ে যায়। যেটাকে মাঝের চর নামে চেনা যায়। এখানে আকাঁবাকাঁ খালে পানিতে চলে নৌকো। দেখা যায়-মহিষ, গরু, ছাগলের হাট। সারি সারি ধানের মাঠ। কৃষানী ব্যস্ত মাঠের কাজে।

ঘুরতে আসা -দুলাল,আনোয়ার,হেলাল,শামীম জানান, জেনে শুনে এখানে ঘুরতে এসেছি। এটি অনেক সুন্দর। যা শুনেছি তার দেখেও বেশি সুন্দর। নদীর ঢেউ, ছোট ছোট নৌকা, রুপালী তাজা ইলিশ, জীবন্দ ইলিশ দেখে বেশি আনন্দ পেয়েছি।

দেখা যায়, মেঘনার উন্মত্ততা, সূর্যাস্ত, মাছ ধরা, নানা ধরনের নৌযান চলাচলের দৃশ্য। মেঘনার রুপালি ইলিশসহ নানা ধরনের তাজা মাছের বিশাল আড়ত। ঘুরতে আসা অধিকাংশ লোকজন যাওয়ার সময় মাছ ঘাট থেকে তাজা মাছ নিয়ে যায়। এখানে দক্ষিন অঞ্চলের ইলিশের রপ্তানির বাজার।  বড় বড় মাছ ঘাটে ভরপুর ইলিশ পাড়া। 

এখানে দেখা যায় বড় বড় পাথরের জাহাজ। জাহাজের চমৎকার দৃশ্য।শ্রমিকরা জাহাজে আনা পাথরের কাজে অতিরিক্ত জীবিকা অর্জন করে। এছাড়াও নদী কাজে ব্লক তৈরির কারখানায় স্থানীয় শ্রমিকে আয়ের উৎসব। ব্লক কারখানার দৃশ্যও চোখে পড়ার মত।  

মেঘনার প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য ফুটে উঠে সমুদ্রের উদাত্ত আহবানে নেচে বেড়াই পানির ঢেউ। ওই দুরে দেখা যায় জেলেদের ছোট ছোট নৌকার পাল। নদীর ফেনিলে জলে চলে মাঝিদের সংসার।  নদীর বুকে ক্ষনিকের আপন সংসার। সবার মনে ভয়ের মূর্ত রুপের জোয়ার।বার বার হুংকার দেয় মেঘনায় মেঘের গর্জন।আপন অস্তিত্বে জানিয়ে দেয় , এখন বর্ষা কাল।

বর্ষায় পথের প্যাচাঁলী কাদাঁয় ভরপুর। এভাবে চলে মেঘনার মধুর মিতালী দৃশ্য।   

রামগতি-কমলনগর উপজেলা একটি উপকূলীয় অঞ্চল।  দুটি উপজেলায় প্রায় ত্রিশ কিমিঃ পাড় ভাঙা। এর মধ্যে রামগতি চার, কমলনগর মাতাব্বর হাট এক, মতিরহাট দুই কিমিঃ বাধঁ দেওয়া হয়েছে। এ টুকু বাধেঁর কারণে নদীর পাড়ের সুন্দর্য্য এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, মনে হয় এটি পর্যটক এলাকা। এ অঞ্চলের দাবী খুব শীর্ঘ্রই নদী শাসন করে এটিকে পর্যটক এরিয়া গড়ে তোলা হয়। এ অঞ্চল পর্যটক হলে এটি হবে লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রেষ্ঠ সুদর্শন এলাকা।