Skip to main content

অবিবেচনা প্রসুত আমদানীতে লোকসানে দেশের গাজর চাষী 

বাড়তি ফলনের মাঝে অবিবেচনা প্রসুত আমদানীতে দেশের গাজরচাষীরা এবার লোকসান গুণতে বাধ্য হচ্ছেন। গাজর জাহিদ বলে খ্যাত দেশের সফল গাজর চাষী পাবনার মো. জাহিদুল ইসলাম বললেন, গাজরের দাম নেই, কেজি ১০/১২ টাকাও বিক্রি করা যাচ্ছে না। আবাহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবার দেশে আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদনের মাঝে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী করা হয়েছে হাজার হাজার মেট্রিক টন গাজর। লাভতো দূরের কথা খরচও উঠবে না, বরং লোকসান গুণতে হচ্ছে। গত বছর মণপ্রতি যে গাজর ১৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবার তা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকার বেশি দিয়ে কেউ কিনছে না। ১৩,৮০০ থেকে ১৪,০০০ টাকা কেজি দরের জাপানী বীজ কিনে বিঘাপ্রতি জমিতে গাজর ফলাতে লাগে অন্তত ৪০ হাজার টাকা। অথচ ৩০ বছর আগে যখন এই ফসল চাষ শুরু করি তখন ১ কেজি জাপানী হাইব্রিড গাজরের বীজ কিনতাম ২৮০০ টাকায়। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজও গাজরের বীজ উৎপাদন হয় না। এদেশের চাষে ব্যবহৃত পুরো বীজই আসে জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। ৩০ বছরের অভিজ্ঞ ও সফল এই চাষী আক্ষেপ করে বলেন, অনেকগুণের এই গাজর নানাভাবে খাওয়া গেলেও এদেশে শুধুমাত্র কাঁচা ও কিছুকিছু ক্ষেত্রে রান্না করে ছাড়া অন্যকোনোভাবে ব্যবহৃত হয় না। মানসম্মত হিমাগারে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গেই গাজর বিক্রি করতে বাধ্য হয় দেশের গাজর চাষীরা। হিমাগার নেই বললে ভুল হবেনা। ঢাকার ফতুল্লা ও সাভারে যে গোটা চারেক হিমাগার আছে তাতে ১ থেকে ৬ মাসের বেশী গাজর রাখা যায় না। বছর তিনেক আগে গাজর রপ্তানী হলেও এখন তা বন্ধ। বাংলাদেশের মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদিতে সবচেয়ে বেশি এবং তার পরেই ঢাকার সাভারে গাজর উৎপাদন হয়ে থাকে জানালেন এই কৃষক। 

উন্নত মানের প্রয়েজনীয় সংখ্যাক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অভাবের কথা তুলে ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাবনার উপরিচালক কৃষিবিদ মো. আজহার আলী বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে বহুবার বলা হয়েছে কিন্তু আজও কোনো সুরাহা হয়নি। নীতির দূর্বলতায় দেশে প্রচুর গাজর উৎপাদন হওয়ার পরেও বিদেশ থেকে অবিবেচনা প্রসুতভাবে গাজর আমদানী করা হচ্ছে।  গতবছর অর্থাৎ ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে পাবনা অঞ্চলে ৫৩৩ হেক্টর জমিতে ১৪,৭৬৫ মেট্রিক টন গাজর উৎপাদন হয়েছিল। এবছর এ যাবত এখানে গাজর চাষ হয়েছে ৬৫২ হেক্টর জমিতে। তাই গাজর উপাদনও হবে বেশি। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং এর উপপরিচালক ( কন্দাল, সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল) কৃষিবিদ আখতারুজ্জামান বলেন গত অর্থবছরে(২০১৭-২০১৮) দেশের ১২৫৬ হেক্টর জমিতে ২০,৫৩৯ মেট্রিক টন গাজর উৎপাদন হয়েছিল। 
অধিদপ্তরের উদ্ভিদসংগ নিরোধ উইং সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ৪১৯৭ মেট্রিক টন এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৩৮৯৪.৫৪ মেট্রিক টন গাজর আমদানী করা হয়। এ বিষয়ে এই উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ নূরুল আলম বলেন, ফল নয় সবজি হিসেবে ভারত ও চীন থেকে গাজর আমদানী হয়ে থাকে। সাধারণত অফ সিজেনে এসব গাজর আমদানী হয়।